ঢাকা ১০:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিএমপির অভিযানে ৩৯ চাঁদাবাজ গ্রেপ্তার ঢাকায়

  • Asrafi Al Nahin
  • Update Time : ০৮:৩১:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
  • ৫১০

ডিএমপির অভিযানে ৩৯ চাঁদাবাজ গ্রেপ্তার ঢাকায়

রাজধানীতে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস দমনে সাঁড়াশি অভিযান জোরদার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। নগরজুড়ে চলমান এই অভিযানে গতকাল রোববার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত মিলিয়ে মোট ৩৯ জন চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ অভিযান ধারাবাহিকভাবে চলবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজনদের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়। সেই তালিকা ধরে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা—বাণিজ্যিক জোন, পরিবহন কেন্দ্র এবং জনবহুল স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম অংশ নেয় এবং সমন্বিত তৎপরতার মাধ্যমে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিএমপির মুখপাত্র উপকমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন জানিয়েছেন, সর্বশেষ অভিযানে মোট ৫৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ রয়েছে ৭ জন এবং তালিকার বাইরে থাকা আরও ৩২ জনকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৫ জন সন্ত্রাসীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যারা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, ডিএমপি কমিশনার মো. সরওয়ার জানিয়েছেন, এই অভিযান কোনো বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। তিনি বলেন, ১ মে থেকে রাজধানীজুড়ে চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি এবং অনলাইন জুয়া চক্রের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান শুরু হয়েছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় তালিকাভুক্ত ৫৮ জন চাঁদাবাজ এবং তাদের ৯৪ জন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা অভিযানের ব্যাপ্তি ও তীব্রতা স্পষ্ট করে।

তিনি আরও বলেন, রাজধানীতে অপরাধের মূল শিকড় উপড়ে ফেলার লক্ষ্যে ডিএমপি কাজ করছে। শুধু গ্রেপ্তার করাই নয়, অপরাধচক্রের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া এবং ভবিষ্যতে এমন কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করাও এই অভিযানের প্রধান উদ্দেশ্য। এ জন্য গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে আসছিল। তারা ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করত। এই ধরনের অপরাধ বন্ধ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

নগরবাসীর মধ্যেও এই অভিযানে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, নিয়মিত ও ধারাবাহিক অভিযান চালানো হলে রাজধানীতে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। বিশেষ করে ব্যবসায়ীরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন, কারণ চাঁদাবাজির কারণে তাদের দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে।

ডিএমপি জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অপরাধচক্রের আরও সদস্যদের শনাক্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন থানায় মামলা দায়ের প্রক্রিয়া চলছে। অভিযানের আওতা আরও বাড়ানো হবে এবং কোনো অপরাধীই আইনের আওতার বাইরে থাকবে না বলে কঠোর বার্তা দিয়েছে পুলিশ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের সাঁড়াশি অভিযান তাৎক্ষণিকভাবে অপরাধ দমনে কার্যকর হলেও দীর্ঘমেয়াদে সফল হতে হলে নিয়মিত নজরদারি, জনসচেতনতা এবং আইন প্রয়োগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি। পাশাপাশি সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণগুলোও বিবেচনায় নিতে হবে, যাতে অপরাধে জড়ানোর প্রবণতা কমে আসে।

সব মিলিয়ে, রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে ডিএমপির এই উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং ধারাবাহিক অভিযান নগরবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডিএমপির অভিযানে ৩৯ চাঁদাবাজ গ্রেপ্তার ঢাকায়

Update Time : ০৮:৩১:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

রাজধানীতে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস দমনে সাঁড়াশি অভিযান জোরদার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। নগরজুড়ে চলমান এই অভিযানে গতকাল রোববার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত মিলিয়ে মোট ৩৯ জন চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ অভিযান ধারাবাহিকভাবে চলবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজনদের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়। সেই তালিকা ধরে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা—বাণিজ্যিক জোন, পরিবহন কেন্দ্র এবং জনবহুল স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম অংশ নেয় এবং সমন্বিত তৎপরতার মাধ্যমে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিএমপির মুখপাত্র উপকমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন জানিয়েছেন, সর্বশেষ অভিযানে মোট ৫৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ রয়েছে ৭ জন এবং তালিকার বাইরে থাকা আরও ৩২ জনকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৫ জন সন্ত্রাসীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যারা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  ওসমান হাদি হত্যা: আদালতে স্বীকারোক্তি দিলেন অস্ত্র সরবরাহকারী

অন্যদিকে, ডিএমপি কমিশনার মো. সরওয়ার জানিয়েছেন, এই অভিযান কোনো বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। তিনি বলেন, ১ মে থেকে রাজধানীজুড়ে চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি এবং অনলাইন জুয়া চক্রের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান শুরু হয়েছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় তালিকাভুক্ত ৫৮ জন চাঁদাবাজ এবং তাদের ৯৪ জন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা অভিযানের ব্যাপ্তি ও তীব্রতা স্পষ্ট করে।

তিনি আরও বলেন, রাজধানীতে অপরাধের মূল শিকড় উপড়ে ফেলার লক্ষ্যে ডিএমপি কাজ করছে। শুধু গ্রেপ্তার করাই নয়, অপরাধচক্রের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া এবং ভবিষ্যতে এমন কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করাও এই অভিযানের প্রধান উদ্দেশ্য। এ জন্য গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  হত্যার আগে প্রযুক্তি থেকে তথ্য খোঁজার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রে আলোচিত দুই বাংলাদেশির মামলা

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে আসছিল। তারা ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করত। এই ধরনের অপরাধ বন্ধ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

নগরবাসীর মধ্যেও এই অভিযানে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, নিয়মিত ও ধারাবাহিক অভিযান চালানো হলে রাজধানীতে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। বিশেষ করে ব্যবসায়ীরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন, কারণ চাঁদাবাজির কারণে তাদের দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে।

আরও পড়ুন  বেইলি রোডের আগুনের ঘটনায় ১৩ পলাতক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

ডিএমপি জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অপরাধচক্রের আরও সদস্যদের শনাক্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন থানায় মামলা দায়ের প্রক্রিয়া চলছে। অভিযানের আওতা আরও বাড়ানো হবে এবং কোনো অপরাধীই আইনের আওতার বাইরে থাকবে না বলে কঠোর বার্তা দিয়েছে পুলিশ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের সাঁড়াশি অভিযান তাৎক্ষণিকভাবে অপরাধ দমনে কার্যকর হলেও দীর্ঘমেয়াদে সফল হতে হলে নিয়মিত নজরদারি, জনসচেতনতা এবং আইন প্রয়োগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি। পাশাপাশি সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণগুলোও বিবেচনায় নিতে হবে, যাতে অপরাধে জড়ানোর প্রবণতা কমে আসে।

সব মিলিয়ে, রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে ডিএমপির এই উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং ধারাবাহিক অভিযান নগরবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।