ঢাকার আদালতে লোডশেডিংয়ের কারণে মোবাইল ফোনের আলো জ্বালিয়ে জঙ্গি কার্যক্রমে জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার ১২ জনের রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) শুনানি শেষে প্রত্যেক আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এর আগে পুলিশের পক্ষ থেকে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালতে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার রাজধানীর তেজগাঁও কলেজ জামে মসজিদে গোপন বৈঠকের অভিযোগে ওই ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে শেরেবাংলা নগর থানার সাধারণ ডায়েরির ভিত্তিতে তাদের ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিটিটিসির ইন্সপেক্টর মো. আখতার মোর্শেদ আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। তার দাবি, গ্রেফতার ব্যক্তিরা ‘মিটআপ’ নামে একটি গোপন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সদস্য। সেখানে তারা উগ্রবাদী বক্তব্য ও বিভিন্ন বিষয়ে যোগাযোগ করতেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তদন্ত কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, আসামিরা নিজেদের মতাদর্শ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে সংগঠিত হচ্ছিলেন। রাজনৈতিক সংগঠনগুলোকে তারা ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখেন এবং বর্তমান সরকারকে উৎখাতের চেষ্টা চালাচ্ছিলেন বলেও আদালতে উল্লেখ করা হয়। তবে এসব অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।
আখতার মোর্শেদের বক্তব্য অনুযায়ী, সংগঠনটি জঙ্গি সংগঠনের আদলে পরিচালিত হচ্ছে এবং নতুন প্রজন্মকে নিজেদের মতাদর্শে যুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানতে আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে তিনি আদালতকে জানান।
রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর আজিজুল হক দিদারও রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। তিনি জানতে চান, আসামিরা কোনো জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত কি না এবং তাদের কার্যক্রমে দেশি-বিদেশি কোনো অর্থায়ন বা প্রভাব রয়েছে কি না। এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে আসামিদের পক্ষে আইনজীবী মাসুদ-উর-রহমান রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়ার মতো কী ধরনের প্রমাণ বা আলামত পাওয়া গেছে। আসামিপক্ষের আইনজীবী অভিযোগগুলোর বিরোধিতা করেন।
শুনানির একপর্যায়ে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে একটি কাগজ জমা দিয়ে আটটি পয়েন্ট পাওয়ার কথা জানান। তার দাবি, এসব পয়েন্টের কোনোটি দেশের স্থিতিশীলতার পক্ষে নয়। তবে আসামিপক্ষ এ বক্তব্যের বিরোধিতা করে।
শুনানি চলাকালে আদালতকক্ষে বিদ্যুৎ চলে যায়। বিকেল ৩টা ৪৭ মিনিটের দিকে বিচারক এজলাসে উঠলেও বিদ্যুৎ না থাকায় প্রসিকিউশন বিভাগের কয়েকজন মোবাইল ফোনের আলো জ্বালিয়ে রাখেন। পরে সেই আলোতেই রিমান্ড শুনানি সম্পন্ন হয়।
উভয়পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত প্রত্যেক আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বিকেল ৪টার দিকে তাদের এজলাস থেকে কারাগারে পাঠানো হয়। তখনও আদালতপাড়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি বলে জানা যায়।



























