হাম মৃত্যু দেশে আবারও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। যদিও এই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি, তবুও সামগ্রিক পরিস্থিতি স্বাস্থ্যখাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে জানানো হয়, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এর ফলে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে ও এর উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬০১ জনে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট মৃত্যুর মধ্যে ৯০ জন পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত ছিলেন। অন্যদিকে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৫১১ জন। বিশেষজ্ঞদের মতে, উপসর্গভিত্তিক মৃত্যুর সংখ্যা বেশি হওয়ায় রোগ প্রতিরোধ ও দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
এদিকে নতুন করে আরও ৫৫ জনের হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। এতে চলতি বছরে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ১৯১ জনে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের হার তুলনামূলক বেশি দেখা যাচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো টিকা গ্রহণ, আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমে রোগটির বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। বিশেষ করে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচিতে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছে। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখতে বলা হয়েছে। সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা কমাতে জাতীয় পর্যায়ে সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।




















