লিমন–বৃষ্টি নিখোঁজের আগে চ্যাটজিপিটি প্রশ্ন কী ছিল? ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজনের চাঞ্চল্যকর তথ্য জানুন।
লিমন–বৃষ্টি নিখোঁজের আগে চ্যাটজিপিটি প্রশ্ন নিয়ে নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার মাত্র কয়েকদিন আগে সন্দেহভাজন খুনি হিশাম সালেহ আবুঘরবেহ চ্যাটজিপিটিকে একাধিক সন্দেহজনক প্রশ্ন করেছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন আগে আবুঘরবেহ জানতে চান, কোনো ব্যক্তিকে যদি কালো রঙের আবর্জনার ব্যাগে ভরে ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হয়, তাহলে কী ঘটতে পারে। এই প্রশ্নটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ এটি সম্ভাব্য অপরাধের পূর্বপরিকল্পনার ইঙ্গিত দেয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় নিহত দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হলেন জামিল আহমেদ লিমন এবং নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। তারা যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করছিলেন। লিমনের সঙ্গে একই অ্যাপার্টমেন্টে বসবাস করতেন অভিযুক্ত আবুঘরবেহ, যা তদন্তকে আরও জটিল করে তুলেছে।
নিখোঁজ হওয়ার পর ফরেনসিক দল ঘটনাস্থলে গিয়ে লিমনের অ্যাপার্টমেন্টে রক্তের চিহ্ন খুঁজে পায়। এছাড়া আবর্জনা ফেলার স্থান থেকে উদ্ধার করা হয় লিমনের মানিব্যাগ, চশমা এবং একটি গোলাপি আইফোন কাভার, যা বৃষ্টির বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব আলামত হত্যাকাণ্ডের শক্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আদালতে জমা দেওয়া নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আবুঘরবেহ চ্যাটজিপিটিকে পরবর্তীতে জিজ্ঞাসা করেন, “তারা কীভাবে জানতে পারবে?” যা তার অপরাধ লুকানোর চিন্তার ইঙ্গিত দেয়। এছাড়া তিনি গাড়ির ভিআইএন নম্বর পরিবর্তন এবং লাইসেন্স ছাড়া অস্ত্র রাখার বিষয়েও প্রশ্ন করেছিলেন।
তদন্তে জানা গেছে, দুই শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার পর গভীর রাতে আবুঘরবেহ গাড়ি চালিয়ে বিভিন্ন এলাকায় যান। তার গাড়ির গতিপথ এবং লিমনের মোবাইল ফোনের সিগন্যালের অবস্থান একসঙ্গে মিল পাওয়া গেছে, যা সন্দেহ আরও জোরালো করেছে।
পরবর্তীতে ফ্লোরিডার একটি ব্রিজ এলাকায় কালো আবর্জনার ব্যাগ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং শরীরে কোনো পোশাক ছিল না। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ইতোমধ্যে আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তার বিরুদ্ধে ফার্স্ট ডিগ্রি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তারা আদালতে তাকে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে রাখার আবেদন জানিয়েছেন।
এই ঘটনাটি শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়, বরং প্রযুক্তির অপব্যবহারের একটি বড় উদাহরণ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে অপরাধ পরিকল্পনা করা একটি নতুন উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সবশেষে বলা যায়, লিমন–বৃষ্টি নিখোঁজের আগে চ্যাটজিপিটি প্রশ্ন ঘটনাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে সামনে এসেছে। এটি তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং ভবিষ্যতে প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে আরও সতর্ক হওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

























