ঢাকা ০১:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষানবিশে নতুন সুযোগ, আয় ও দক্ষতা বাড়বে ৬ মাসেই

গ্র্যাজুয়েটদের বাস্তব কর্মঅভিজ্ঞতা অর্জনে শিক্ষানবিশ কার্যকর হতে পারে। ছবি: সংগৃহীত।

শিক্ষানবিশ এখন পড়াশোনা শেষে তরুণদের জন্য ক্যারিয়ার শুরুর একটি কার্যকর পথ হয়ে উঠছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি থাকলেও বাস্তব কর্মঅভিজ্ঞতার ঘাটতির কারণে চাকরির বাজারে অনেক গ্র্যাজুয়েটকে সমস্যায় পড়তে হয়। শিক্ষানবিশ ব্যবস্থায় সেই সংকট কিছুটা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়। কারণ এখানে একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানে কাজ শেখা, অভিজ্ঞদের কাছ থেকে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নেওয়া এবং নির্দিষ্ট হারে ভাতা পাওয়ার সুযোগ থাকে। ফলে চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি ক্যারিয়ারের শুরুতেই আয়ের পথ তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশে সাধারণত স্নাতক বা সমমানের পড়াশোনা শেষ করার পর তরুণেরা এই ধরনের সুযোগ খুঁজে থাকেন। সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে আইটি ও সফটওয়্যার, ব্যাংকিং, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস, তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, ই-কমার্স, ডিজিটাল বিপণন এবং ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে শিক্ষানবিশের সুযোগ দেখা যায়। এই ব্যবস্থায় একজন তরুণ প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞ কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করেন। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী ট্রেনিং ইনস্টিটিউট বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের তাত্ত্বিক জ্ঞানও অর্জন করেন। এতে শিক্ষাগত জ্ঞান ও বাস্তব কাজের মধ্যে দূরত্ব কমে।

শিক্ষানবিশ চলাকালে প্রতিষ্ঠানভেদে ভাতা বা স্টাইপেন্ড দেওয়া হয়। জাতীয় পর্যায়ে এ ভাতার জন্য একটি নির্দিষ্ট অভিন্ন স্কেল নেই বলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অর্থের পরিমাণ আলাদা হতে পারে। প্রতিবেদনে দেওয়া বাজারভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, স্নাতক শেষ করে নতুন সংস্থায় শিক্ষানবিশ হিসেবে যোগ দিলে মাসে প্রায় ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাতা পাওয়া যেতে পারে। তবে প্রযুক্তি ও বিশেষায়িত খাতে দক্ষতা থাকলে প্রাথমিক ভাতা ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাই শিক্ষার্থীর যোগ্যতা, প্রতিষ্ঠান ও কাজের ধরন অনুযায়ী পারিশ্রমিকে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকতে পারে।

সাধারণত ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত শিক্ষানবিশের মেয়াদ দেখা যায়। এই সময়ে কাজের দক্ষতা, দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা ও কর্মক্ষেত্রে পারফরম্যান্স বিবেচনা করে অনেক প্রতিষ্ঠান স্থায়ী চাকরির সুযোগ দিতে পারে। সফলভাবে শিক্ষানবিশ শেষ করার পর কোনো কোনো ক্ষেত্রে মাসিক বেতন ২৫ হাজার থেকে ৪৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। বিশেষ করে আইটি, সফটওয়্যার ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে দক্ষ প্রার্থীদের জন্য তুলনামূলক ভালো সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এসব বেতন ও চাকরির সুযোগ নিশ্চিত নয়; প্রতিষ্ঠান ও পদের ভিত্তিতে তা পরিবর্তিত হয়।

শিক্ষানবিশের সুযোগ শুধু স্নাতকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ডিপ্লোমাধারী বা স্নাতকের শেষ বর্ষে থাকা শিক্ষার্থীরা জুনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট, টেকনিশিয়ানসহ বিভিন্ন প্রাথমিক পর্যায়ের কাজে যুক্ত হতে পারেন। স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রিধারীদের জন্য রয়েছে গ্র্যাজুয়েট অ্যাপ্রেন্টিসশিপ, যা অনেক ক্ষেত্রে করপোরেট এক্সিকিউটিভ বা ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি পর্যায়ের চাকরির প্রস্তুতি হিসেবে কাজ করে। আবার স্নাতকোত্তর বা পেশাগত ডিগ্রিধারীদের জন্য ইঞ্জিনিয়ারিং, ডেটা সায়েন্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, হিসাববিজ্ঞান ও আইনসহ বিশেষায়িত ক্ষেত্রে উচ্চতর শিক্ষানবিশের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

চাকরির বাজারে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বাস্তব দক্ষতার মধ্যে ব্যবধান থাকায় শিক্ষানবিশ ব্যবস্থার গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। সরকার ও বেসরকারি খাত কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং ন্যাশনাল স্কিলস ডেভেলপমেন্ট অথরিটির উদ্যোগের মাধ্যমে শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এর ফলে তরুণেরা শুধু সনদ অর্জনের ওপর নির্ভর না করে কর্মক্ষেত্রের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন। পড়াশোনা শেষ করে দীর্ঘ সময় চাকরির অপেক্ষায় থাকার পরিবর্তে শিক্ষানবিশের মাধ্যমে অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও আয়—তিনটিই একসঙ্গে অর্জনের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষানবিশে নতুন সুযোগ, আয় ও দক্ষতা বাড়বে ৬ মাসেই

Update Time : ১১:৫০:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শিক্ষানবিশ এখন পড়াশোনা শেষে তরুণদের জন্য ক্যারিয়ার শুরুর একটি কার্যকর পথ হয়ে উঠছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি থাকলেও বাস্তব কর্মঅভিজ্ঞতার ঘাটতির কারণে চাকরির বাজারে অনেক গ্র্যাজুয়েটকে সমস্যায় পড়তে হয়। শিক্ষানবিশ ব্যবস্থায় সেই সংকট কিছুটা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়। কারণ এখানে একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানে কাজ শেখা, অভিজ্ঞদের কাছ থেকে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নেওয়া এবং নির্দিষ্ট হারে ভাতা পাওয়ার সুযোগ থাকে। ফলে চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি ক্যারিয়ারের শুরুতেই আয়ের পথ তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশে সাধারণত স্নাতক বা সমমানের পড়াশোনা শেষ করার পর তরুণেরা এই ধরনের সুযোগ খুঁজে থাকেন। সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে আইটি ও সফটওয়্যার, ব্যাংকিং, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস, তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, ই-কমার্স, ডিজিটাল বিপণন এবং ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে শিক্ষানবিশের সুযোগ দেখা যায়। এই ব্যবস্থায় একজন তরুণ প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞ কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করেন। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী ট্রেনিং ইনস্টিটিউট বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের তাত্ত্বিক জ্ঞানও অর্জন করেন। এতে শিক্ষাগত জ্ঞান ও বাস্তব কাজের মধ্যে দূরত্ব কমে।

আরও পড়ুন  কার্যকর উপায়: অফিসের কাজ দ্রুত করার সহজ কৌশল

শিক্ষানবিশ চলাকালে প্রতিষ্ঠানভেদে ভাতা বা স্টাইপেন্ড দেওয়া হয়। জাতীয় পর্যায়ে এ ভাতার জন্য একটি নির্দিষ্ট অভিন্ন স্কেল নেই বলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অর্থের পরিমাণ আলাদা হতে পারে। প্রতিবেদনে দেওয়া বাজারভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, স্নাতক শেষ করে নতুন সংস্থায় শিক্ষানবিশ হিসেবে যোগ দিলে মাসে প্রায় ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাতা পাওয়া যেতে পারে। তবে প্রযুক্তি ও বিশেষায়িত খাতে দক্ষতা থাকলে প্রাথমিক ভাতা ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাই শিক্ষার্থীর যোগ্যতা, প্রতিষ্ঠান ও কাজের ধরন অনুযায়ী পারিশ্রমিকে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকতে পারে।

আরও পড়ুন  বুয়েটসহ ১১ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ

সাধারণত ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত শিক্ষানবিশের মেয়াদ দেখা যায়। এই সময়ে কাজের দক্ষতা, দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা ও কর্মক্ষেত্রে পারফরম্যান্স বিবেচনা করে অনেক প্রতিষ্ঠান স্থায়ী চাকরির সুযোগ দিতে পারে। সফলভাবে শিক্ষানবিশ শেষ করার পর কোনো কোনো ক্ষেত্রে মাসিক বেতন ২৫ হাজার থেকে ৪৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। বিশেষ করে আইটি, সফটওয়্যার ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে দক্ষ প্রার্থীদের জন্য তুলনামূলক ভালো সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এসব বেতন ও চাকরির সুযোগ নিশ্চিত নয়; প্রতিষ্ঠান ও পদের ভিত্তিতে তা পরিবর্তিত হয়।

শিক্ষানবিশের সুযোগ শুধু স্নাতকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ডিপ্লোমাধারী বা স্নাতকের শেষ বর্ষে থাকা শিক্ষার্থীরা জুনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট, টেকনিশিয়ানসহ বিভিন্ন প্রাথমিক পর্যায়ের কাজে যুক্ত হতে পারেন। স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রিধারীদের জন্য রয়েছে গ্র্যাজুয়েট অ্যাপ্রেন্টিসশিপ, যা অনেক ক্ষেত্রে করপোরেট এক্সিকিউটিভ বা ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি পর্যায়ের চাকরির প্রস্তুতি হিসেবে কাজ করে। আবার স্নাতকোত্তর বা পেশাগত ডিগ্রিধারীদের জন্য ইঞ্জিনিয়ারিং, ডেটা সায়েন্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, হিসাববিজ্ঞান ও আইনসহ বিশেষায়িত ক্ষেত্রে উচ্চতর শিক্ষানবিশের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

আরও পড়ুন  অর্থমন্ত্রী: অর্থনীতিতে প্রতিটি নাগরিকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য

চাকরির বাজারে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বাস্তব দক্ষতার মধ্যে ব্যবধান থাকায় শিক্ষানবিশ ব্যবস্থার গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। সরকার ও বেসরকারি খাত কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং ন্যাশনাল স্কিলস ডেভেলপমেন্ট অথরিটির উদ্যোগের মাধ্যমে শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এর ফলে তরুণেরা শুধু সনদ অর্জনের ওপর নির্ভর না করে কর্মক্ষেত্রের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন। পড়াশোনা শেষ করে দীর্ঘ সময় চাকরির অপেক্ষায় থাকার পরিবর্তে শিক্ষানবিশের মাধ্যমে অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও আয়—তিনটিই একসঙ্গে অর্জনের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।