বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতিকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দলের কয়েকজন ক্রিকেটার তার আচরণ ও নেতৃত্ব নিয়ে গুরুতর অভিযোগ করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ক্রিকেটার দাবি করেছেন, জ্যোতির সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করলে নানা ধরনের চাপের মুখে পড়তে হয়।
জাতীয় দলের এক ক্রিকেটারের ভাষ্য, অধিনায়ক হিসেবে জ্যোতির আচরণ অনেক সময় কঠোর হয়ে ওঠে। তার কথার বাইরে গেলে কিংবা ভিন্ন মত প্রকাশ করলে রোষানলে পড়তে হয় বলেও অভিযোগ করেছেন ওই ক্রিকেটার। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জ্যোতির কোনো বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
আরেক ক্রিকেটার অভিযোগ করেছেন, মাঠে জ্যোতির অতিরিক্ত চিৎকার ও চাপের কারণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। একটি ম্যাচের ঘটনা তুলে ধরে ওই ক্রিকেটার দাবি করেন, বল তার কাছে আসার আগেই অধিনায়ক চিৎকার শুরু করেছিলেন। এতে তিনি ঘাবড়ে গিয়ে ভুল করেন এবং পরে গালিগালাজের শিকার হন বলে অভিযোগ করেন।
শুধু মাঠের আচরণ নয়, মাঠের বাইরেও মানসিক চাপের অভিযোগ করেছেন ওই ক্রিকেটার। তার দাবি, পরিস্থিতি এতটাই কঠিন হয়ে উঠেছিল যে মাঝেমধ্যে তিনি সৃষ্টিকর্তার কাছে বিচার চাইতেন। এমন অভিযোগ দলের পরিবেশ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
জ্যোতি ২০২১ সালে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পান। অভিযোগকারীদের দাবি, দায়িত্ব পাওয়ার পর ধীরে ধীরে দলে নিজের প্রভাববলয় তৈরি করেন তিনি। অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের জায়গায় নতুনদের সুযোগ দেওয়া এবং নিজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একটি বলয় তৈরি করার অভিযোগও উঠেছে।
দলসংশ্লিষ্টদের কয়েকজনের দাবি, এসব কারণে একসময় ড্রেসিংরুমের পরিবেশ অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। এমনকি ক্রিকেটারদের মধ্যে বিরোধ, গালাগালি এবং মারামারির মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা ও বিচার-সালিশ হওয়ার কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
গত ওয়ানডে বিশ্বকাপে স্পিনার জান্নাতুল ফেরদৌস সুমনাকে দলে না রাখা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। দলসংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র তখন দাবি করেছিল, বিশ্বকাপ স্কোয়াডে সুমনার না থাকার পেছনে জ্যোতির ভূমিকা ছিল। তবে এই দাবিরও স্বাধীন কোনো প্রমাণ প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।
সম্প্রতি দলের এক তরুণ অলরাউন্ডারকে ঘিরেও নতুন অভিযোগ সামনে এসেছে। সূত্রের দাবি, ওই ক্রিকেটারকে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখছেন জ্যোতি এবং দুজনের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। তবে অভিযোগটির বিস্তারিত বা সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারের বক্তব্যও প্রকাশ্যে আসেনি।
এর আগে পেসার জাহানারা আলমকে ঘিরেও জ্যোতির নেতৃত্ব নিয়ে নানা আলোচনা হয়েছিল। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, একপর্যায়ে জ্যোতির আধিপত্য ও মানসিক চাপের কারণে আত্মসম্মান রক্ষায় জাহানারা দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। এটিও একটি অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতীয় দলের সাবেক এক অধিনায়কও জ্যোতির নেতৃত্ব নিয়ে সমালোচনা করেছেন। তার অভিযোগ, তৎকালীন নির্বাচক ও ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে জ্যোতি একটি প্রভাববলয় তৈরি করেছিলেন। একই সঙ্গে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের বসিয়ে দিয়ে তার কথা মান্য করা জুনিয়রদের দলে বেশি সুযোগ দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
সাবেক ওই অধিনায়কের মতে, একটি দলকে দীর্ঘ সময় এভাবে পরিচালনা করলে ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তার দাবি, বর্তমানে মাঠের পারফরম্যান্সেও সেই সমস্যার প্রভাব দেখা যাচ্ছে।
নিগার জ্যোতির বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো এখন বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য জানা জরুরি। কারণ একজন অধিনায়কের নেতৃত্ব, দলের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ এবং ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স, সবকিছুর সঙ্গেই বিষয়টি জড়িত।























