অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিন এলাকায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনার জন্ম দিয়েছে ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারীরা। এক ফিলিস্তিনি পরিবারকে তাদের বাবার লাশ কবর থেকে তুলে অন্য স্থানে সরিয়ে নিতে বাধ্য করা হয়েছে। দাফনের মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর এমন ঘটনা ঘটায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, স্থানীয় কবরস্থানে দাফনের পর হঠাৎ করে একদল ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারী সেখানে উপস্থিত হয়। তারা দাবি করে, কবরস্থানের জমিটি নিকটবর্তী ‘সা-নুর’ বসতির অন্তর্ভুক্ত। সেই দাবি দেখিয়ে তারা মৃত ব্যক্তির লাশ সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়।
পরিবারটি জানায়, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে বাধ্য হয়েই তারা কবর খুঁড়ে বাবার মরদেহ অন্যত্র সরিয়ে নেয়। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ঘটনার সময় তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। প্রিয়জনকে দাফনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবার কবর খুলতে হওয়া তাদের জন্য ছিল অত্যন্ত কষ্টকর ও অপমানজনক অভিজ্ঞতা। স্থানীয় ফিলিস্তিনিরা এই ঘটনাকে মানবিক মূল্যবোধের চরম লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারীদের দখল ও দমননীতি দিন দিন আরও কঠোর হয়ে উঠছে। শুধু জীবিত মানুষ নয়, মৃত ব্যক্তিদের প্রতিও অসম্মান দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পর জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক দপ্তর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে চলমান অমানবিক আচরণের ধারাবাহিকতারই অংশ এই ঘটনা। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও মানবিক মূল্যবোধ রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে তারা। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে দীর্ঘদিন ধরেই জমি দখল, বসতি সম্প্রসারণ এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর চাপ প্রয়োগের ঘটনা ঘটছে। তবে কবর থেকে মরদেহ সরিয়ে নিতে বাধ্য করার মতো ঘটনা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে নতুনভাবে সামনে এনেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ঘটনা শুধু একটি পরিবারের ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, বরং পুরো অঞ্চলে চলমান দখল ও উত্তেজনার প্রতীক। ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা এবং ভয় আরও বাড়িয়ে তুলছে এমন কর্মকাণ্ড। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই এটিকে মানবাধিকারের চরম অবমাননা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বিভিন্ন মানবাধিকারকর্মী ও সাধারণ মানুষ।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এখনো এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত বিবৃতি না দিলেও স্থানীয় নেতারা ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বলছেন, মৃত ব্যক্তিদের সম্মান রক্ষা করা সব ধর্ম ও সংস্কৃতির মৌলিক অংশ। সেই মানবিক মূল্যবোধও এখন আক্রান্ত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতের কারণে পশ্চিম তীরের সাধারণ মানুষের জীবন অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। প্রতিদিন নতুন নতুন সহিংসতা, অভিযান এবং জমি দখলের অভিযোগ সামনে আসছে। এই ঘটনার পর নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফিলিস্তিনি পরিবারটির জন্য ঘটনাটি শুধু একটি কবর সরানোর বিষয় নয়, বরং তাদের আবেগ, সম্মান এবং মানবিক অধিকারের ওপর আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, এমন ঘটনা মানুষের মনে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত তৈরি করে।
সূত্র: আল জাজিরা




























