রাজাউল্লাহর রেকর্ড দিয়েই যেন বদলে গেল এজবাস্টনের গল্প। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় টেস্টে পাকিস্তান যখন বড় ব্যবধানে হারের পথে, তখন ব্যাট হাতে ঝড় তুললেন অভিষিক্ত পেসার রাজাউল্লাহ। মাত্র ৬৩ বলে ৮১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে তিনি শুধু দলকে ইনিংস হার থেকে বাঁচাননি, নিজের নামও তুলে নিয়েছেন টেস্ট ক্রিকেটের রেকর্ডের পাতায়। তাঁর ইনিংসে ছিল ৪টি চার ও ৯টি ছক্কা।
রাজাউল্লাহ যখন ক্রিজে আসেন, তখন পাকিস্তানের অবস্থা ছিল বেশ কঠিন। প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ডের ৪৫৩ রানের জবাবে পাকিস্তান মাত্র ১৩৩ রানে গুটিয়ে যায়। ফলে দ্বিতীয় ইনিংসে ইংল্যান্ডের লিড পেরোনোর আগেই পাকিস্তানের শেষ দিকের ব্যাটারদের ওপর বড় চাপ তৈরি হয়। একপর্যায়ে পাকিস্তানের আট উইকেট পড়ে যায় এবং ইনিংস হার এড়াতেও প্রয়োজন ছিল মাত্র দুই রান। ঠিক সেই মুহূর্তেই ব্যাট হাতে নামেন রাজাউল্লাহ।
রাজাউল্লাহর রেকর্ডের শুরুটা হয় দুর্দান্ত এক ছক্কায়। জশ টাংয়ের বল সীমানার বাইরে পাঠিয়ে তিনি পাকিস্তানকে ইনিংস হার থেকে বাঁচান। এরপর আর পেছনে তাকাননি এই তরুণ। ইংল্যান্ডের অভিজ্ঞ বোলারদের বিপক্ষে একের পর এক বড় শট খেলতে থাকেন। মাত্র ৪৩ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি। এটিই টেস্ট অভিষেকে পাকিস্তানের কোনো ব্যাটারের দ্রুততম ফিফটি।
এরপর মোহাম্মদ আব্বাসকে সঙ্গে নিয়ে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন রাজাউল্লাহ। নবম উইকেটে দুজন মিলে ১২১ রানের জুটি গড়েন। এই জুটির বড় অংশজুড়েই ছিল আক্রমণাত্মক ব্যাটিং। রাজাউল্লাহ একাই মেরেছেন ৯টি ছক্কা। টেস্ট অভিষেকে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ডে তিনি নিউজিল্যান্ডের টিম সাউদির পাশে বসেছেন। ২০০৮ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেকে সাউদিও ৯টি ছক্কা মেরেছিলেন।
শুধু অভিষেকের রেকর্ড নয়, ইংল্যান্ডের মাটিতেও রাজাউল্লাহর ইনিংসটি বিশেষ হয়ে থাকল। এক টেস্ট ইনিংসে ৯টি ছক্কা মেরে তিনি বেন স্টোকসের সঙ্গে সমান অবস্থানে চলে গেছেন। ২০২৩ অ্যাশেজে লর্ডসে স্টোকসও এক ইনিংসে ৯টি ছক্কা মেরেছিলেন। ফলে অভিষিক্ত একজন ব্যাটারের এমন আক্রমণাত্মক ব্যাটিং এজবাস্টনের দর্শকদেরও অবাক করেছে। শেষ পর্যন্ত ড্যান লরেন্সের বলে স্টাম্পড হয়ে ৮১ রানে থামেন রাজাউল্লাহ।
সব মিলিয়ে রাজাউল্লাহর অভিষেক হয়ে থাকল পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য এক বড় আশার গল্প। ম্যাচের শুরুতে বল হাতে চার উইকেট নেওয়ার পর ব্যাট হাতেও এমন বিস্ফোরক ইনিংস খেলেছেন তিনি। তাঁর ব্যাটিংয়ের সুবাদে পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৪৯ রান করে এবং ইংল্যান্ডের সামনে ১৩০ রানের লক্ষ্য দাঁড় করায়। একসময় যে ম্যাচটি তিন দিনেই শেষ হওয়ার কথা মনে হচ্ছিল, রাজাউল্লাহর ব্যাটিং সেটিকে চতুর্থ দিনে নিয়ে গেছে।


























