ঢাকা ০৬:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo হরমোনের ভারসাম্য ভালো রাখতে ৭টি সহজ অভ্যাস Logo ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে ভারতে পৌঁছেছেন পুতিন Logo দুদক বক্তব্য প্রত্যাহারে আসিফ মাহমুদের আইনি নোটিশ Logo বাব আল-মান্দেব দখলে হুতিদের বড় অগ্রগতি, বাড়ছে জ্বালানি সংকট Logo ফিল্ড ফায়ারিং দুর্ঘটনায় আহত সেনা কর্মকর্তাকে দেখতে সিএমএইচে প্রধানমন্ত্রী Logo হাসিনা আমলের ১০১ চুক্তিতে সরকারের নজর, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কেও বড় সিদ্ধান্তের আভাস Logo স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে বিএনপির নতুন কৌশল, বিদ্রোহ ঠেকাতে কঠোর হচ্ছে দল Logo হাসপাতালের দুর্নীতিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি, ‘হয় আমি থাকব, না হয় অনিয়ম’ Logo ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান Logo কাউন্টিতে দুর্দান্ত হাসান মাহমুদ, প্রতি ৫ ওভারে নিচ্ছেন একটি উইকেট

বাব আল-মান্দেব দখলে হুতিদের বড় অগ্রগতি, বাড়ছে জ্বালানি সংকট

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৫:২০:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৮

বাব আল-মান্দেব প্রণালি ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা। | ছবি: সংগৃহীত

বাব আল-মান্দেব ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নতুন মোড় নিয়েছে। ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের কৌশলগত পেরিম দ্বীপে ইরানপন্থি হুতিদের পৌঁছানোর খবর সামনে এসেছে। এতে লোহিত সাগর দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল এবং জ্বালানি পরিবহন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ইয়েমেন সরকারের চারটি সূত্রের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। এর আগে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের দুটি সূত্র জানায়, পেরিম দ্বীপ থেকে সরকারি বাহিনী সরে গেছে।

পেরিম দ্বীপের পাশাপাশি লোহিত সাগরের উপকূলীয় ধুবাব শহরও হুতিদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার দাবি উঠেছে। এর আগে কৌশলগত উপকূলীয় শহর মোকা এবং হানিশ দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কথাও জানিয়েছিল গোষ্ঠীটি। ফলে লোহিত সাগরের দীর্ঘ উপকূলজুড়ে হুতিদের তৎপরতা বাড়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। বাব আল-মান্দেবের অবস্থানগত গুরুত্বের কারণে এই অগ্রযাত্রা শুধু ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে পারে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারেও।

বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথগুলোর একটি হলো বাব আল-মান্দেব। এটি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং ইউরোপ, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে এই নৌপথে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হলে জাহাজ চলাচলে বাধা, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ পড়তে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি নিয়ে অস্থিরতার মধ্যে নতুন করে বাব আল-মান্দেব ঘিরে সংকট তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

এদিকে বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শেষে বাজারে এমন পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে শুক্রবার দাম কিছুটা কমেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে সাময়িক সমঝোতার আলোচনা শুরু হওয়ায় বাজারে সামান্য স্বস্তিও ফিরেছে। ওমান ও ইরানের উদ্যোগে উপসাগরীয় দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের পরিকল্পনাও সামনে এসেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনা এখন সরাসরি জ্বালানি বাজারের গতিপথের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে হুতিদের দখলে যাওয়া এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারে প্রস্তুতি নিচ্ছে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী। কৌশলগত অঞ্চলগুলোতে অস্ত্র ও বিমান মোতায়েনের কথা জানিয়েছে তারা। সামরিক মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আল-নাজিলি তাইজ থেকে মোকা যাওয়ার সড়ক এড়িয়ে চলতে বেসামরিক নাগরিকদের সতর্ক করেছেন। একই সঙ্গে হুতিদের সামরিক সরঞ্জাম থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সরকারি বাহিনী ও হুতিদের সংঘর্ষও তীব্র হয়েছে।

এরই মধ্যে হুতিদের সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রার পেছনে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের সরাসরি দিকনির্দেশনা থাকার দাবি উঠেছে। ইয়েমেন সরকার, ইরান ও আঞ্চলিক কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ইরানের দুটি সূত্রের দাবি, হুতিদের সৌদি আরবে হামলা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তাদের অর্থ ও অস্ত্র সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। তবে ইরান প্রকাশ্যে হুতিদের সামরিক নির্দেশনা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। অন্যদিকে সৌদি আরবের আরও জোরালো সামরিক ভূমিকা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে বাব আল-মান্দেব এখন শুধু একটি কৌশলগত নৌপথ নয়, মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির লড়াই এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমোনের ভারসাম্য ভালো রাখতে ৭টি সহজ অভ্যাস

বাব আল-মান্দেব দখলে হুতিদের বড় অগ্রগতি, বাড়ছে জ্বালানি সংকট

Update Time : ০৫:২০:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাব আল-মান্দেব ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নতুন মোড় নিয়েছে। ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের কৌশলগত পেরিম দ্বীপে ইরানপন্থি হুতিদের পৌঁছানোর খবর সামনে এসেছে। এতে লোহিত সাগর দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল এবং জ্বালানি পরিবহন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ইয়েমেন সরকারের চারটি সূত্রের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। এর আগে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের দুটি সূত্র জানায়, পেরিম দ্বীপ থেকে সরকারি বাহিনী সরে গেছে।

পেরিম দ্বীপের পাশাপাশি লোহিত সাগরের উপকূলীয় ধুবাব শহরও হুতিদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার দাবি উঠেছে। এর আগে কৌশলগত উপকূলীয় শহর মোকা এবং হানিশ দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কথাও জানিয়েছিল গোষ্ঠীটি। ফলে লোহিত সাগরের দীর্ঘ উপকূলজুড়ে হুতিদের তৎপরতা বাড়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। বাব আল-মান্দেবের অবস্থানগত গুরুত্বের কারণে এই অগ্রযাত্রা শুধু ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে পারে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারেও।

আরও পড়ুন  তেলের দাম কমেছে: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনায় বিশ্ববাজারে স্বস্তি

বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথগুলোর একটি হলো বাব আল-মান্দেব। এটি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং ইউরোপ, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে এই নৌপথে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হলে জাহাজ চলাচলে বাধা, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ পড়তে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি নিয়ে অস্থিরতার মধ্যে নতুন করে বাব আল-মান্দেব ঘিরে সংকট তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

এদিকে বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শেষে বাজারে এমন পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে শুক্রবার দাম কিছুটা কমেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে সাময়িক সমঝোতার আলোচনা শুরু হওয়ায় বাজারে সামান্য স্বস্তিও ফিরেছে। ওমান ও ইরানের উদ্যোগে উপসাগরীয় দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের পরিকল্পনাও সামনে এসেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনা এখন সরাসরি জ্বালানি বাজারের গতিপথের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন  শি জিনপিংয়ের বড় বার্তা, কেন বদলে যেতে বললেন কমিউনিস্ট পার্টিকে?

অন্যদিকে হুতিদের দখলে যাওয়া এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারে প্রস্তুতি নিচ্ছে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী। কৌশলগত অঞ্চলগুলোতে অস্ত্র ও বিমান মোতায়েনের কথা জানিয়েছে তারা। সামরিক মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আল-নাজিলি তাইজ থেকে মোকা যাওয়ার সড়ক এড়িয়ে চলতে বেসামরিক নাগরিকদের সতর্ক করেছেন। একই সঙ্গে হুতিদের সামরিক সরঞ্জাম থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সরকারি বাহিনী ও হুতিদের সংঘর্ষও তীব্র হয়েছে।

আরও পড়ুন  ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে হুতি কমান্ডার নিহত

এরই মধ্যে হুতিদের সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রার পেছনে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের সরাসরি দিকনির্দেশনা থাকার দাবি উঠেছে। ইয়েমেন সরকার, ইরান ও আঞ্চলিক কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ইরানের দুটি সূত্রের দাবি, হুতিদের সৌদি আরবে হামলা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তাদের অর্থ ও অস্ত্র সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। তবে ইরান প্রকাশ্যে হুতিদের সামরিক নির্দেশনা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। অন্যদিকে সৌদি আরবের আরও জোরালো সামরিক ভূমিকা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে বাব আল-মান্দেব এখন শুধু একটি কৌশলগত নৌপথ নয়, মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির লড়াই এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।