ঢাকা ১১:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ওমান উপকূলে মার্কিন হামলা: ২ নাবিক নিখোঁজের ৭টি চাঞ্চল্যকর তথ্য Logo জমি বিক্রি করে সাড়ে ৭ কিলোমিটার জার্মানির পতাকা বানালেন কৃষক আমজাদ Logo রাশিয়ার ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রস্তাব দিল রোসাটম, বাংলাদেশে নতুন সম্ভাবনা Logo এস আলমের গাড়িতে চড়ে সংবর্ধনা নেওয়ার প্রসঙ্গ সংসদে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo প্রবাসী বাংলাদেশিদের সমস্যা সমাধানে সংসদীয় টাস্কফোর্স গঠনের দাবি Logo মেঘনায় নিখোঁজের ২৮ ঘণ্টা পর শিশুর লাশ উদ্ধার Logo পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন: ড. মঈন খান সভাপতি Logo বাজেট ২০২৬-২৭: নিকোটিন পাউচের দাম ৫০০ টাকা, সিগারেটের দামও বাড়তে পারে Logo ছোট ঘর সাজানোর উপায়: চমৎকার কৌশলে ঘর হবে বড় ও প্রশান্তিদায়ক Logo বালিশের নিচে রসুন রাখলে কি সত্যিই ঘুম ভালো হয়?

দিনে ৮ গ্লাস পানি—এই নিয়ম কি সবার জন্য সঠিক? জানুন আসল সত্য

শরীর অনুযায়ী কতটা পানি পান করা উচিত, জেনে নিন। ছবি: সংগৃহীত

প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি পান করা স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই মনে করেন, দিনে ৮ গ্লাস পানি পান করলেই শরীর ঠিকভাবে হাইড্রেটেড থাকে। তবে বাস্তবে এই ধারণাটি পুরোপুরি সঠিক নয়।

শরীরের পানির প্রয়োজনীয়তা একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম হয়। এটি নির্ভর করে বয়স, শরীরের ওজন, দৈনন্দিন কাজের মাত্রা এবং আবহাওয়ার ওপর। যেমন গরমের সময় বা বেশি শারীরিক পরিশ্রম করলে শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে বেশি পানি বের হয়ে যায়। ফলে তখন স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি পানি পান করা প্রয়োজন হয়।

অন্যদিকে যারা কম চলাফেরা করেন বা ঠান্ডা পরিবেশে থাকেন, তাদের ক্ষেত্রে পানির প্রয়োজন তুলনামূলক কম হতে পারে। তাই সবার জন্য এক নিয়ম প্রযোজ্য এমনটা ভাবা ঠিক নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের তৃষ্ণা একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হলেও এটি সব সময় নির্ভুল নির্দেশনা দেয় না। অনেক সময় শরীর হালকা ডিহাইড্রেটেড থাকলেও তৃষ্ণা তেমন বোঝা যায় না। তাই দিনের মধ্যে নিয়মিত বিরতিতে পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তোলা ভালো।

এছাড়া আমাদের দৈনন্দিন খাবার থেকেও শরীরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পানি প্রবেশ করে। তরমুজ, শসা, কমলা, দুধ বা স্যুপের মতো খাবার শরীরের পানির ঘাটতি পূরণে ভূমিকা রাখে। ফলে শুধু পানির গ্লাস গুনে হিসাব করাটা পুরো চিত্রটা বোঝায় না।

 শরীর অনুযায়ী পানি পানের সহজ গাইড

  • সাধারণভাবে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক ২–৩ লিটার পানি প্রয়োজন হতে পারে
  • বেশি ঘাম হলে বা ব্যায়াম করলে পানির পরিমাণ বাড়াতে হবে
  • গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী নারীদের ক্ষেত্রে পানির চাহিদা বেশি হয়
  • অসুস্থতা বা জ্বর থাকলে শরীরের পানি দ্রুত কমে যেতে পারে

পর্যাপ্ত পানি পাচ্ছেন কি না বুঝবেন যেভাবে

  • প্রস্রাবের রং যদি হালকা হলুদ বা প্রায় স্বচ্ছ হয়, তাহলে বুঝবেন শরীর হাইড্রেটেড
  • গা শুকিয়ে যাওয়া, মাথা ঘোরা বা ক্লান্তি অনুভব হলে পানির ঘাটতি থাকতে পারে
  • ঠোঁট ও ত্বক শুষ্ক হয়ে গেলে পানি বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে

 অতিরিক্ত পানি পানেও ঝুঁকি

অনেকে ভাবেন বেশি পানি মানেই বেশি উপকার। কিন্তু প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত পানি পান করলে শরীরের সোডিয়ামের মাত্রা কমে যেতে পারে, যা “ওভারহাইড্রেশন” নামে পরিচিত। এতে মাথা ব্যথা, বমি ভাব এমনকি গুরুতর শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

 তাই নির্দিষ্ট একটি সংখ্যার পেছনে না ছুটে নিজের শরীরের প্রয়োজন বুঝে পানি পান করাই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর উপায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

ওমান উপকূলে মার্কিন হামলা: ২ নাবিক নিখোঁজের ৭টি চাঞ্চল্যকর তথ্য

দিনে ৮ গ্লাস পানি—এই নিয়ম কি সবার জন্য সঠিক? জানুন আসল সত্য

Update Time : ১০:২৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি পান করা স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই মনে করেন, দিনে ৮ গ্লাস পানি পান করলেই শরীর ঠিকভাবে হাইড্রেটেড থাকে। তবে বাস্তবে এই ধারণাটি পুরোপুরি সঠিক নয়।

শরীরের পানির প্রয়োজনীয়তা একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম হয়। এটি নির্ভর করে বয়স, শরীরের ওজন, দৈনন্দিন কাজের মাত্রা এবং আবহাওয়ার ওপর। যেমন গরমের সময় বা বেশি শারীরিক পরিশ্রম করলে শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে বেশি পানি বের হয়ে যায়। ফলে তখন স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি পানি পান করা প্রয়োজন হয়।

অন্যদিকে যারা কম চলাফেরা করেন বা ঠান্ডা পরিবেশে থাকেন, তাদের ক্ষেত্রে পানির প্রয়োজন তুলনামূলক কম হতে পারে। তাই সবার জন্য এক নিয়ম প্রযোজ্য এমনটা ভাবা ঠিক নয়।

আরও পড়ুন  শিশুর শরীরে কালো দাগ কেন হয়? অ্যাকাথোসিস নিগ্রিক্যানস ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি জানুন

বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের তৃষ্ণা একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হলেও এটি সব সময় নির্ভুল নির্দেশনা দেয় না। অনেক সময় শরীর হালকা ডিহাইড্রেটেড থাকলেও তৃষ্ণা তেমন বোঝা যায় না। তাই দিনের মধ্যে নিয়মিত বিরতিতে পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তোলা ভালো।

এছাড়া আমাদের দৈনন্দিন খাবার থেকেও শরীরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পানি প্রবেশ করে। তরমুজ, শসা, কমলা, দুধ বা স্যুপের মতো খাবার শরীরের পানির ঘাটতি পূরণে ভূমিকা রাখে। ফলে শুধু পানির গ্লাস গুনে হিসাব করাটা পুরো চিত্রটা বোঝায় না।

আরও পড়ুন  পর্যাপ্ত ঘুম ও পুষ্টি: সুস্থ জীবনের ভারসাম্য

 শরীর অনুযায়ী পানি পানের সহজ গাইড

  • সাধারণভাবে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক ২–৩ লিটার পানি প্রয়োজন হতে পারে
  • বেশি ঘাম হলে বা ব্যায়াম করলে পানির পরিমাণ বাড়াতে হবে
  • গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী নারীদের ক্ষেত্রে পানির চাহিদা বেশি হয়
  • অসুস্থতা বা জ্বর থাকলে শরীরের পানি দ্রুত কমে যেতে পারে

পর্যাপ্ত পানি পাচ্ছেন কি না বুঝবেন যেভাবে

  • প্রস্রাবের রং যদি হালকা হলুদ বা প্রায় স্বচ্ছ হয়, তাহলে বুঝবেন শরীর হাইড্রেটেড
  • গা শুকিয়ে যাওয়া, মাথা ঘোরা বা ক্লান্তি অনুভব হলে পানির ঘাটতি থাকতে পারে
  • ঠোঁট ও ত্বক শুষ্ক হয়ে গেলে পানি বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে
আরও পড়ুন  ক্যান্সার হওয়ার আগে শরীর যে সংকেত দেয়

 অতিরিক্ত পানি পানেও ঝুঁকি

অনেকে ভাবেন বেশি পানি মানেই বেশি উপকার। কিন্তু প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত পানি পান করলে শরীরের সোডিয়ামের মাত্রা কমে যেতে পারে, যা “ওভারহাইড্রেশন” নামে পরিচিত। এতে মাথা ব্যথা, বমি ভাব এমনকি গুরুতর শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

 তাই নির্দিষ্ট একটি সংখ্যার পেছনে না ছুটে নিজের শরীরের প্রয়োজন বুঝে পানি পান করাই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর উপায়।