ঢাকা ০৭:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo আসিফ মাহমুদের দুর্নীতির অভিযোগ ‘এনসিপিতে ওপেন সিক্রেট’: রাশেদ খান Logo ইরানে শিশুদের মৃত্যু নিয়ে ইউনিসেফের নীরবতার সমালোচনা তেহরানের Logo মধ্যপ্রাচ্যকে বিদেশি হস্তক্ষেপ প্রত্যাখ্যানের আহ্বান শি জিনপিংয়ের Logo নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা, ওয়ার্ডে ঠাঁই না পেয়ে বারান্দায় রাত কাটছে রোগীদের Logo যে কারণে নভেম্বর পর্যন্ত ইরান যুদ্ধের পক্ষে না ট্রাম্পের সহযোগীরা Logo খুলনা নগরীর তাপদাহ মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণ ও জলাধার সংরক্ষণ Logo রান্নায় তেজপাতা কেন ব্যবহার করবেন, জানুন উপকারিতা Logo এআই দিয়ে লিখলে যে দক্ষতা হারাতে পারে শিক্ষার্থীরা Logo বুড়িগঙ্গার তীরে বর্জ্যের স্তূপ, ১৫ দিনের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ Logo চন্দনাইশে সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

বাঁশ-দড়ি বেয়ে মসজিদে যাওয়া অন্ধ মুয়াজ্জিন আর নেই

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৫:৪৫:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫৯৪

বাঁশ-দড়ি বেয়ে মসজিদে যাওয়া অন্ধ মুয়াজ্জিন আর নেই

বাঁশ ও দড়ি ধরে প্রতিদিন মসজিদে গিয়ে আজান দেওয়া অন্ধ মুয়াজ্জিন মো. আব্দুর রহমান (১২০) মোল্লা আর নেই। রোববার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার নিজ বাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেন। সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল ৯টায় বড়দেহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বড়াইগ্রাম উপজেলার নগর ইউনিয়নের বড়দেহা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহমান মোল্লা প্রায় ২২ বছর আগে এক দুর্ঘটনায় দৃষ্টিশক্তি হারান। তবে দৃষ্টিহীনতা তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। অন্ধ অবস্থাতেই বড় ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে তিনি পবিত্র হজ পালন করেন।

দেশে ফিরে নিজ গ্রামের প্রায় ৫ শতাংশ জমির ওপর একটি পাকা মসজিদ নির্মাণ করেন এবং মসজিদের নামে জমিটি রেজিস্ট্রি করে দেন। পরবর্তীতে তিনি নিজেই ওই মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন।
তবে অন্ধত্বের কারণে মসজিদে যাতায়াত ছিল তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এ সমস্যা সমাধানে পরিবারের সদস্যরা বাড়ি থেকে মসজিদ পর্যন্ত বাঁশ ও দড়ি দিয়ে একটি পথ তৈরি করে দেন। সেই পথ ধরে লাঠির সহায়তায় নিয়মিত মসজিদে যেতেন তিনি।
কিছুদিনের অনুশীলনের পর তিনি একাই এই পথ ধরে চলাচল করতে সক্ষম হন। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় ও আজান দিতে মসজিদে যেতেন তিনি, যা স্থানীয়দের কাছে ছিল অনুপ্রেরণার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
এলাকাবাসী জানান, বয়সের ভার ও শারীরিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তার অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও ধর্মপ্রাণ জীবনযাপন সবার মধ্যে গভীর শ্রদ্ধার জন্ম দেয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি নিজ প্রতিষ্ঠিত মসজিদেই মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করে গেছেন।
তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আসিফ মাহমুদের দুর্নীতির অভিযোগ ‘এনসিপিতে ওপেন সিক্রেট’: রাশেদ খান

বাঁশ-দড়ি বেয়ে মসজিদে যাওয়া অন্ধ মুয়াজ্জিন আর নেই

Update Time : ০৫:৪৫:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

বাঁশ ও দড়ি ধরে প্রতিদিন মসজিদে গিয়ে আজান দেওয়া অন্ধ মুয়াজ্জিন মো. আব্দুর রহমান (১২০) মোল্লা আর নেই। রোববার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার নিজ বাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেন। সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল ৯টায় বড়দেহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বড়াইগ্রাম উপজেলার নগর ইউনিয়নের বড়দেহা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহমান মোল্লা প্রায় ২২ বছর আগে এক দুর্ঘটনায় দৃষ্টিশক্তি হারান। তবে দৃষ্টিহীনতা তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। অন্ধ অবস্থাতেই বড় ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে তিনি পবিত্র হজ পালন করেন।

আরও পড়ুন  বিমানবন্দরে প্রবাসীর হারিয়ে যাওয়া লাগেজ উদ্ধার করলেন আনসার সদস্যরা

দেশে ফিরে নিজ গ্রামের প্রায় ৫ শতাংশ জমির ওপর একটি পাকা মসজিদ নির্মাণ করেন এবং মসজিদের নামে জমিটি রেজিস্ট্রি করে দেন। পরবর্তীতে তিনি নিজেই ওই মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন।
তবে অন্ধত্বের কারণে মসজিদে যাতায়াত ছিল তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এ সমস্যা সমাধানে পরিবারের সদস্যরা বাড়ি থেকে মসজিদ পর্যন্ত বাঁশ ও দড়ি দিয়ে একটি পথ তৈরি করে দেন। সেই পথ ধরে লাঠির সহায়তায় নিয়মিত মসজিদে যেতেন তিনি।
কিছুদিনের অনুশীলনের পর তিনি একাই এই পথ ধরে চলাচল করতে সক্ষম হন। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় ও আজান দিতে মসজিদে যেতেন তিনি, যা স্থানীয়দের কাছে ছিল অনুপ্রেরণার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
এলাকাবাসী জানান, বয়সের ভার ও শারীরিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তার অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও ধর্মপ্রাণ জীবনযাপন সবার মধ্যে গভীর শ্রদ্ধার জন্ম দেয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি নিজ প্রতিষ্ঠিত মসজিদেই মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করে গেছেন।
তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আরও পড়ুন  শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন–অফলাইন ক্লাস নিয়ে সিদ্ধান্ত আসছে শিগগিরই, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী