সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে চালকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি তাদের পারিবারিক দায়িত্ববোধকে সামনে আনা হয়েছে এই উদ্যোগে। পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও পিকআপের পেছনে চালকদের সন্তানদের আঁকা ছবি এবং তাদের নিজেদের লেখা ছোট ছোট বার্তা রাখা হচ্ছে। এসব বার্তায় বাবাকে সাবধানে গাড়ি চালানো এবং নিরাপদে বাড়ি ফেরার অনুরোধ করা হচ্ছে।
উদ্যোক্তাদের ধারণা, প্রতিদিন গাড়ি চালানোর সময় নিজের সন্তানের আঁকা ছবি সামনে বা পেছনে থাকলে চালকের মধ্যে পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধ আরও সক্রিয় হতে পারে। ‘সাবধানে গাড়ি চালাবেন’ বা ‘নিরাপদে বাড়ি ফিরবেন’-এর মতো বার্তা চালককে মনে করিয়ে দেবে যে তার জন্য পরিবারের সদস্যরা অপেক্ষা করছেন। এর ফলে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো, অসতর্কতা বা ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ থেকে চালকরা বিরত থাকতে উৎসাহিত হতে পারেন।
বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, সড়ক দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত ৭ হাজার ৮৩৭টি যানবাহনের মধ্যে ১ হাজার ৩৮৯টি ছিল ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান এবং ৩৭০টি ছিল পিকআপ। অর্থাৎ দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত যানবাহন। এই পরিসংখ্যানকে বিবেচনায় রেখেই পণ্যবাহী গাড়ির চালকদের সচেতন করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
উর্মি গ্রুপের এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে জাপানের পরিবহন প্রতিষ্ঠান মিয়াতা উনইউর ‘চিলড্রেনস মিউজিয়াম প্রজেক্ট’। একটি প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনার পর চালকদের সন্তানদের আঁকা ছবি ট্রাকে প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ছয় বছরে ৮৭টি গাড়িতে শিশুদের ছবি যুক্ত করার পর দুর্ঘটনা প্রায় ৪০ শতাংশ কমে। পরবর্তী সময়ে ২০১৯ সালে উদ্যোগটি স্বতন্ত্র সংগঠনের কার্যক্রমে পরিণত হয় এবং জাপানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ে।
বাংলাদেশে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও অন্যান্য পণ্যবাহী গাড়ির পেছনে বিভিন্ন ধরনের ছবি, বাণী ও শিল্পকর্ম ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। উর্মি গ্রুপ সেই পরিচিত মাধ্যমটিকেই নতুন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে। এখানে সাধারণ কোনো বাণীর পরিবর্তে চালকের নিজের সন্তানের ছবি ও বার্তা রাখা হচ্ছে। ফলে এটি শুধু একটি লেখা বা ছবি নয়, বরং চালক ও তার পরিবারের মধ্যে আবেগের একটি দৃশ্যমান সংযোগ হিসেবে কাজ করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে কয়েকটি গাড়িতে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার পর উর্মি গ্রুপ তাদের পরিবহন ব্যবস্থায় এটি আরও বিস্তৃতভাবে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভবিষ্যতে আরও পণ্যবাহী গাড়িতে চালকদের সন্তানদের আঁকা ছবি ও বার্তা যুক্ত করার মাধ্যমে সচেতনতা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
উর্মি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসিফ আশরাফ তৈরি পোশাকশিল্পের সঙ্গে প্রায় ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান ও তাদের পরিবার জড়িত থাকার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তার মতে, সড়কপথে পণ্য পরিবহনের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক কর্মী ও তাদের পরিবারের জীবন-জীবিকা যুক্ত। তাই সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব শুধু চালক বা পরিবহন প্রতিষ্ঠানের নয়; বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিজেদের জায়গা থেকেও সচেতনতামূলক উদ্যোগ নিতে পারে।
উর্মি গ্রুপ মনে করছে, একই ধরনের উদ্যোগ দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠান গ্রহণ করলে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে আরও বিস্তৃত সামাজিক সচেতনতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান বা পিকআপ রয়েছে, তারা চালকদের পরিবারের সদস্যদের সম্পৃক্ত করে এমন কার্যক্রম চালু করতে পারে।




























