ঢাকা ১২:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

হেয়ার রিল্যাক্সারে ক্যানসার ঝুঁকি, ল’রিয়ালের বিরুদ্ধে মামলা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১০:৪২:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫২০

হেয়ার রিল্যাক্সার ব্যবহার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে মামলা| ছবি: সংগৃহীত

হেয়ার রিল্যাক্সার ব্যবহারে ক্যানসারের সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে ভোক্তাদের যথাযথভাবে সতর্ক না করার অভিযোগ উঠেছে ল’রিয়ালের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে প্রসাধনী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ল’রিয়াল এসএ এবং এর মার্কিন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্য। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) অ্যারিজোনার অ্যাটর্নি জেনারেল ক্রিস্টিন মেইস অঙ্গরাজ্যের আদালতে মামলাটি করেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, হেয়ার রিল্যাক্সার বাজারজাত করার সময় ভোক্তা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘন করেছে ল’রিয়াল। এসব পণ্য মূলত কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। অ্যারিজোনা কর্তৃপক্ষের দাবি, কিছু গবেষণায় হেয়ার রিল্যাক্সার ব্যবহারের সঙ্গে ডিম্বাশয় ও জরায়ুর ক্যানসারের সম্ভাব্য সম্পর্কের কথা উঠে এলেও পণ্যের গায়ে বা বিপণনের সময় সে বিষয়ে পর্যাপ্ত সতর্কতা দেওয়া হয়নি।

মামলায় ল’রিয়ালের কাছ থেকে জরিমানা ও ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ক্যানসারের সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে ক্রেতাদের সতর্ক না করা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট পণ্য বিক্রি বন্ধ রাখার জন্য আদালতের নির্দেশও চাওয়া হয়েছে। মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, কয়েক দশক ধরে নারী ও শিশুদের কাছে এসব পণ্য বাজারজাত করতে গিয়ে আফ্রিকান বংশোদ্ভূত মানুষের ওপর বিদ্যমান সৌন্দর্যসংক্রান্ত সামাজিক চাপকে কাজে লাগানো হয়েছে।

অ্যারিজোনার এই মামলা এমন এক সময়ে হলো, যখন একই ধরনের অভিযোগে ল’রিয়ালের বিরুদ্ধে ১২ হাজারের বেশি মামলা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব মামলায় নারী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির অভিযোগ এনেছেন। মামলাগুলো বর্তমানে শিকাগোর একটি ফেডারেল আদালতে একত্রিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে, যাতে একই ধরনের বিপুলসংখ্যক মামলা তুলনামূলকভাবে সমন্বিতভাবে নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় নেওয়া যায়।

তবে ল’রিয়াল ইউএসএ অভিযোগগুলো সরাসরি অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটির একজন মুখপাত্র বলেছেন, কোম্পানি তাদের হেয়ার রিল্যাক্সার পণ্যের নিরাপত্তার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী। তাঁর দাবি, মামলাগুলো আইনগত ও বৈজ্ঞানিক—দুই দিক থেকেই ভিত্তিহীন। ডার্ক অ্যান্ড লাভলি ও অপটিমামসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নামে বাজারজাত হওয়া এসব পণ্য চুলের স্বাভাবিক গঠন দীর্ঘস্থায়ীভাবে সোজা করার জন্য ব্যবহার করা হয়।

হেয়ার রিল্যাক্সার নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের একটি গবেষণা প্রকাশের পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। ওই গবেষণায় বছরে কয়েকবার হেয়ার রিল্যাক্সার ব্যবহার করা নারীদের জরায়ুর ক্যানসারের ঝুঁকি ব্যবহার না করা নারীদের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তবে ল’রিয়ালের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওই গবেষণা পণ্য ব্যবহারের সঙ্গে অভিযোগ করা রোগের সরাসরি কারণগত সম্পর্ক প্রমাণ করে না। ল’রিয়ালের পাশাপাশি রেভলনসহ অন্য নির্মাতাদের বিরুদ্ধেও মামলা রয়েছে, আর এসব প্রতিষ্ঠানও তাদের পণ্যের সঙ্গে ক্যানসারের সরাসরি সম্পর্কের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হেয়ার রিল্যাক্সারে ক্যানসার ঝুঁকি, ল’রিয়ালের বিরুদ্ধে মামলা

Update Time : ১০:৪২:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হেয়ার রিল্যাক্সার ব্যবহারে ক্যানসারের সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে ভোক্তাদের যথাযথভাবে সতর্ক না করার অভিযোগ উঠেছে ল’রিয়ালের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে প্রসাধনী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ল’রিয়াল এসএ এবং এর মার্কিন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্য। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) অ্যারিজোনার অ্যাটর্নি জেনারেল ক্রিস্টিন মেইস অঙ্গরাজ্যের আদালতে মামলাটি করেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, হেয়ার রিল্যাক্সার বাজারজাত করার সময় ভোক্তা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘন করেছে ল’রিয়াল। এসব পণ্য মূলত কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। অ্যারিজোনা কর্তৃপক্ষের দাবি, কিছু গবেষণায় হেয়ার রিল্যাক্সার ব্যবহারের সঙ্গে ডিম্বাশয় ও জরায়ুর ক্যানসারের সম্ভাব্য সম্পর্কের কথা উঠে এলেও পণ্যের গায়ে বা বিপণনের সময় সে বিষয়ে পর্যাপ্ত সতর্কতা দেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুন  তেলাপিয়া মাছ কি ক্যানসার ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়?

মামলায় ল’রিয়ালের কাছ থেকে জরিমানা ও ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ক্যানসারের সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে ক্রেতাদের সতর্ক না করা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট পণ্য বিক্রি বন্ধ রাখার জন্য আদালতের নির্দেশও চাওয়া হয়েছে। মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, কয়েক দশক ধরে নারী ও শিশুদের কাছে এসব পণ্য বাজারজাত করতে গিয়ে আফ্রিকান বংশোদ্ভূত মানুষের ওপর বিদ্যমান সৌন্দর্যসংক্রান্ত সামাজিক চাপকে কাজে লাগানো হয়েছে।

অ্যারিজোনার এই মামলা এমন এক সময়ে হলো, যখন একই ধরনের অভিযোগে ল’রিয়ালের বিরুদ্ধে ১২ হাজারের বেশি মামলা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব মামলায় নারী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির অভিযোগ এনেছেন। মামলাগুলো বর্তমানে শিকাগোর একটি ফেডারেল আদালতে একত্রিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে, যাতে একই ধরনের বিপুলসংখ্যক মামলা তুলনামূলকভাবে সমন্বিতভাবে নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় নেওয়া যায়।

আরও পড়ুন  বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা কুর্মিটোলা হাসপাতালে ৩ বস্তিবাসীর জন্য শুরু

তবে ল’রিয়াল ইউএসএ অভিযোগগুলো সরাসরি অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটির একজন মুখপাত্র বলেছেন, কোম্পানি তাদের হেয়ার রিল্যাক্সার পণ্যের নিরাপত্তার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী। তাঁর দাবি, মামলাগুলো আইনগত ও বৈজ্ঞানিক—দুই দিক থেকেই ভিত্তিহীন। ডার্ক অ্যান্ড লাভলি ও অপটিমামসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নামে বাজারজাত হওয়া এসব পণ্য চুলের স্বাভাবিক গঠন দীর্ঘস্থায়ীভাবে সোজা করার জন্য ব্যবহার করা হয়।

আরও পড়ুন  খিঁচুনি মানেই কি মৃগী? জানুন করণীয়

হেয়ার রিল্যাক্সার নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের একটি গবেষণা প্রকাশের পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। ওই গবেষণায় বছরে কয়েকবার হেয়ার রিল্যাক্সার ব্যবহার করা নারীদের জরায়ুর ক্যানসারের ঝুঁকি ব্যবহার না করা নারীদের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তবে ল’রিয়ালের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওই গবেষণা পণ্য ব্যবহারের সঙ্গে অভিযোগ করা রোগের সরাসরি কারণগত সম্পর্ক প্রমাণ করে না। ল’রিয়ালের পাশাপাশি রেভলনসহ অন্য নির্মাতাদের বিরুদ্ধেও মামলা রয়েছে, আর এসব প্রতিষ্ঠানও তাদের পণ্যের সঙ্গে ক্যানসারের সরাসরি সম্পর্কের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।