ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সঙ্গী ভার্জিনিয়া ফনসেকার ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী রুজেরিও কামিলো রামোস ও তার স্ত্রী পাউলা রেজিনা ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। মর্মান্তিক এই ঘটনায় শোকে ভেঙে পড়েছেন ফনসেকা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া আবেগঘন বার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘আমার হৃদয় একেবারে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে।’
ব্রাজিলের গোইয়াস রাজ্যের গোইয়ানিয়া মেট্রোপলিটন অঞ্চলের গুয়াপো পৌরসভার রিবেইরাও দাস পোস এলাকায় একটি মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় গণমাধ্যম রোতা ভের্দে গোইয়াসের বরাত দিয়ে গোলডটকম জানিয়েছে, দুর্ঘটনাটি ঘটে সম্প্রতি। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।
জরুরি সেবা বিভাগের এক চিকিৎসক ঘটনাস্থলে পৌঁছে মোটরসাইকেলে থাকা রুজেরিওর মৃত্যু নিশ্চিত করেন। অন্যদিকে তার স্ত্রী পাউলা রেজিনাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তখন তার হৃদযন্ত্র ও শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বলে জানানো হয়।
ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা পাউলাকে বাঁচানোর জন্য দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেন। তাকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য জরুরি চিকিৎসাও দেওয়া হয়। তবে শেষ পর্যন্ত সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনিও। স্বামী-স্ত্রীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ তাদের পরিচিতজনেরা।
দুর্ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেই স্প্যানিশ ফর্মুলা ওয়ান গ্র্যান্ড প্রিক্সের মাদ্রিং সার্কিটের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফনসেকা। পরে ইনস্টাগ্রামে তিনি দুর্ঘটনার খবরটি প্রকাশ করেন। পরিবারের সদস্যদের আগে জানানোর সুযোগ দিতে তিনি এতক্ষণ কোনো পোস্ট করেননি বলেও জানান।
আবেগঘন বার্তায় ফনসেকা বলেন, কামিলো ও তার স্ত্রীর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকে তিনি আর কোনো কাজ করতে পারছেন না। তাদের প্রতি পরিবারের পক্ষ থেকে গভীর ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। কামিলোর যত্ন, সুরক্ষা, প্রজ্ঞা ও ভালোবাসার কথা স্মরণ করে তাকে পরিবারের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবেও উল্লেখ করেন ফনসেকা।
ফনসেকার সঙ্গে কামিলোর সম্পর্ক ছিল দীর্ঘদিনের। পরিবারের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এই নিরাপত্তারক্ষীর প্রতি তাদের গভীর আস্থা ছিল। তাই তার আকস্মিক মৃত্যু ফনসেকা ও তার পরিবারের জন্য বড় ধরনের শোক হয়ে এসেছে। কামিলোর স্মৃতি তাদের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবে বলেও জানান তিনি।
প্রয়াত দম্পতি পেছনে রেখে গেছেন তাদের ছোট কন্যাসন্তান হেলোইসকে। শিশুটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ফনসেকা তার পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অভিভাবক হিসেবে শিশুটির দেখভালের দায়িত্ব নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশের পাশাপাশি ফনসেকা নিহত দম্পতির পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। প্রিয়জন হারানোর এই কঠিন সময়ে হেলোইসের পাশে থাকার যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছেন, তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আবেগ তৈরি করেছে। কামিলো ও পাউলার মৃত্যুতে তাদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক।






















