ঢাকা ১১:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বাংলাদেশের এলএনজি বাজারে এবার রাশিয়ার আগ্রহ, সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-চীন Logo তিন মাসেও বোর্ড নেই, কমছে আমানত, ইসলামী ব্যাংকের সামনে বড় সংকট Logo জবিতে সংঘর্ষ ও রিকশাচালককে মারধরের প্রতিবাদ ছাত্র ফ্রন্টের Logo ট্রাম্প-শির বৈঠকে বাণিজ্য, এআই ও বিরল খনিজ নিয়ে আলোচনা Logo ঢাবিতে অপ্রতিম-আজমুল হত্যার বিচারের দাবিতে মশাল মিছিল Logo চন্দনাইশে বসতভিটার বিরোধ নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ Logo চন্দনাইশে মাদকবিরোধী অভিযানে ২ মাদকসেবী গ্রেপ্তার, মোবাইল কোর্টে কারাদণ্ড Logo ওয়ান হেলথ: পরিবেশ-জনস্বাস্থ্য সমন্বয়ে মন্ত্রীর বার্তা Logo ট্রাম্পের হামলা বাতিলের পরই গুরুত্বপূর্ণ কাহবুব অঞ্চল নিয়ন্ত্রণে তীব্র অভিযান হুতিদের Logo ভালভের্দের চোটে রিয়ালের বড় ধাক্কা

জিদানকে পেয়ে এমবাপ্পের চমকপ্রদ নতুন অধ্যায়

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৯:২৫:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৬

জাতীয় দলে এবার জিদানের অধীনে খেলবেন এমবাপ্পে। ছবি: সংগৃহীত।

এমবাপ্পে জিদান—একসময় সম্পর্কটা ছিল কিংবদন্তি আর স্বপ্ন দেখা এক কিশোরের। প্রায় দেড় দশক আগে ১৩ বা ১৪ বছরের কিলিয়ান এমবাপ্পে রিয়াল মাদ্রিদের অনুশীলনকেন্দ্রে ট্রায়াল দিতে গিয়ে প্রথম কাছ থেকে দেখেছিলেন জিনেদিন জিদানকে। তখন জিদান ছিলেন তাঁর কাছে ফুটবল-দুনিয়ার এক বিশাল নাম। সময়ের সঙ্গে সেই কিশোর নিজেই হয়ে উঠেছেন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা। আর এখন সেই জিদানই ফ্রান্স জাতীয় দলের কোচ, এমবাপ্পে দলের অধিনায়ক। তাই নতুন সম্পর্কটাকে এমবাপ্পের কাছে বাস্তবের চেয়ে সিনেমার গল্পই বেশি মনে হচ্ছে।

জিদান যখন প্রথমবার এমবাপ্পেকে রিয়ালের অনুশীলনকেন্দ্রে নিয়ে গিয়েছিলেন, তখন কেউই হয়তো ভাবেননি ভবিষ্যতে তাঁদের পথ এভাবে আবার মিলবে। এমবাপ্পে নিজেই বলেছেন, এত বছর পর সেই মানুষটিই এখন তাঁর জাতীয় দলের কোচ হওয়ায় ব্যাপারটি অবিশ্বাস্য লাগছে। দিদিয়ের দেশমের দীর্ঘ অধ্যায়ের পর ফ্রান্সের দায়িত্ব নিয়েছেন জিদান। দেশমের ১৪ বছরের মেয়াদ শেষ হয় ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর। এরপর থেকেই ফরাসি ফুটবলে শুরু হয়েছে নতুন পর্ব। এমবাপ্পের মতো দলের অন্যতম প্রধান খেলোয়াড়ের জন্যও এটি বড় পরিবর্তন।

ফ্রান্সের সামনে এখন মূল লক্ষ্য ইউরো ২০২৮। তার আগে জিদানের প্রথম পরীক্ষাগুলোর একটি হবে নেশনস লিগ। আন্তর্জাতিক বিরতিতে তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে তাঁর ফ্রান্স-অধ্যায়। এরপর প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে বেলজিয়াম ও ইতালি। নতুন কোচের অধীনে খেলোয়াড়দের মানিয়ে নেওয়া, মাঠে নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং দলটির আগের কাঠামো থেকে পরিবর্তনের বিষয়গুলোই থাকবে আলোচনায়। এমবাপ্পের ভাষায়, ফ্রান্সের খেলোয়াড়েরা এত দিন দেশমের অধীনেই খেলেছেন, তাই নতুন কোচের সঙ্গে অভিজ্ঞতাটা সবার জন্যই আলাদা। তবে তিনি মনে করছেন পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগও তৈরি হয়েছে।

রিয়াল মাদ্রিদেও অবশ্য এমবাপ্পের সামনে রয়েছে আরেক ধরনের চ্যালেঞ্জ। মৌসুমের শুরুটা করেছিলেন দারুণ ছন্দে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে প্রথম আট ম্যাচে করেছিলেন আট গোল। কিন্তু সর্বশেষ মাদ্রিদ ডার্বিতে আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে ২-১ গোলে হারের ম্যাচে গোল পাননি তিনি। ওই পরাজয়ের পর লা লিগার শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে রিয়ালের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ছয় পয়েন্টে। ম্যাচটিতে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ডিন হউসেন লাল কার্ড দেখায় ১০ জনের দলে পরিণত হয় রিয়াল। এরপর আতলেতিকোর হয়ে আলেহান্দ্রো গ্রিমালদো ও জোনাথন ডেভিড গোল করেন, পরে আন্তোনিও রুডিগার ব্যবধান কমান।

ডার্বির পর রিয়াল কোচ হোসে মরিনিও রেফারিং নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানিয়েছেন। ম্যাচের কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তবে এমবাপ্পে সেই বিতর্কে জড়াতে চাননি। তাঁর বক্তব্যের সারকথা, রেফারিও মানুষ এবং ভুল হতে পারে; নিজের মত থাকলেও তা প্রকাশ্যে কাদা ছোড়াছুড়িতে পরিণত করতে চান না তিনি। বরং দলের খেলায় মনোযোগ দেওয়াকেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন। রিয়ালের হয়ে বড় শিরোপা জয়ের অপেক্ষা শেষ করার লক্ষ্যেই তাঁর নজর। ফলে ডার্বির হতাশা নিয়ে পড়ে না থেকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার বার্তাই দিয়েছেন ফরাসি তারকা।

সব মিলিয়ে এমবাপ্পে জিদানের গল্পে অতীত আর বর্তমান যেন একই সুতোয় বাঁধা। যে কিশোর একসময় জিদানকে দেখে মুগ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন, আজ সেই এমবাপ্পেই তাঁর জাতীয় দলের অধিনায়ক। আর জিদানের সামনে এখন সেই দলের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব। দুজনের পরিচয়ের শুরুটা হয়েছিল রিয়ালের অনুশীলনকেন্দ্রে, আর নতুন অধ্যায়ের মঞ্চ ফ্রান্স জাতীয় দল। এমবাপ্পের ভাষায় এটি সিনেমার মতো হলেও বাস্তবতা এখন আরও বড়—জিদানের পরিকল্পনায় ফ্রান্সকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব তাঁর কাঁধেও।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের এলএনজি বাজারে এবার রাশিয়ার আগ্রহ, সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-চীন

জিদানকে পেয়ে এমবাপ্পের চমকপ্রদ নতুন অধ্যায়

Update Time : ০৯:২৫:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এমবাপ্পে জিদান—একসময় সম্পর্কটা ছিল কিংবদন্তি আর স্বপ্ন দেখা এক কিশোরের। প্রায় দেড় দশক আগে ১৩ বা ১৪ বছরের কিলিয়ান এমবাপ্পে রিয়াল মাদ্রিদের অনুশীলনকেন্দ্রে ট্রায়াল দিতে গিয়ে প্রথম কাছ থেকে দেখেছিলেন জিনেদিন জিদানকে। তখন জিদান ছিলেন তাঁর কাছে ফুটবল-দুনিয়ার এক বিশাল নাম। সময়ের সঙ্গে সেই কিশোর নিজেই হয়ে উঠেছেন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা। আর এখন সেই জিদানই ফ্রান্স জাতীয় দলের কোচ, এমবাপ্পে দলের অধিনায়ক। তাই নতুন সম্পর্কটাকে এমবাপ্পের কাছে বাস্তবের চেয়ে সিনেমার গল্পই বেশি মনে হচ্ছে।

জিদান যখন প্রথমবার এমবাপ্পেকে রিয়ালের অনুশীলনকেন্দ্রে নিয়ে গিয়েছিলেন, তখন কেউই হয়তো ভাবেননি ভবিষ্যতে তাঁদের পথ এভাবে আবার মিলবে। এমবাপ্পে নিজেই বলেছেন, এত বছর পর সেই মানুষটিই এখন তাঁর জাতীয় দলের কোচ হওয়ায় ব্যাপারটি অবিশ্বাস্য লাগছে। দিদিয়ের দেশমের দীর্ঘ অধ্যায়ের পর ফ্রান্সের দায়িত্ব নিয়েছেন জিদান। দেশমের ১৪ বছরের মেয়াদ শেষ হয় ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর। এরপর থেকেই ফরাসি ফুটবলে শুরু হয়েছে নতুন পর্ব। এমবাপ্পের মতো দলের অন্যতম প্রধান খেলোয়াড়ের জন্যও এটি বড় পরিবর্তন।

আরও পড়ুন  এমবাপ্পের বড় প্রতিশ্রুতি, রিয়ালে এবার শিরোপার আশা

ফ্রান্সের সামনে এখন মূল লক্ষ্য ইউরো ২০২৮। তার আগে জিদানের প্রথম পরীক্ষাগুলোর একটি হবে নেশনস লিগ। আন্তর্জাতিক বিরতিতে তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে তাঁর ফ্রান্স-অধ্যায়। এরপর প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে বেলজিয়াম ও ইতালি। নতুন কোচের অধীনে খেলোয়াড়দের মানিয়ে নেওয়া, মাঠে নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং দলটির আগের কাঠামো থেকে পরিবর্তনের বিষয়গুলোই থাকবে আলোচনায়। এমবাপ্পের ভাষায়, ফ্রান্সের খেলোয়াড়েরা এত দিন দেশমের অধীনেই খেলেছেন, তাই নতুন কোচের সঙ্গে অভিজ্ঞতাটা সবার জন্যই আলাদা। তবে তিনি মনে করছেন পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগও তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন  যে কারণে বাতিল হলো নিকো উইলিয়ামসের গোল

রিয়াল মাদ্রিদেও অবশ্য এমবাপ্পের সামনে রয়েছে আরেক ধরনের চ্যালেঞ্জ। মৌসুমের শুরুটা করেছিলেন দারুণ ছন্দে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে প্রথম আট ম্যাচে করেছিলেন আট গোল। কিন্তু সর্বশেষ মাদ্রিদ ডার্বিতে আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে ২-১ গোলে হারের ম্যাচে গোল পাননি তিনি। ওই পরাজয়ের পর লা লিগার শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে রিয়ালের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ছয় পয়েন্টে। ম্যাচটিতে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ডিন হউসেন লাল কার্ড দেখায় ১০ জনের দলে পরিণত হয় রিয়াল। এরপর আতলেতিকোর হয়ে আলেহান্দ্রো গ্রিমালদো ও জোনাথন ডেভিড গোল করেন, পরে আন্তোনিও রুডিগার ব্যবধান কমান।

ডার্বির পর রিয়াল কোচ হোসে মরিনিও রেফারিং নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানিয়েছেন। ম্যাচের কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তবে এমবাপ্পে সেই বিতর্কে জড়াতে চাননি। তাঁর বক্তব্যের সারকথা, রেফারিও মানুষ এবং ভুল হতে পারে; নিজের মত থাকলেও তা প্রকাশ্যে কাদা ছোড়াছুড়িতে পরিণত করতে চান না তিনি। বরং দলের খেলায় মনোযোগ দেওয়াকেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন। রিয়ালের হয়ে বড় শিরোপা জয়ের অপেক্ষা শেষ করার লক্ষ্যেই তাঁর নজর। ফলে ডার্বির হতাশা নিয়ে পড়ে না থেকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার বার্তাই দিয়েছেন ফরাসি তারকা।

আরও পড়ুন  রিয়াল মাদ্রিদ: এমবাপ্পের গোলে দাপুটে জয়

সব মিলিয়ে এমবাপ্পে জিদানের গল্পে অতীত আর বর্তমান যেন একই সুতোয় বাঁধা। যে কিশোর একসময় জিদানকে দেখে মুগ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন, আজ সেই এমবাপ্পেই তাঁর জাতীয় দলের অধিনায়ক। আর জিদানের সামনে এখন সেই দলের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব। দুজনের পরিচয়ের শুরুটা হয়েছিল রিয়ালের অনুশীলনকেন্দ্রে, আর নতুন অধ্যায়ের মঞ্চ ফ্রান্স জাতীয় দল। এমবাপ্পের ভাষায় এটি সিনেমার মতো হলেও বাস্তবতা এখন আরও বড়—জিদানের পরিকল্পনায় ফ্রান্সকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব তাঁর কাঁধেও।