ঢাকা ১০:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান আত্মসমর্পণ প্রসঙ্গে ট্রাম্পের বক্তব্য

  • Kamrun Nahar Sumi
  • Update Time : ০৭:০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫০৫

যুক্তরাষ্ট্রের ওভাল অফিসে প্রেসিডেন্টের বক্তব্য। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও চূড়ান্ত সমঝোতার জন্য ইরানকে আত্মসমর্পণ করতে হবে। তিনি জানান, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা পুরোপুরি বন্ধ না হলে কোনো ধরনের চুক্তি সম্ভব নয়।

বাংলাদেশ সময় বুধবার (২৯ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা তাদের লাইভ আপডেটে জানায়, ওয়াশিংটন ডিসির ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করুক।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, আলোচনার মূল প্রশ্ন হচ্ছে ইরান কতটা অগ্রসর হতে প্রস্তুত। তার ভাষায়, “ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না—এই বিষয়ে একমত না হলে কোনো চুক্তি সম্ভব নয়।” এ অবস্থান থেকেই যুক্তরাষ্ট্র তাদের কূটনৈতিক চাপ বজায় রেখেছে।

ট্রাম্প আরও বলেন, ইরান যদি সহজভাবে ঘোষণা করে যে তারা আত্মসমর্পণ করেছে এবং পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করবে, তাহলে আলোচনার পথ আরও সহজ হবে। তবে এ বিষয়ে ইরানের অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়।

এর আগে ইরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমনের লক্ষ্যে একটি শান্তি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রস্তাবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু শর্ত হিসেবে পারমাণবিক আলোচনা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখার দাবি জানানো হয়েছিল।

ওয়াশিংটন সেই শর্ত প্রত্যাখ্যান করে জানায়, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা বন্ধ করা সম্ভব নয়। ফলে শান্তি আলোচনা আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত সামরিক ও অর্থনৈতিক অবরোধের কারণে ইরানের অর্থনীতি বড় ধরনের চাপের মধ্যে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে তেহরানকে নতুন পারমাণবিক চুক্তিতে রাজি করাতে চাইছে ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন মনে করছে, ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতি অব্যাহত রাখলে শেষ পর্যন্ত ইরানকে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ চুক্তির পথে আসতে বাধ্য করা সম্ভব হবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান আত্মসমর্পণ প্রসঙ্গে ট্রাম্পের বক্তব্য

Update Time : ০৭:০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও চূড়ান্ত সমঝোতার জন্য ইরানকে আত্মসমর্পণ করতে হবে। তিনি জানান, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা পুরোপুরি বন্ধ না হলে কোনো ধরনের চুক্তি সম্ভব নয়।

বাংলাদেশ সময় বুধবার (২৯ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা তাদের লাইভ আপডেটে জানায়, ওয়াশিংটন ডিসির ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করুক।

আরও পড়ুন  যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশসহ যেসব দেশের জন্য ভিসা স্থগিত করল

মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, আলোচনার মূল প্রশ্ন হচ্ছে ইরান কতটা অগ্রসর হতে প্রস্তুত। তার ভাষায়, “ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না—এই বিষয়ে একমত না হলে কোনো চুক্তি সম্ভব নয়।” এ অবস্থান থেকেই যুক্তরাষ্ট্র তাদের কূটনৈতিক চাপ বজায় রেখেছে।

ট্রাম্প আরও বলেন, ইরান যদি সহজভাবে ঘোষণা করে যে তারা আত্মসমর্পণ করেছে এবং পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করবে, তাহলে আলোচনার পথ আরও সহজ হবে। তবে এ বিষয়ে ইরানের অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়।

আরও পড়ুন  বিশ্ব বাণিজ্যে ধাক্কা! হরমুজ প্রণালি বন্ধে অনড় ইরান, বাড়ছে তেল সংকটের শঙ্কা

এর আগে ইরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমনের লক্ষ্যে একটি শান্তি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রস্তাবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু শর্ত হিসেবে পারমাণবিক আলোচনা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখার দাবি জানানো হয়েছিল।

ওয়াশিংটন সেই শর্ত প্রত্যাখ্যান করে জানায়, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা বন্ধ করা সম্ভব নয়। ফলে শান্তি আলোচনা আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।

আরও পড়ুন  ইরান যুদ্ধ বিশ্বমন্দা আশঙ্কা: আইএমএফের সতর্কবার্তা

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত সামরিক ও অর্থনৈতিক অবরোধের কারণে ইরানের অর্থনীতি বড় ধরনের চাপের মধ্যে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে তেহরানকে নতুন পারমাণবিক চুক্তিতে রাজি করাতে চাইছে ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন মনে করছে, ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতি অব্যাহত রাখলে শেষ পর্যন্ত ইরানকে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ চুক্তির পথে আসতে বাধ্য করা সম্ভব হবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।