শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার বিষয়ে তার পক্ষ থেকে বিভিন্ন বক্তব্য আসায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের একাংশের মধ্যে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে এই প্রত্যাবর্তন কতটা বাস্তবসম্মত এবং এর পেছনে কী ধরনের রাজনৈতিক পরিকল্পনা রয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, হাসিনার দেশে ফেরা শুধু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বিষয় নয়, এর সঙ্গে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক অবস্থানের বিষয়টিও জড়িয়ে আছে। তিনি দেশে ফিরলে একদিকে তাকে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে, অন্যদিকে দেশে না ফিরলে দলের নেতৃত্ব নিয়ে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে। ফলে ঘোষিত সময়কে ঘিরে আওয়ামী লীগের ভেতরে নানা ধরনের আলোচনা চলছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আইনুল ইসলামের মতে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বক্তব্যের পেছনে দলীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয় রাখার রাজনৈতিক কৌশল থাকতে পারে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশে ফিরলে শেখ হাসিনাকে আইনগত প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি সেই আইনি লড়াই ও দেশের বাস্তবতা কীভাবে মোকাবিলা করবেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
রাজনীতি বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজ মনে করেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা এখনো নিশ্চিত নয়। তার মতে, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে এমনটা বলার মতো যথেষ্ট তথ্য নেই। তবে তিনি দেশে ফিরলে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বাড়তে পারে এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে সক্রিয়তা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার রায় ও এর বাস্তবায়ন নিয়েও রাজনৈতিক আলোচনা আরও জোরালো হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে একটি মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে এবং আওয়ামী লীগের কার্যক্রমও নিষিদ্ধ রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামিমের বক্তব্য অনুযায়ী, দেশে ফিরলে শেখ হাসিনাকে বিমানবন্দরেই গ্রেফতারের মুখোমুখি হতে হবে। এসব কারণে তার দেশে ফেরার ঘোষণা বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা রয়েছে।
তবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের একটি অংশ মনে করছেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে দলটি আবার রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পেতে পারে। তিনি না ফিরলে দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন আরও বাড়তে পারে। এ কারণে ঘোষিত সময়ের মধ্যে তার দেশে ফেরার প্রত্যাশা করছেন তারা। একই সঙ্গে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার আগে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন শীর্ষ নেতার দেশে ফেরার পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার সঙ্গে আরও নেতাকর্মী দেশে ফিরবেন বলেও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, হাসিনার দেশে ফেরা এখন আওয়ামী লীগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। তিনি সত্যিই দেশে ফিরবেন কি না, ফিরলে রাজনৈতিক ও আইনি পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে এবং আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থানে এর কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়েই এখন রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে।



























