ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীরা তাইজ ও লাহিজ প্রদেশের কাহবুব পাহাড়ি অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য নতুন করে তীব্র অভিযান চালাচ্ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই পাহাড়ি এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিতে পারলে হুতিরা লোহিত সাগর উপকূলের সঙ্গে সৌদি সমর্থিত বাহিনীর দক্ষিণাঞ্চলীয় অবস্থানের যোগাযোগ আরও কঠিন করে তুলতে পারবে।
রয়টার্সের পাঁচটি ইয়েমেনি সামরিক সূত্র জানিয়েছে, তাইজের আল-ওয়াজিয়াহ জেলার আশপাশ এবং লাহিজের রাস আল-আরা এলাকায় লড়াই তীব্র হয়েছে। কাহবুব পাহাড়ি এলাকা লোহিত সাগর উপকূল ও দক্ষিণ ইয়েমেনের সরকারি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের মধ্যবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ভূখণ্ড। হুতিরা সেখানে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশে নিজেদের অবস্থানের পেছনের অংশ আরও সুরক্ষিত করতে পারবে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুতিদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত বিমান হামলা শেষ মুহূর্তে বাতিল করেছেন বলে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, তারা ওই প্রতিবেদনটি তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এ বিষয়ে প্রশ্ন হোয়াইট হাউসে পাঠিয়েছে এবং হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করেনি।
রয়টার্সের চারটি সূত্র জানিয়েছে, ট্রাম্প রোববার ইয়েমেনের সৌদি সমর্থিত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রেসিডেন্ট রাশাদ আল-আলিমির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। আল-আলিমি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা চাইলেও ওই ফোনালাপে ট্রাম্প সরাসরি সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে শনিবার হুতিরা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করে। রয়টার্সের ভিডিও ও ছবিতে রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দরের আশপাশে আগুন ও কালো ধোঁয়ার দৃশ্য দেখা যায়। হুতিরা রিয়াদের পাশাপাশি লোহিত সাগর তীরবর্তী ইয়ানবু শহরের একটি সৌদি আরামকো স্থাপনায় হামলার দাবিও করে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, রিয়াদের দিকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র তারা প্রতিহত করেছে।
তবে রিয়াদে হামলার বিষয়ে সৌদি সরকার তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেনি। রয়টার্স জানিয়েছে, বর্তমান উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর এটি রাজধানী রিয়াদকে লক্ষ্য করে হুতিদের প্রথম প্রকাশ্য হামলার দাবি।
হুতিদের সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রায় বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এই প্রণালি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করে এবং আন্তর্জাতিক পণ্য ও জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে ওই এলাকায় জাহাজ চলাচলও প্রভাবিত হয়েছে।
সংঘাতের কারণে সৌদি আরব তার কিছু তেল রপ্তানি রুট পরিবর্তন করেছে। রয়টার্সের স্যাটেলাইট তথ্য অনুযায়ী, সৌদি তেলের হরমুজ প্রণালি দিয়ে দৈনিক পরিবহন আগস্টের প্রায় ৭ লাখ ব্যারেল থেকে সাম্প্রতিক সময়ে ২৯ লাখ ব্যারেলে উঠেছে।
নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় ইয়েমেনে মানবিক পরিস্থিতিও আরও কঠিন হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানিয়েছে, সাম্প্রতিক লড়াইয়ে ১ লাখের বেশি মানুষ দেশের ভেতরে বাস্তুচ্যুত হয়েছে, আর কয়েক হাজার মানুষ সমুদ্রপথে আফ্রিকার দিকে পালিয়েছে।
এদিকে কাহবুব পাহাড়ি অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই অব্যাহত থাকায় বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগরের নৌপথ এবং সৌদি আরবের তেল রপ্তানি ব্যবস্থার ওপর পরিস্থিতির প্রভাব আরও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে সামরিক পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল হওয়ায় বিভিন্ন পক্ষের দাবি ও নিয়ন্ত্রণের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন।



























