ঢাকা ০১:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম পাকিস্তান: স্মরণীয় টেস্ট জয়ে সোবার্সকে বিশেষ শ্রদ্ধা Logo কুকুরেয়া ট্যাটু: বিশ্বকাপ জয়ের প্রতিশ্রুতির দুর্দান্ত গল্প Logo তাজা নাকি হিমায়িত ফল-সবজি, কোনটিতে বেশি পুষ্টিগুণ? Logo ব্রিকস সম্মেলন ২০২৬: দিল্লির আমন্ত্রণে বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত, কী হতে পারে বড় বার্তা? Logo গিবত কেন বড় গুনাহ? বাঁচার ৭টি ইসলামী উপায় Logo পিসিওএস কী? নারীদের নীরব এই সমস্যার লক্ষণ, কারণ ও করণীয় Logo ২০২৭ হজ নিবন্ধন শুরু Logo সীতাকুণ্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে স্ক্র্যাপবাহী লরিতে হঠাৎ আগুন। Logo রিহ্যাবের আবাসন মেলা স্থগিত: বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে অনিশ্চয়তায় এজিএম Logo ডিও লেটার জালিয়াতির অভিযোগে এসি ল্যান্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

গিবত কেন বড় গুনাহ? বাঁচার ৭টি ইসলামী উপায়

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:৪৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
  • ৫২৫

গিবত থেকে বাঁচতে ইসলাম সংযত ভাষা ও উত্তম চরিত্রের শিক্ষা দেয়। ছবি: সংগৃহীত

গিবত থেকে বাঁচার উপায় জানা প্রতিটি মুসলমানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম মানুষের সম্মান রক্ষা, সুন্দর চরিত্র গঠন এবং সংযত ভাষা ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। অনেক সময় অজান্তেই আমরা এমন কথা বলে ফেলি, যা অন্যের সম্মানহানি করে এবং গিবতের মতো বড় গুনাহে জড়িয়ে ফেলে। তাই একজন মুমিনের উচিত নিজের জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং এমন কথা এড়িয়ে চলা, যা আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ হতে পারে।

প্রথমত, কথা বলার আগে চিন্তা করা জরুরি। কোনো কথা সত্য হলেও যদি তা কারও সম্মান ক্ষুণ্ন করে বা অপ্রয়োজনীয় হয়, তাহলে নীরব থাকাই উত্তম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন উত্তম কথা বলে অথবা নীরব থাকে।” (সহিহ বুখারি: ৬১৩৮)

দ্বিতীয়ত, জিহ্বাকে সবসময় কল্যাণকর কাজে ব্যস্ত রাখা উচিত। কোরআন তিলাওয়াত, জিকির, ইস্তিগফার ও দোয়া মানুষের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে এবং অনর্থক আলোচনা থেকে দূরে রাখে। আল্লাহর স্মরণে ব্যস্ত থাকলে গিবতে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাও অনেক কমে যায়।

তৃতীয়ত, যেখানে গিবত বা পরনিন্দার আলোচনা হয়, সেই আসর এড়িয়ে চলা উচিত। কেউ কারও অনুপস্থিতিতে সমালোচনা করলে সম্ভব হলে বিষয় পরিবর্তন করা বা বিনয়ের সঙ্গে গিবত থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো উচিত। পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকলে সে স্থান ত্যাগ করাই উত্তম।

চতুর্থত, অন্যের দোষ খোঁজার পরিবর্তে নিজের ভুল-ত্রুটি সংশোধনের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। আত্মসমালোচনা মানুষকে বিনয়ী করে এবং অন্যের প্রতি সম্মান ও সহমর্মিতা বাড়ায়। হজরত উমর (রা.) বলেছেন, “তোমরা নিজেদের হিসাব নাও, তোমাদের হিসাব নেওয়ার আগে।”

পঞ্চমত, অন্যের সম্মান রক্ষা করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। কোনো মুসলমানের দোষ প্রচার না করে তার জন্য দোয়া করা এবং প্রয়োজনে একান্তে সংশোধনের চেষ্টা করাই ইসলামের শিক্ষা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের দোষ গোপন রাখে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ গোপন রাখবেন।” (সহিহ মুসলিম: ২৬৯৯)

ষষ্ঠত, মৃত্যুকে বেশি বেশি স্মরণ করা উচিত। মৃত্যুর কথা মনে থাকলে মানুষ বুঝতে পারে, একদিন আল্লাহর কাছে প্রতিটি কথা ও কাজের হিসাব দিতে হবে। এই উপলব্ধি জিহ্বাকে সংযত রাখতে এবং গুনাহ থেকে দূরে থাকতে সহায়তা করে।

সপ্তমত, অসাবধানতাবশত গিবত হয়ে গেলে দ্রুত আল্লাহর কাছে আন্তরিক তওবা করা উচিত। পাশাপাশি যার গিবত করা হয়েছে, তার জন্য দোয়া করা এবং ভবিষ্যতে এমন ভুল না করার দৃঢ় সংকল্প নেওয়া একজন মুমিনের কর্তব্য। আল্লাহ তাআলা বলেন, “তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তওবা করো, হে মুমিনগণ, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।” (সুরা নুর: ৩১)

গিবত শুধু একটি সামাজিক অপরাধ নয়, এটি মানুষের আমল নষ্টকারী বড় গুনাহ। তাই সুন্দর চরিত্র গঠন, মানুষের সম্মান রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য প্রতিটি মুসলমানের উচিত গিবত থেকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকা এবং কোরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা।

জনপ্রিয় সংবাদ

ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম পাকিস্তান: স্মরণীয় টেস্ট জয়ে সোবার্সকে বিশেষ শ্রদ্ধা

গিবত কেন বড় গুনাহ? বাঁচার ৭টি ইসলামী উপায়

Update Time : ১১:৪৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

গিবত থেকে বাঁচার উপায় জানা প্রতিটি মুসলমানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম মানুষের সম্মান রক্ষা, সুন্দর চরিত্র গঠন এবং সংযত ভাষা ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। অনেক সময় অজান্তেই আমরা এমন কথা বলে ফেলি, যা অন্যের সম্মানহানি করে এবং গিবতের মতো বড় গুনাহে জড়িয়ে ফেলে। তাই একজন মুমিনের উচিত নিজের জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং এমন কথা এড়িয়ে চলা, যা আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ হতে পারে।

প্রথমত, কথা বলার আগে চিন্তা করা জরুরি। কোনো কথা সত্য হলেও যদি তা কারও সম্মান ক্ষুণ্ন করে বা অপ্রয়োজনীয় হয়, তাহলে নীরব থাকাই উত্তম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন উত্তম কথা বলে অথবা নীরব থাকে।” (সহিহ বুখারি: ৬১৩৮)

আরও পড়ুন  ছবি তুলতে মসজিদে যাওয়া প্রসঙ্গে ইসলাম কী বলে

দ্বিতীয়ত, জিহ্বাকে সবসময় কল্যাণকর কাজে ব্যস্ত রাখা উচিত। কোরআন তিলাওয়াত, জিকির, ইস্তিগফার ও দোয়া মানুষের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে এবং অনর্থক আলোচনা থেকে দূরে রাখে। আল্লাহর স্মরণে ব্যস্ত থাকলে গিবতে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাও অনেক কমে যায়।

তৃতীয়ত, যেখানে গিবত বা পরনিন্দার আলোচনা হয়, সেই আসর এড়িয়ে চলা উচিত। কেউ কারও অনুপস্থিতিতে সমালোচনা করলে সম্ভব হলে বিষয় পরিবর্তন করা বা বিনয়ের সঙ্গে গিবত থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো উচিত। পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকলে সে স্থান ত্যাগ করাই উত্তম।

চতুর্থত, অন্যের দোষ খোঁজার পরিবর্তে নিজের ভুল-ত্রুটি সংশোধনের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। আত্মসমালোচনা মানুষকে বিনয়ী করে এবং অন্যের প্রতি সম্মান ও সহমর্মিতা বাড়ায়। হজরত উমর (রা.) বলেছেন, “তোমরা নিজেদের হিসাব নাও, তোমাদের হিসাব নেওয়ার আগে।”

পঞ্চমত, অন্যের সম্মান রক্ষা করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। কোনো মুসলমানের দোষ প্রচার না করে তার জন্য দোয়া করা এবং প্রয়োজনে একান্তে সংশোধনের চেষ্টা করাই ইসলামের শিক্ষা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের দোষ গোপন রাখে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ গোপন রাখবেন।” (সহিহ মুসলিম: ২৬৯৯)

আরও পড়ুন  কোরবানির শিক্ষা: ত্যাগ, তাকওয়া ও মানবিকতার চিরন্তন আহ্বান

ষষ্ঠত, মৃত্যুকে বেশি বেশি স্মরণ করা উচিত। মৃত্যুর কথা মনে থাকলে মানুষ বুঝতে পারে, একদিন আল্লাহর কাছে প্রতিটি কথা ও কাজের হিসাব দিতে হবে। এই উপলব্ধি জিহ্বাকে সংযত রাখতে এবং গুনাহ থেকে দূরে থাকতে সহায়তা করে।

সপ্তমত, অসাবধানতাবশত গিবত হয়ে গেলে দ্রুত আল্লাহর কাছে আন্তরিক তওবা করা উচিত। পাশাপাশি যার গিবত করা হয়েছে, তার জন্য দোয়া করা এবং ভবিষ্যতে এমন ভুল না করার দৃঢ় সংকল্প নেওয়া একজন মুমিনের কর্তব্য। আল্লাহ তাআলা বলেন, “তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তওবা করো, হে মুমিনগণ, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।” (সুরা নুর: ৩১)

আরও পড়ুন  হজ শেষে দেশে ফিরলেন ৫৪৩২৩ হাজি, ৫০ জনের মৃত্যু

গিবত শুধু একটি সামাজিক অপরাধ নয়, এটি মানুষের আমল নষ্টকারী বড় গুনাহ। তাই সুন্দর চরিত্র গঠন, মানুষের সম্মান রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য প্রতিটি মুসলমানের উচিত গিবত থেকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকা এবং কোরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা।