কর্মজীবন ও সংসার দুটোই সামলে চলার পেছনে স্বামী শিলাদিত্য মুখোপাধ্যায়ের সহযোগিতাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন সংগীতশিল্পী শ্রেয়া ঘোষাল। এক সাক্ষাৎকারে স্বামীর প্রশংসা করে তিনি জানান, শিলাদিত্য ঘরের অনেক কাজ নিজেই সামলান এবং ক্যারিয়ারের কারণে তাকে কখনো বাড়িতে থাকার জন্য চাপ দেন না।
‘দ্য মেল ফেমিনিস্ট পডকাস্ট’-এ নিজের দাম্পত্য জীবন নিয়ে কথা বলেন শ্রেয়া। সেখানে তিনি জানান, স্বামীর সঙ্গে ঘরের দায়িত্ব ভাগাভাগি করেই চলেন তারা। দুজনের পেশাগত ব্যস্ততা থাকলেও একে অপরের কাজ ও সময়কে সম্মান করেন।
শ্রেয়া বলেন, শিলাদিত্য নিজের অনেক কাজ নিজেই করতে পছন্দ করেন। বাসন পরিষ্কার করা থেকে শুরু করে রান্নাঘর গুছিয়ে রাখার কাজও তিনি করে থাকেন। এমনকি শ্রেয়া এসব কাজ করতে গেলে স্বামী বরং মন খারাপ করেন বলেও জানান এই গায়িকা।
দুজনের ব্যস্ত জীবন নিয়ে শ্রেয়া জানান, কখনো কখনো কাজের কারণে তাকে টানা কয়েক মাস বাড়ির বাইরে থাকতে হয়। তবে এ নিয়ে শিলাদিত্য কখনো অভিযোগ করেননি। বরং দুজনের মধ্যকার পারস্পরিক বিশ্বাস ও বোঝাপড়াই তাদের সম্পর্ককে শক্তিশালী করেছে বলে মনে করেন তিনি।
শ্রেয়ার ভাষায়, তাদের দুজনেরই কাজের চাপ রয়েছে। তাই সংসারের দায়িত্বও তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন। একে অপরকে সবসময় বাড়িতে থাকার বিষয়ে কোনও ধরনের চাপ না দেওয়ায় তাদের দাম্পত্য জীবন অনেকটা স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।
স্বামীর সঙ্গে নিজের সম্পর্কের বিষয়ে শ্রেয়া আরও জানান, তাদের সংসারে অহংকারের জায়গা নেই। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তারা আলোচনা করেই ঠিক করেন। বর্তমানে সন্তানই তাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে বলে জানান তিনি।
স্কুলজীবন থেকেই শ্রেয়া ও শিলাদিত্যের পরিচয়। শ্রেয়া তখনও বড় তারকা হয়ে ওঠেননি। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব পরবর্তী সময়ে ভালোবাসায় রূপ নেয় এবং প্রায় এক দশক সম্পর্কের পর ২০১৫ সালে বিয়ে করেন তারা।
শ্রেয়ার সংগীত ক্যারিয়ার যখন দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন শিলাদিত্য প্রযুক্তি খাতে নিজের পেশাগত অবস্থান তৈরি করছিলেন। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর বিয়ের মাধ্যমে নতুন অধ্যায় শুরু করেন এই দম্পতি।
২০২১ সালে শ্রেয়া ও শিলাদিত্যের সংসারে আসে তাদের প্রথম সন্তান দেবযান। সন্তান জন্মের পরও সংগীতের পাশাপাশি পারিবারিক জীবন সামলাচ্ছেন শ্রেয়া। আর এই পথচলায় স্বামীর সহযোগিতা তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।




























