প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন উদ্যোগ ও গ্রাহকবান্ধব ব্যবস্থায় সাতক্ষীরা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সেবাপদ্ধতিতে এসেছে পরিবর্তন। সরকারি ফি জমা, আবেদন গ্রহণ থেকে শুরু করে পাসপোর্ট বিতরণ—সব ক্ষেত্রেই শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে আগের তুলনায় কমেছে ভোগান্তি।
পাসপোর্টের ফি জমার ক্ষেত্রে চালু রয়েছে ই-চালান ও অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে সেবাগ্রহীতারা সরাসরি সরকারি কোষাগারে নির্ধারিত ফি জমা দিতে পারছেন। এতে দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর ওপর নির্ভরতার প্রয়োজন কমেছে এবং লেনদেনের স্বচ্ছতাও নিশ্চিত হচ্ছে।
অফিসে সেবাগ্রহীতাদের ভিড় সামলাতে ব্যবহার করা হচ্ছে ই-কিউ টোকেন ব্যবস্থা। এতে আবেদনকারীরা নির্দিষ্ট ক্রম অনুযায়ী সেবা নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। প্রবীণ নাগরিক, শিশু, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য রয়েছে বিশেষ অগ্রাধিকার ও আলাদা কাউন্টার।
অফিসের সার্বিক কার্যক্রম সিসিটিভির আওতায় থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজেও নজরদারি করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলার কারণে সেবার পরিবেশ আগের তুলনায় অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ হয়েছে।
সেবাগ্রহীতাদের একজন জানান, দালালের সহায়তা ছাড়াই সরকারি নির্ধারিত ফি দিয়ে তিনি নিজের পাসপোর্টের কাজ সম্পন্ন করেছেন। ই-কিউ টোকেন ও কর্মকর্তাদের সহযোগিতার কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করতে পেরেছেন বলেও জানান তিনি।
সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, গত এক বছরে সাতক্ষীরা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে প্রায় ১৪ হাজার পাসপোর্টের আবেদন জমা পড়েছে। একই সময়ে প্রায় সমপরিমাণ প্রস্তুত পাসপোর্ট সেবাগ্রহীতাদের কাছে বিতরণ করা হয়েছে। অর্থাৎ আবেদন গ্রহণ ও বিতরণের কার্যক্রম নিয়মিতভাবেই চলছে।
তবে বর্তমানে নতুন পাসপোর্ট আবেদনের হার কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। এর অন্যতম কারণ হিসেবে ভারতীয় ভিসা পাওয়ার জটিলতা এবং সাতক্ষীরা বা খুলনা অঞ্চলে নির্দিষ্ট ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষ করে শ্যামনগর, আশাশুনি ও দেবহাটার নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের একটি বড় অংশ চিকিৎসার জন্য ভারতে যাতায়াত করেন। কিন্তু ভারতীয় ভিসার আবেদনের জন্য ঢাকায় যেতে হওয়ায় তাদের অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে। ফলে অনেকেই পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হলেও নতুন করে আবেদন বা নবায়ন করছেন না।
সাতক্ষীরা পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক আশিষ কুমার দাস বলেন, সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা তাদের প্রধান লক্ষ্য। ই-চালানের মাধ্যমে ফি জমার ফলে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বেড়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও জনবলের সমন্বয়ে নাগরিকদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।


























