ঢাকা ১০:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাঁঠালের দাম: মৌসুম শেষে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৮:১৪:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৮

শ্রীপুরের বরমী বাজারে মৌসুমের শেষে বেড়েছে কাঁঠালের দাম। ছবি: সংগৃহীত

কাঁঠালের দাম মৌসুমের শেষ দিকে এসে হঠাৎ বেড়ে গেছে। গাজীপুরের শ্রীপুরের বিভিন্ন বাজারে এখন আর আগের মতো কাঁঠালের স্তূপ দেখা যাচ্ছে না। বরমী বাজারে বড় আকারের একটি কাঁঠালের দাম সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা পর্যন্ত হাঁকা হচ্ছে। আকার ও মানভেদে অন্যান্য কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৮০০ টাকায়।

শ্রীপুরের বরমী বাজারে বুধবার দুপুরে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যবসায়ী অল্পসংখ্যক কাঁঠাল নিয়ে বসেছেন। কোনোটি ছোট, কোনোটি মাঝারি আবার কোনোটি বেশ বড়। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, মৌসুম শেষ হওয়ায় এখন গ্রাম থেকে কাঁঠাল সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে দাম।

পাইকার বিল্লাল হোসেন জানান, তিনি সাপ্তাহিক হাটে আটটি কাঁঠাল নিয়ে এসেছেন। আকারভেদে সেগুলোর দাম ২০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত। তাঁর দাবি, মৌসুমের সময় যেসব কাঁঠাল খুব কম দামে পাওয়া যায়, শেষ সময়ে সেগুলোই সংগ্রহ করতে বেশি টাকা খরচ হয়। শেষ দিকে গাছে থাকা কাঁঠালের স্বাদও ভালো হওয়ায় ক্রেতাদের আগ্রহ রয়েছে।

পেশাদার কাঁঠাল ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলীও একই ধরনের তথ্য দিয়েছেন। তাঁর কাছে থাকা প্রায় ১৫টি কাঁঠালের দাম ২০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত। গ্রামে গ্রামে ঘুরে তিনি এসব ফল সংগ্রহ করেছেন। বড় একটি কাঁঠালের দাম ১ হাজার টাকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শেষ মৌসুমের কাঁঠালের কোষ বড়, স্বাদ মিষ্টি এবং ঘ্রাণও ভালো।

মৌসুমে মে থেকে জুলাই পর্যন্ত শ্রীপুরের গ্রামাঞ্চলের বাজারে অল্প দামেও কাঁঠাল পাওয়া যায়। তখন প্রচুর সরবরাহ থাকায় ক্রেতারা সহজেই পছন্দের কাঁঠাল কিনতে পারেন। কিন্তু সেপ্টেম্বরের শুরুতে এসে সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় ভালো মানের কাঁঠাল এখন তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

ফল ব্যবসায়ী ইসলাম উদ্দিন বলেন, সব জাতের কাঁঠাল একই সময়ে ধরে না। কোনো কোনো জাত মৌসুমের শুরুতে ফল দেয়, আবার কিছু জাতের গাছে মৌসুমের শেষ দিকে কাঁঠাল পাওয়া যায়। তাই শেষ সময়ে সরবরাহ কমে গেলে দাম বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক। তাঁর মতে, কৃষকেরা জাত নির্বাচন করে কাঁঠালগাছ লাগাতে পারলে বছরের বিভিন্ন সময়ে ফল বিক্রির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

জৈনাবাজার এলাকার পাইকার সাইফুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে স্থানীয় বাজারে কাঁঠালের সরবরাহ খুবই কম। কোথাও দু-একটি কাঁঠাল পাওয়া গেলেও শৌখিন ক্রেতারা বেশি দাম দিয়েই সেগুলো কিনছেন। শেষ মৌসুমের কাঁঠাল ঢাকার নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় পাঠানো হচ্ছে। সেখানে এ ধরনের ফলের আলাদা চাহিদা থাকায় ব্যবসায়ীরাও ভালো দাম পাচ্ছেন।

শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বন্যা জানান, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট কিছু আগাম জাতের কাঁঠাল উদ্ভাবন করেছে। এসব জাতের মধ্যে ১২ মাসি কাঁঠালও রয়েছে। উপযুক্ত জাত নির্বাচন করে চারা রোপণ করতে পারলে কৃষকেরা মৌসুমের বাইরেও ফলন পাওয়ার সুযোগ পাবেন এবং ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, শ্রীপুরে চলতি বছর কাঁঠাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬০ মেট্রিক টন। গত বছরও প্রায় একই লক্ষ্যমাত্রা ছিল এবং তা অর্জিত হয়েছিল। তবে মৌসুম শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় এখন কাঁঠাল নিয়ে তৈরি হয়েছে ভিন্ন চিত্র।

ফলে মৌসুমের শেষ সময়ে শ্রীপুরের বাজারে কাঁঠালের দাম বেড়ে যাওয়া ক্রেতাদের জন্য কিছুটা বিস্ময়ের হলেও ব্যবসায়ীদের কাছে এটি স্বাভাবিক। সরবরাহ কম, সংগ্রহে বাড়তি খরচ এবং শেষ মৌসুমের ফলের বিশেষ চাহিদা—এই তিন কারণেই এখন বড় কাঁঠালের দাম উঠছে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত।

জনপ্রিয় সংবাদ

কাঁঠালের দাম: মৌসুম শেষে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা

Update Time : ০৮:১৪:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কাঁঠালের দাম মৌসুমের শেষ দিকে এসে হঠাৎ বেড়ে গেছে। গাজীপুরের শ্রীপুরের বিভিন্ন বাজারে এখন আর আগের মতো কাঁঠালের স্তূপ দেখা যাচ্ছে না। বরমী বাজারে বড় আকারের একটি কাঁঠালের দাম সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা পর্যন্ত হাঁকা হচ্ছে। আকার ও মানভেদে অন্যান্য কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৮০০ টাকায়।

শ্রীপুরের বরমী বাজারে বুধবার দুপুরে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যবসায়ী অল্পসংখ্যক কাঁঠাল নিয়ে বসেছেন। কোনোটি ছোট, কোনোটি মাঝারি আবার কোনোটি বেশ বড়। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, মৌসুম শেষ হওয়ায় এখন গ্রাম থেকে কাঁঠাল সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে দাম।

পাইকার বিল্লাল হোসেন জানান, তিনি সাপ্তাহিক হাটে আটটি কাঁঠাল নিয়ে এসেছেন। আকারভেদে সেগুলোর দাম ২০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত। তাঁর দাবি, মৌসুমের সময় যেসব কাঁঠাল খুব কম দামে পাওয়া যায়, শেষ সময়ে সেগুলোই সংগ্রহ করতে বেশি টাকা খরচ হয়। শেষ দিকে গাছে থাকা কাঁঠালের স্বাদও ভালো হওয়ায় ক্রেতাদের আগ্রহ রয়েছে।

আরও পড়ুন  কালো ইলিশ: বশীর আল্‌হেলালের শক্তিশালী কালজয়ী উপন্যাস

পেশাদার কাঁঠাল ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলীও একই ধরনের তথ্য দিয়েছেন। তাঁর কাছে থাকা প্রায় ১৫টি কাঁঠালের দাম ২০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত। গ্রামে গ্রামে ঘুরে তিনি এসব ফল সংগ্রহ করেছেন। বড় একটি কাঁঠালের দাম ১ হাজার টাকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শেষ মৌসুমের কাঁঠালের কোষ বড়, স্বাদ মিষ্টি এবং ঘ্রাণও ভালো।

মৌসুমে মে থেকে জুলাই পর্যন্ত শ্রীপুরের গ্রামাঞ্চলের বাজারে অল্প দামেও কাঁঠাল পাওয়া যায়। তখন প্রচুর সরবরাহ থাকায় ক্রেতারা সহজেই পছন্দের কাঁঠাল কিনতে পারেন। কিন্তু সেপ্টেম্বরের শুরুতে এসে সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় ভালো মানের কাঁঠাল এখন তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

আরও পড়ুন  ভাটারা সড়ক দুর্ঘটনা: ৩২ বছরের সাজ্জাদের মর্মান্তিক মৃত্যু

ফল ব্যবসায়ী ইসলাম উদ্দিন বলেন, সব জাতের কাঁঠাল একই সময়ে ধরে না। কোনো কোনো জাত মৌসুমের শুরুতে ফল দেয়, আবার কিছু জাতের গাছে মৌসুমের শেষ দিকে কাঁঠাল পাওয়া যায়। তাই শেষ সময়ে সরবরাহ কমে গেলে দাম বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক। তাঁর মতে, কৃষকেরা জাত নির্বাচন করে কাঁঠালগাছ লাগাতে পারলে বছরের বিভিন্ন সময়ে ফল বিক্রির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

জৈনাবাজার এলাকার পাইকার সাইফুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে স্থানীয় বাজারে কাঁঠালের সরবরাহ খুবই কম। কোথাও দু-একটি কাঁঠাল পাওয়া গেলেও শৌখিন ক্রেতারা বেশি দাম দিয়েই সেগুলো কিনছেন। শেষ মৌসুমের কাঁঠাল ঢাকার নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় পাঠানো হচ্ছে। সেখানে এ ধরনের ফলের আলাদা চাহিদা থাকায় ব্যবসায়ীরাও ভালো দাম পাচ্ছেন।

শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বন্যা জানান, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট কিছু আগাম জাতের কাঁঠাল উদ্ভাবন করেছে। এসব জাতের মধ্যে ১২ মাসি কাঁঠালও রয়েছে। উপযুক্ত জাত নির্বাচন করে চারা রোপণ করতে পারলে কৃষকেরা মৌসুমের বাইরেও ফলন পাওয়ার সুযোগ পাবেন এবং ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

আরও পড়ুন  রূপগঞ্জে পুকুরে নামার পর দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, শ্রীপুরে চলতি বছর কাঁঠাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬০ মেট্রিক টন। গত বছরও প্রায় একই লক্ষ্যমাত্রা ছিল এবং তা অর্জিত হয়েছিল। তবে মৌসুম শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় এখন কাঁঠাল নিয়ে তৈরি হয়েছে ভিন্ন চিত্র।

ফলে মৌসুমের শেষ সময়ে শ্রীপুরের বাজারে কাঁঠালের দাম বেড়ে যাওয়া ক্রেতাদের জন্য কিছুটা বিস্ময়ের হলেও ব্যবসায়ীদের কাছে এটি স্বাভাবিক। সরবরাহ কম, সংগ্রহে বাড়তি খরচ এবং শেষ মৌসুমের ফলের বিশেষ চাহিদা—এই তিন কারণেই এখন বড় কাঁঠালের দাম উঠছে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত।