ঢাকা ০২:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

কারাবন্দি আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল লতিফের মৃত্যু

কারাবন্দি

তিনটি হত্যা মামলায় কারাবন্দি সাতক্ষীরা জেলা জজকোর্টের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেতা আব্দুল লতিফ মারা গেছেন। সোমবার ভোরে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। কারাগারে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।

কারা সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত ৩টার দিকে সাতক্ষীরা জেলা কারাগারের ভেতরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন আব্দুল লতিফ। তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে কারা কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে তাকে হাসপাতালে পাঠায়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

সাতক্ষীরা জেলা কারাগারের জেলার দুলাল কর্মকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রাতের দিকে বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগতে শুরু করেন আব্দুল লতিফ। কারা চিকিৎসকের পরামর্শে দ্রুত তাকে সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুর রহমান জানিয়েছেন, রাত ৩টা ৩৫ মিনিটে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি মারা যান।

চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, বুকে ব্যথাজনিত জটিলতার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। যদিও চূড়ান্ত কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী সব ধরনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

এ ঘটনায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারাও হাসপাতালে উপস্থিত হন। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরপর ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদুর রহমান বলেন, আইনগত প্রক্রিয়া মেনেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মৃত্যুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে যোগাযোগ রাখা হয়েছে।

আব্দুল লতিফ সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কামার বায়সা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি মৃত মুনসুর সরদারের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি স্থানীয় রাজনীতি ও আইনজীবী অঙ্গনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।

রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি তিনি সাতক্ষীরা জেলা জজ আদালতের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। আইনজীবী মহলে তার পরিচিতি ছিল বেশ বিস্তৃত।

আওয়ামী লীগের জেলা কমিটির উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন আব্দুল লতিফ। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন তিনি। স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি দীর্ঘদিন প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

তবে তার রাজনৈতিক ও পেশাগত জীবন নানা বিতর্কেরও জন্ম দেয়। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সাতক্ষীরা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহম্মেদ রবির সুপারিশে তিনি পিপি হিসেবে নিয়োগ পান। ওই নিয়োগকে কেন্দ্র করে তখন আইনজীবীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল।

সেই সময় তার বিরুদ্ধে কয়েক দফা আন্দোলন ও কর্মসূচিও পালন করেছিলেন আইনজীবীদের একাংশ। আদালতপাড়ায় প্রভাব বিস্তার এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন বিষয়ে কর্তৃত্বের অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে। যদিও এসব অভিযোগ নিয়ে প্রকাশ্যে খুব কমই কথা বলেছেন তিনি।

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের দাবি, দায়িত্ব পালনকালে আদালতপাড়া নিয়ন্ত্রণসহ নানা কর্মকাণ্ডে তার প্রভাব ছিল উল্লেখযোগ্য। ভারতীয় গরুর খাটাল ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন খাত থেকে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিচারিক নিষ্পত্তির তথ্য পাওয়া যায়নি।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সাতক্ষীরায় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা শুরু হয়। সেই ধারাবাহিকতায় আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধেও আটটি হত্যা ও নাশকতার মামলা দায়ের করা হয়।

তার ছেলে রাসেলের বিরুদ্ধেও তিনটি মামলা হয় বলে জানিয়েছে পরিবার। মামলার পর থেকেই তারা আত্মগোপনে চলে যান। পরিবারের সদস্যদের দাবি, গ্রেপ্তার এড়াতে তারা দীর্ঘদিন খুলনায় অবস্থান করছিলেন।

নিহতের মেয়ে শাম্মি জানান, ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর খুলনার বয়রা এলাকা থেকে পুলিশ তার বাবা ও ভাইকে গ্রেপ্তার করে। এরপর তাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম চলতে থাকে। গ্রেপ্তারের পর থেকেই আব্দুল লতিফ কারাগারে বন্দি ছিলেন।

পরিবারের দাবি, কারাগারে থাকা অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছিল। তবে তারা নিয়মিত উন্নত চিকিৎসার সুযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। যদিও এ বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

অন্যদিকে, কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দিদের চিকিৎসার বিষয়ে নিয়মিত নজরদারি রাখা হয়। আব্দুল লতিফ অসুস্থ হওয়ার পর দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও দাবি তাদের। জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতিতে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও আইনজীবী হিসেবে তার দীর্ঘ কর্মজীবনের কথা স্মরণ করছেন অনেকে। কয়েকজন সিনিয়র আইনজীবী তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও এ মৃত্যু নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের একাংশ তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে বিরোধী রাজনৈতিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

মানবাধিকারকর্মীদের কেউ কেউ কারাগারে বন্দিদের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন। তারা বলছেন, অসুস্থ বন্দিদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি। এ ধরনের মৃত্যুর ঘটনায় স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলেও মত দিয়েছেন তারা।

তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পুরো ঘটনাই নিয়ম মেনে পরিচালিত হচ্ছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।

আব্দুল লতিফের মৃত্যুতে সাতক্ষীরার রাজনৈতিক ও আইনজীবী অঙ্গনে এক ধরনের আলোড়ন তৈরি হয়েছে। বিতর্কিত হলেও স্থানীয় পর্যায়ে তিনি পরিচিত একটি মুখ ছিলেন। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে স্থানীয় রাজনীতির একটি আলোচিত অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল বলে মনে করছেন অনেকে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গোপালগঞ্জ আওয়ামী লীগ নেতা বিএনপিতে যোগদান

কারাবন্দি আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল লতিফের মৃত্যু

Update Time : ০২:১৩:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

তিনটি হত্যা মামলায় কারাবন্দি সাতক্ষীরা জেলা জজকোর্টের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেতা আব্দুল লতিফ মারা গেছেন। সোমবার ভোরে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। কারাগারে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।

কারা সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত ৩টার দিকে সাতক্ষীরা জেলা কারাগারের ভেতরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন আব্দুল লতিফ। তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে কারা কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে তাকে হাসপাতালে পাঠায়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

সাতক্ষীরা জেলা কারাগারের জেলার দুলাল কর্মকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রাতের দিকে বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগতে শুরু করেন আব্দুল লতিফ। কারা চিকিৎসকের পরামর্শে দ্রুত তাকে সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুর রহমান জানিয়েছেন, রাত ৩টা ৩৫ মিনিটে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি মারা যান।

চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, বুকে ব্যথাজনিত জটিলতার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। যদিও চূড়ান্ত কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী সব ধরনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

এ ঘটনায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারাও হাসপাতালে উপস্থিত হন। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরপর ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

আরও পড়ুন  ভোরে অঝোরে বৃষ্টি ঢাকায় জলাবদ্ধতা: বিভিন্ন সড়কে পানি জমে ভোগান্তি

সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদুর রহমান বলেন, আইনগত প্রক্রিয়া মেনেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মৃত্যুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে যোগাযোগ রাখা হয়েছে।

আব্দুল লতিফ সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কামার বায়সা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি মৃত মুনসুর সরদারের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি স্থানীয় রাজনীতি ও আইনজীবী অঙ্গনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।

রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি তিনি সাতক্ষীরা জেলা জজ আদালতের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। আইনজীবী মহলে তার পরিচিতি ছিল বেশ বিস্তৃত।

আওয়ামী লীগের জেলা কমিটির উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন আব্দুল লতিফ। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন তিনি। স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি দীর্ঘদিন প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

তবে তার রাজনৈতিক ও পেশাগত জীবন নানা বিতর্কেরও জন্ম দেয়। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সাতক্ষীরা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহম্মেদ রবির সুপারিশে তিনি পিপি হিসেবে নিয়োগ পান। ওই নিয়োগকে কেন্দ্র করে তখন আইনজীবীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল।

সেই সময় তার বিরুদ্ধে কয়েক দফা আন্দোলন ও কর্মসূচিও পালন করেছিলেন আইনজীবীদের একাংশ। আদালতপাড়ায় প্রভাব বিস্তার এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন বিষয়ে কর্তৃত্বের অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে। যদিও এসব অভিযোগ নিয়ে প্রকাশ্যে খুব কমই কথা বলেছেন তিনি।

আরও পড়ুন  মাইক বিভ্রাটে থমকে গেল জাতীয় সংসদ, স্পিকারের ক্ষোভ—‘এটা জাতির জন্য লজ্জার’

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের দাবি, দায়িত্ব পালনকালে আদালতপাড়া নিয়ন্ত্রণসহ নানা কর্মকাণ্ডে তার প্রভাব ছিল উল্লেখযোগ্য। ভারতীয় গরুর খাটাল ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন খাত থেকে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিচারিক নিষ্পত্তির তথ্য পাওয়া যায়নি।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সাতক্ষীরায় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা শুরু হয়। সেই ধারাবাহিকতায় আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধেও আটটি হত্যা ও নাশকতার মামলা দায়ের করা হয়।

তার ছেলে রাসেলের বিরুদ্ধেও তিনটি মামলা হয় বলে জানিয়েছে পরিবার। মামলার পর থেকেই তারা আত্মগোপনে চলে যান। পরিবারের সদস্যদের দাবি, গ্রেপ্তার এড়াতে তারা দীর্ঘদিন খুলনায় অবস্থান করছিলেন।

নিহতের মেয়ে শাম্মি জানান, ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর খুলনার বয়রা এলাকা থেকে পুলিশ তার বাবা ও ভাইকে গ্রেপ্তার করে। এরপর তাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম চলতে থাকে। গ্রেপ্তারের পর থেকেই আব্দুল লতিফ কারাগারে বন্দি ছিলেন।

পরিবারের দাবি, কারাগারে থাকা অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছিল। তবে তারা নিয়মিত উন্নত চিকিৎসার সুযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। যদিও এ বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

অন্যদিকে, কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দিদের চিকিৎসার বিষয়ে নিয়মিত নজরদারি রাখা হয়। আব্দুল লতিফ অসুস্থ হওয়ার পর দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও দাবি তাদের। জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন  সিলেটে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে ৮ শ্রমিক নিহত , সিলেটে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষ

তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতিতে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও আইনজীবী হিসেবে তার দীর্ঘ কর্মজীবনের কথা স্মরণ করছেন অনেকে। কয়েকজন সিনিয়র আইনজীবী তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও এ মৃত্যু নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের একাংশ তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে বিরোধী রাজনৈতিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

মানবাধিকারকর্মীদের কেউ কেউ কারাগারে বন্দিদের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন। তারা বলছেন, অসুস্থ বন্দিদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি। এ ধরনের মৃত্যুর ঘটনায় স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলেও মত দিয়েছেন তারা।

তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পুরো ঘটনাই নিয়ম মেনে পরিচালিত হচ্ছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।

আব্দুল লতিফের মৃত্যুতে সাতক্ষীরার রাজনৈতিক ও আইনজীবী অঙ্গনে এক ধরনের আলোড়ন তৈরি হয়েছে। বিতর্কিত হলেও স্থানীয় পর্যায়ে তিনি পরিচিত একটি মুখ ছিলেন। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে স্থানীয় রাজনীতির একটি আলোচিত অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল বলে মনে করছেন অনেকে।