কালশী বাউনিয়াবাদ বস্তিতে ভয়াবহ আগুন লাগার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায়। সোমবার (২৫ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে কালশী বাউনিয়াবাদ বস্তিতে ভয়াবহ আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। আগুন লাগার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা দেখা দেয় এবং দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।
ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কালশী বাউনিয়াবাদ বস্তিতে ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট কাজ করছে। আগুন যাতে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য সদস্যরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কিংবা হতাহতের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি ফায়ার সার্ভিস। তবে স্থানীয়দের ধারণা, বস্তির ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশ এবং দাহ্য উপকরণ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে উৎসুক মানুষের ভিড়ও লক্ষ্য করা গেছে।
কালশী বাউনিয়াবাদ বস্তিতে ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন কাজ করছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জানা যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অতীতে একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে বস্তি এলাকায় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট, গ্যাস লিকেজ কিংবা অসাবধানতার কারণে প্রায়ই আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। তাই বিশেষজ্ঞরা বস্তি এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগুন লাগার পর মুহূর্তের মধ্যে ধোঁয়ায় পুরো এলাকা আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। অনেকেই নিজেদের ঘর থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বের করার চেষ্টা করেন। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
কালশী বাউনিয়াবাদ বস্তিতে ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন আশপাশের বাসিন্দারাও। আগুনের লেলিহান শিখা দূর থেকে দেখা যায় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে আরও তৎপরতা বাড়ানো হয়।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর তদন্ত করে আগুনের প্রকৃত কারণ জানা যাবে। একই সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ এবং সম্ভাব্য হতাহতের তথ্যও পরে জানানো হবে।






















