ঢাকা ০১:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হতাশা কাটানোর শক্তিশালী আমল

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:২৯:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫১৩

কঠিন সময়ে আল্লাহর রহমতের ওপর ভরসা রাখা মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ গুণ। | ছবি: সংগৃহীত

আল্লাহর প্রতি সুধারণা একজন মুমিনের জীবনে আশার বড় উৎস হতে পারে। জীবনে ব্যর্থতা, কষ্ট কিংবা পাপের কারণে অনেক সময় মানুষের মনে আসে—আল্লাহ হয়তো আর ক্ষমা করবেন না, কিংবা তার জীবনে ভালো কিছু ঘটবে না। কিন্তু ইসলামের শিক্ষা হলো, কঠিন পরিস্থিতিতেও আল্লাহর রহমত ও প্রজ্ঞার ওপর বিশ্বাস রাখা এবং তাঁর কাছ থেকে কল্যাণের আশা করা।

হাদিসে কুদসিতে মহান আল্লাহ বলেন, বান্দা তাঁর সম্পর্কে যেমন ধারণা পোষণ করে, তিনি তার সঙ্গে তেমনই আচরণ করেন। একই হাদিসে আল্লাহকে স্মরণ করার কথাও এসেছে। অর্থাৎ একজন মানুষ যখন বিপদের মধ্যেও রবের রহমতের ব্যাপারে আশাবাদী থাকে, তখন তার হৃদয়ে ভরসা ও প্রশান্তি তৈরি হয়। এই বিশ্বাস তাকে হতাশার পরিবর্তে আল্লাহর দিকে ফিরে যেতে উৎসাহিত করে।

ব্যর্থতা এলেই সবকিছু শেষ হয়ে গেছে—ইসলাম এমন চিন্তা শেখায় না। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনেও বারবার কঠিন পরিস্থিতি এসেছিল। মক্কার কঠিন সময়ে তিনি বিভিন্ন গোত্রের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দিয়েছিলেন। প্রত্যাখ্যান ও কষ্টের পরও তিনি চেষ্টা থামাননি। পরবর্তীতে মদিনার মানুষের মাধ্যমে ইসলামের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। তাই চাকরি না পাওয়া, ব্যবসায় ক্ষতি কিংবা কোনো সম্পর্ক ভেঙে যাওয়াকে জীবনের শেষ পরিণতি মনে করা উচিত নয়।

আল্লাহর প্রতি সুধারণা রাখার অর্থ এই নয় যে মানুষ কোনো চেষ্টা করবে না কিংবা ভুল কাজ করে শুধু ক্ষমার আশা করবে। বরং প্রকৃত সুধারণা মানুষকে ভালো কাজ ও তওবার দিকে নিয়ে যায়। কেউ পাপ করে ফেললে শয়তান তাকে বোঝাতে পারে যে তার আর ক্ষমা পাওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু ইসলামে তওবার দরজা খোলা রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আদম সন্তানের সবাই ভুল করে, আর ভুলকারীদের মধ্যে উত্তম তারা যারা তওবা করে ফিরে আসে।

আল্লাহর রহমতের ব্যাপারে আশাবাদী থাকা একই সঙ্গে মানুষকে নিজের কাজ সংশোধনের শক্তি দেয়। তাবেয়ি হাসান বসরি (রহ.)-এর শিক্ষার সারকথা হলো, প্রকৃত মুমিন আল্লাহর প্রতি ভালো ধারণা রাখে এবং সেই বিশ্বাস তাকে নেক আমলের দিকে এগিয়ে নেয়। তাই শুধু মুখে আল্লাহর ওপর ভরসার কথা বললেই হবে না; সেই ভরসার প্রমাণ দিতে হবে সৎকাজ, তওবা, ধৈর্য ও সঠিক চেষ্টা দিয়ে।

জীবনে যত কঠিন সময়ই আসুক, হতাশ হয়ে আল্লাহর রহমত থেকে দূরে সরে যাওয়া উচিত নয়। কষ্ট কখনো মানুষকে নিজের ভুল বুঝতে শেখায়, কখনো ধৈর্য বাড়ায়, আবার কখনো তাকে আল্লাহর আরও কাছে নিয়ে আসে। তাই বিপদের সময় নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা করার পাশাপাশি আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা জরুরি। আল্লাহর প্রতি সুধারণা হৃদয়ে রেখে তওবা, দোয়া ও সৎকাজে অবিচল থাকলে হতাশার অন্ধকার কাটিয়ে নতুন আশার পথে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।

জনপ্রিয় সংবাদ

হতাশা কাটানোর শক্তিশালী আমল

Update Time : ১১:২৯:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আল্লাহর প্রতি সুধারণা একজন মুমিনের জীবনে আশার বড় উৎস হতে পারে। জীবনে ব্যর্থতা, কষ্ট কিংবা পাপের কারণে অনেক সময় মানুষের মনে আসে—আল্লাহ হয়তো আর ক্ষমা করবেন না, কিংবা তার জীবনে ভালো কিছু ঘটবে না। কিন্তু ইসলামের শিক্ষা হলো, কঠিন পরিস্থিতিতেও আল্লাহর রহমত ও প্রজ্ঞার ওপর বিশ্বাস রাখা এবং তাঁর কাছ থেকে কল্যাণের আশা করা।

হাদিসে কুদসিতে মহান আল্লাহ বলেন, বান্দা তাঁর সম্পর্কে যেমন ধারণা পোষণ করে, তিনি তার সঙ্গে তেমনই আচরণ করেন। একই হাদিসে আল্লাহকে স্মরণ করার কথাও এসেছে। অর্থাৎ একজন মানুষ যখন বিপদের মধ্যেও রবের রহমতের ব্যাপারে আশাবাদী থাকে, তখন তার হৃদয়ে ভরসা ও প্রশান্তি তৈরি হয়। এই বিশ্বাস তাকে হতাশার পরিবর্তে আল্লাহর দিকে ফিরে যেতে উৎসাহিত করে।

আরও পড়ুন  মুমিনের আত্মায় ঝরে তওবার বৃষ্টি

ব্যর্থতা এলেই সবকিছু শেষ হয়ে গেছে—ইসলাম এমন চিন্তা শেখায় না। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনেও বারবার কঠিন পরিস্থিতি এসেছিল। মক্কার কঠিন সময়ে তিনি বিভিন্ন গোত্রের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দিয়েছিলেন। প্রত্যাখ্যান ও কষ্টের পরও তিনি চেষ্টা থামাননি। পরবর্তীতে মদিনার মানুষের মাধ্যমে ইসলামের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। তাই চাকরি না পাওয়া, ব্যবসায় ক্ষতি কিংবা কোনো সম্পর্ক ভেঙে যাওয়াকে জীবনের শেষ পরিণতি মনে করা উচিত নয়।

আল্লাহর প্রতি সুধারণা রাখার অর্থ এই নয় যে মানুষ কোনো চেষ্টা করবে না কিংবা ভুল কাজ করে শুধু ক্ষমার আশা করবে। বরং প্রকৃত সুধারণা মানুষকে ভালো কাজ ও তওবার দিকে নিয়ে যায়। কেউ পাপ করে ফেললে শয়তান তাকে বোঝাতে পারে যে তার আর ক্ষমা পাওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু ইসলামে তওবার দরজা খোলা রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আদম সন্তানের সবাই ভুল করে, আর ভুলকারীদের মধ্যে উত্তম তারা যারা তওবা করে ফিরে আসে।

আরও পড়ুন  যে তিন বিষয়ে মহানবী (সা.) শপথ করেছেন

আল্লাহর রহমতের ব্যাপারে আশাবাদী থাকা একই সঙ্গে মানুষকে নিজের কাজ সংশোধনের শক্তি দেয়। তাবেয়ি হাসান বসরি (রহ.)-এর শিক্ষার সারকথা হলো, প্রকৃত মুমিন আল্লাহর প্রতি ভালো ধারণা রাখে এবং সেই বিশ্বাস তাকে নেক আমলের দিকে এগিয়ে নেয়। তাই শুধু মুখে আল্লাহর ওপর ভরসার কথা বললেই হবে না; সেই ভরসার প্রমাণ দিতে হবে সৎকাজ, তওবা, ধৈর্য ও সঠিক চেষ্টা দিয়ে।

আরও পড়ুন  ওমরাহ এজেন্সির নিবন্ধনে সৌদি আরবের ৬ শর্ত

জীবনে যত কঠিন সময়ই আসুক, হতাশ হয়ে আল্লাহর রহমত থেকে দূরে সরে যাওয়া উচিত নয়। কষ্ট কখনো মানুষকে নিজের ভুল বুঝতে শেখায়, কখনো ধৈর্য বাড়ায়, আবার কখনো তাকে আল্লাহর আরও কাছে নিয়ে আসে। তাই বিপদের সময় নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা করার পাশাপাশি আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা জরুরি। আল্লাহর প্রতি সুধারণা হৃদয়ে রেখে তওবা, দোয়া ও সৎকাজে অবিচল থাকলে হতাশার অন্ধকার কাটিয়ে নতুন আশার পথে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।