ঢাকা ০১:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo চন্দনাইশে পূবালী ব্যাংকের ‘ক্যাশলেস রওশনহাট’ ক্যাম্পেইন উদ্বোধন Logo বাংলাদেশের এলএনজি বাজারে এবার রাশিয়ার আগ্রহ, সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-চীন Logo তিন মাসেও বোর্ড নেই, কমছে আমানত, ইসলামী ব্যাংকের সামনে বড় সংকট Logo জবিতে সংঘর্ষ ও রিকশাচালককে মারধরের প্রতিবাদ ছাত্র ফ্রন্টের Logo ট্রাম্প-শির বৈঠকে বাণিজ্য, এআই ও বিরল খনিজ নিয়ে আলোচনা Logo ঢাবিতে অপ্রতিম-আজমুল হত্যার বিচারের দাবিতে মশাল মিছিল Logo চন্দনাইশে বসতভিটার বিরোধ নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ Logo চন্দনাইশে মাদকবিরোধী অভিযানে ২ মাদকসেবী গ্রেপ্তার, মোবাইল কোর্টে কারাদণ্ড Logo ওয়ান হেলথ: পরিবেশ-জনস্বাস্থ্য সমন্বয়ে মন্ত্রীর বার্তা Logo ট্রাম্পের হামলা বাতিলের পরই গুরুত্বপূর্ণ কাহবুব অঞ্চল নিয়ন্ত্রণে তীব্র অভিযান হুতিদের

বাংলাদেশের এলএনজি বাজারে এবার রাশিয়ার আগ্রহ, সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-চীন

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:২৭:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫৪৪

বাংলাদেশের এলএনজি অবকাঠামোতে যুক্তরাষ্ট্র, চীনের পর রাশিয়ার আগ্রহ। (ছবি: সংগৃহীত)

বাংলাদেশের বাড়তে থাকা এলএনজি চাহিদাকে ঘিরে আগ্রহ দেখাচ্ছে বিভিন্ন দেশের কোম্পানি। যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিলারেট এনার্জি ও চীনের একটি কোম্পানির পর এবার রাশিয়ার জ্বালানি কোম্পানি নোভাটেকও মহেশখালীতে এলএনজি অবকাঠামো নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে।

দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমে যাওয়ায় আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। বর্তমানে মহেশখালীতে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল রয়েছে, যেগুলোর সম্মিলিত সর্বোচ্চ সরবরাহ সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

বাংলাদেশ সরকারও এলএনজি সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। মহেশখালীতে নতুন একটি ভাসমান টার্মিনালের মাধ্যমে দৈনিক আরও ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য বিভিন্ন আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

চীনা কোম্পানির প্রস্তাবিত প্রকল্পের পাশাপাশি এবার রাশিয়ার নোভাটেকের প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে। নোভাটেক মিডলইস্ট পেট্রোবাংলার কাছে মহেশখালীতে সমুদ্রের তলদেশে স্থায়ী এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে।

নোভাটেকের প্রস্তাবে গ্র্যাভিটি বেইজড স্ট্রাকচার বা জিবিএসের ওপর টার্মিনাল নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। কোম্পানিটির হিসাবে, এতে প্রায় ৯৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে এবং দৈনিক ৯৫০ থেকে ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা তৈরি হতে পারে। তবে এসব হিসাব কোম্পানিটির নিজস্ব প্রাক্কলন।

প্রস্তাবিত স্থাপনার বিশেষত্ব হলো এটি সমুদ্রের তলদেশে স্থায়ীভাবে স্থাপন করা হবে। ভাসমান টার্মিনালের তুলনায় এর কাঠামো স্থির থাকবে। নোভাটেকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, টার্মিনালে এলএনজি সংরক্ষণ ও পুনর্গ্যাসীকরণের ব্যবস্থাও থাকবে।

এদিকে চীনা কোম্পানি সিএনইইর সঙ্গে মহেশখালীতে নতুন ভাসমান টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগও এগোচ্ছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই টার্মিনাল থেকে দৈনিক ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা যোগ হতে পারে।

বর্তমানে বাংলাদেশের এলএনজি সরবরাহে যুক্তরাষ্ট্রসহ একাধিক দেশের কোম্পানি রয়েছে। সরকার সরবরাহকারীর সংখ্যা বাড়িয়ে উৎসে বৈচিত্র্য আনার উদ্যোগও নিয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির পাশাপাশি স্পট মার্কেট থেকেও এলএনজি কেনা হচ্ছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্যাসের ঘাটতি মোকাবিলায় নতুন অবকাঠামো প্রয়োজন হলেও যেকোনো প্রকল্প নেওয়ার আগে অর্থনৈতিক সুবিধা, ব্যয়, ঝুঁকি ও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা বিবেচনা করা জরুরি। কারণ এলএনজি আমদানির ব্যয় যেমন বড়, তেমনি অবকাঠামো নির্মাণেও বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন।

জনপ্রিয় সংবাদ

চন্দনাইশে পূবালী ব্যাংকের ‘ক্যাশলেস রওশনহাট’ ক্যাম্পেইন উদ্বোধন

বাংলাদেশের এলএনজি বাজারে এবার রাশিয়ার আগ্রহ, সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-চীন

Update Time : ১১:২৭:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশের বাড়তে থাকা এলএনজি চাহিদাকে ঘিরে আগ্রহ দেখাচ্ছে বিভিন্ন দেশের কোম্পানি। যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিলারেট এনার্জি ও চীনের একটি কোম্পানির পর এবার রাশিয়ার জ্বালানি কোম্পানি নোভাটেকও মহেশখালীতে এলএনজি অবকাঠামো নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে।

দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমে যাওয়ায় আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। বর্তমানে মহেশখালীতে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল রয়েছে, যেগুলোর সম্মিলিত সর্বোচ্চ সরবরাহ সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

বাংলাদেশ সরকারও এলএনজি সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। মহেশখালীতে নতুন একটি ভাসমান টার্মিনালের মাধ্যমে দৈনিক আরও ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য বিভিন্ন আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

আরও পড়ুন  মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার ইঙ্গিতে তেলের দামে নিম্নগতি

চীনা কোম্পানির প্রস্তাবিত প্রকল্পের পাশাপাশি এবার রাশিয়ার নোভাটেকের প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে। নোভাটেক মিডলইস্ট পেট্রোবাংলার কাছে মহেশখালীতে সমুদ্রের তলদেশে স্থায়ী এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে।

নোভাটেকের প্রস্তাবে গ্র্যাভিটি বেইজড স্ট্রাকচার বা জিবিএসের ওপর টার্মিনাল নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। কোম্পানিটির হিসাবে, এতে প্রায় ৯৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে এবং দৈনিক ৯৫০ থেকে ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা তৈরি হতে পারে। তবে এসব হিসাব কোম্পানিটির নিজস্ব প্রাক্কলন।

আরও পড়ুন  জ্বালানি সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ

প্রস্তাবিত স্থাপনার বিশেষত্ব হলো এটি সমুদ্রের তলদেশে স্থায়ীভাবে স্থাপন করা হবে। ভাসমান টার্মিনালের তুলনায় এর কাঠামো স্থির থাকবে। নোভাটেকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, টার্মিনালে এলএনজি সংরক্ষণ ও পুনর্গ্যাসীকরণের ব্যবস্থাও থাকবে।

এদিকে চীনা কোম্পানি সিএনইইর সঙ্গে মহেশখালীতে নতুন ভাসমান টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগও এগোচ্ছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই টার্মিনাল থেকে দৈনিক ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা যোগ হতে পারে।

আরও পড়ুন  আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকে নতুন নেতৃত্ব, চেয়ারম্যান বদিউর রহমান

বর্তমানে বাংলাদেশের এলএনজি সরবরাহে যুক্তরাষ্ট্রসহ একাধিক দেশের কোম্পানি রয়েছে। সরকার সরবরাহকারীর সংখ্যা বাড়িয়ে উৎসে বৈচিত্র্য আনার উদ্যোগও নিয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির পাশাপাশি স্পট মার্কেট থেকেও এলএনজি কেনা হচ্ছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্যাসের ঘাটতি মোকাবিলায় নতুন অবকাঠামো প্রয়োজন হলেও যেকোনো প্রকল্প নেওয়ার আগে অর্থনৈতিক সুবিধা, ব্যয়, ঝুঁকি ও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা বিবেচনা করা জরুরি। কারণ এলএনজি আমদানির ব্যয় যেমন বড়, তেমনি অবকাঠামো নির্মাণেও বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন।