মুক্তির আগেই নতুন ইতিহাস তৈরি করেছে রাকা। আল্লু অর্জুন ও পরিচালক অ্যাটলির বহুল প্রতীক্ষিত এই সিনেমা ‘মোস্ট পিওপল মোশন-ক্যাপচারড ইন রিয়েল-টাইম’ বিভাগে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে জায়গা করে নিয়েছে। সিনেমাটির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সান পিকচার্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে। নির্মাতাদের দাবি অনুযায়ী, একসঙ্গে ৩৭ জন পারফর্মারের রিয়েল-টাইম মোশন ক্যাপচার করে এই রেকর্ড তৈরি করা হয়েছে। ফলে মুক্তির আগেই সিনেমাটি ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ আরও বেড়েছে।
সান পিকচার্সের প্রকাশ করা তথ্য অনুযায়ী, রাকার এই অর্জন ভারতীয় সিনেমার প্রযুক্তিনির্ভর নির্মাণের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য। রেকর্ডের স্বীকৃতি হিসেবে আল্লু অর্জুন ও অ্যাটলির হাতে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের সনদ তুলে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সিনেমাটির ভিএফএক্স ও মোশন ক্যাপচার প্রযুক্তিতে আন্তর্জাতিক মানের কাজ করার পরিকল্পনার কথা নির্মাতারা আগেই জানিয়েছিলেন। তাই মুক্তির আগেই এমন স্বীকৃতি পাওয়াকে সিনেমাটির নির্মাণযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে তুলে ধরছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান।
অ্যাটলির জন্মদিনেই রাকার এই বিশ্বরেকর্ডের খবর সামনে আসে। দিনটি আরও বিশেষ করে তুলতে পরিচালককে শুভেচ্ছা জানান আল্লু অর্জুন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুজনের একটি সাদা-কালো ছবি প্রকাশ করে অভিনেতা অ্যাটলির সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। দূরদর্শী ও দক্ষ পরিচালক হিসেবে অ্যাটলির প্রশংসা করে আল্লু অর্জুন জানান, তার সঙ্গে আরও নতুন কিছু তৈরির অপেক্ষায় আছেন। দুই তারকার এই জুটি নিয়ে সিনেমাপ্রেমীদের আগ্রহও শুরু থেকেই বেশ জোরালো।
এর আগে আল্লু অর্জুনের ৪৪তম জন্মদিনে রাকার প্রথম ঝলক প্রকাশ করেছিলেন নির্মাতারা। সেই ঝলকে অভিনেতাকে দেখা যায় একেবারে ভিন্ন চেহারায়। টাক মাথা, রুক্ষ মুখ এবং মুখের একটি অংশ নেকড়ের থাবার মতো দেখতে একটি উপাদান দিয়ে ঢাকা ছিল। পুরো লুকেই ছিল আদিম ও যোদ্ধাসুলভ আবহ। প্রথম ঝলক প্রকাশের পর থেকেই সিনেমাটির গল্প, চরিত্র ও নির্মাণশৈলী নিয়ে দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়। নতুন লুকটি আল্লু অর্জুনের আগের চরিত্রগুলোর তুলনায় বেশ আলাদা বলেও আলোচনায় আসে।
রাকার নির্মাণে শুধু তারকা ও পরিচালকের ওপরই জোর দেওয়া হয়নি, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রযুক্তিবিদদেরও যুক্ত করা হয়েছে। নির্মাতারা জানিয়েছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞরা সিনেমাটির ভিএফএক্স ও মোশন ক্যাপচারের কাজে অংশ নিয়েছেন। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ‘আয়রন ম্যান ২’ ও ‘ট্রান্সফরমার্স: রাইজ অব দ্য বিস্টস’-এর মতো সিনেমায় কাজ করা ভিএফএক্স সুপারভাইজার জেমস ম্যাডিগান। পাশাপাশি স্পেকট্রাল মোশনের প্রেসিডেন্ট মাইক এলিজালদে এবং ফ্র্যাকচার্ড এফএক্সের সঙ্গে যুক্ত অস্কারজয়ী জাস্টিন র্যালিসহ একাধিক আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিবিদ সিনেমাটির কাজে রয়েছেন।
সব মিলিয়ে রাকা মুক্তির আগেই সিনেমাপ্রেমীদের আলোচনায় উঠে এসেছে। একদিকে আল্লু অর্জুন ও অ্যাটলির মতো জনপ্রিয় নাম, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিবিদদের অংশগ্রহণ—সব মিলিয়ে সিনেমাটির নির্মাণে বড় পরিসরের প্রস্তুতির ইঙ্গিত মিলছে। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের স্বীকৃতি। এখন দর্শকদের আগ্রহ মূলত সিনেমাটি মুক্তির পর এই উচ্চাভিলাষী প্রযুক্তি ও ভিজ্যুয়াল নির্মাণ কতটা পর্দায় ফুটে ওঠে, তা দেখার দিকে।




























