ঢাকা ০৭:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কান্না থামা, নাইলে মাইরা ফালামু’ বলে বাচ্চার মুখ চেপে ধরে হত্যার অভিযোগ Logo নারায়ণগঞ্জে পানির ট্যাংক পরিষ্কার করতে গিয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু Logo রূপপুরে জ্বালানি লোডিংয়ের অনুমোদন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় অগ্রগতি Logo ঢাকা আসছেন মার্কিন বিশেষ দূত চার্লস জে. হার্ডার, গুরুত্ব পাবে শিশু কল্যাণ ও শিক্ষা Logo ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ৮ নিহত, দুর্গম জঙ্গলে বিধ্বস্ত Logo কক্সবাজারে বৃষ্টির ধাক্কা, কম দামে বিপাকে ৪২ হাজার লবণচাষি Logo ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, ৮ আরোহীর মর্মান্তিক মৃত্যু Logo শিশুর শরীরে কালো দাগ কেন হয়? অ্যাকাথোসিস নিগ্রিক্যানস ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি জানুন Logo আয়োকিগাহারা ফরেস্ট: জাপানের রহস্যময় ‘সুইসাইড ফরেস্ট’ এর অজানা সত্য Logo মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার ইঙ্গিতে তেলের দামে নিম্নগতি

বাঁশ-দড়ি বেয়ে মসজিদে যাওয়া অন্ধ মুয়াজ্জিন আর নেই

  • Smrity Akter Nodi
  • Update Time : ০৫:৪৫:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫৪৬

বাঁশ-দড়ি বেয়ে মসজিদে যাওয়া অন্ধ মুয়াজ্জিন আর নেই

বাঁশ ও দড়ি ধরে প্রতিদিন মসজিদে গিয়ে আজান দেওয়া অন্ধ মুয়াজ্জিন মো. আব্দুর রহমান (১২০) মোল্লা আর নেই। রোববার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার নিজ বাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেন। সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল ৯টায় বড়দেহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বড়াইগ্রাম উপজেলার নগর ইউনিয়নের বড়দেহা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহমান মোল্লা প্রায় ২২ বছর আগে এক দুর্ঘটনায় দৃষ্টিশক্তি হারান। তবে দৃষ্টিহীনতা তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। অন্ধ অবস্থাতেই বড় ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে তিনি পবিত্র হজ পালন করেন।

দেশে ফিরে নিজ গ্রামের প্রায় ৫ শতাংশ জমির ওপর একটি পাকা মসজিদ নির্মাণ করেন এবং মসজিদের নামে জমিটি রেজিস্ট্রি করে দেন। পরবর্তীতে তিনি নিজেই ওই মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন।
তবে অন্ধত্বের কারণে মসজিদে যাতায়াত ছিল তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এ সমস্যা সমাধানে পরিবারের সদস্যরা বাড়ি থেকে মসজিদ পর্যন্ত বাঁশ ও দড়ি দিয়ে একটি পথ তৈরি করে দেন। সেই পথ ধরে লাঠির সহায়তায় নিয়মিত মসজিদে যেতেন তিনি।
কিছুদিনের অনুশীলনের পর তিনি একাই এই পথ ধরে চলাচল করতে সক্ষম হন। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় ও আজান দিতে মসজিদে যেতেন তিনি, যা স্থানীয়দের কাছে ছিল অনুপ্রেরণার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
এলাকাবাসী জানান, বয়সের ভার ও শারীরিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তার অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও ধর্মপ্রাণ জীবনযাপন সবার মধ্যে গভীর শ্রদ্ধার জন্ম দেয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি নিজ প্রতিষ্ঠিত মসজিদেই মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করে গেছেন।
তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কান্না থামা, নাইলে মাইরা ফালামু’ বলে বাচ্চার মুখ চেপে ধরে হত্যার অভিযোগ

বাঁশ-দড়ি বেয়ে মসজিদে যাওয়া অন্ধ মুয়াজ্জিন আর নেই

Update Time : ০৫:৪৫:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

বাঁশ ও দড়ি ধরে প্রতিদিন মসজিদে গিয়ে আজান দেওয়া অন্ধ মুয়াজ্জিন মো. আব্দুর রহমান (১২০) মোল্লা আর নেই। রোববার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার নিজ বাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেন। সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল ৯টায় বড়দেহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বড়াইগ্রাম উপজেলার নগর ইউনিয়নের বড়দেহা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহমান মোল্লা প্রায় ২২ বছর আগে এক দুর্ঘটনায় দৃষ্টিশক্তি হারান। তবে দৃষ্টিহীনতা তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। অন্ধ অবস্থাতেই বড় ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে তিনি পবিত্র হজ পালন করেন।

দেশে ফিরে নিজ গ্রামের প্রায় ৫ শতাংশ জমির ওপর একটি পাকা মসজিদ নির্মাণ করেন এবং মসজিদের নামে জমিটি রেজিস্ট্রি করে দেন। পরবর্তীতে তিনি নিজেই ওই মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন।
তবে অন্ধত্বের কারণে মসজিদে যাতায়াত ছিল তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এ সমস্যা সমাধানে পরিবারের সদস্যরা বাড়ি থেকে মসজিদ পর্যন্ত বাঁশ ও দড়ি দিয়ে একটি পথ তৈরি করে দেন। সেই পথ ধরে লাঠির সহায়তায় নিয়মিত মসজিদে যেতেন তিনি।
কিছুদিনের অনুশীলনের পর তিনি একাই এই পথ ধরে চলাচল করতে সক্ষম হন। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় ও আজান দিতে মসজিদে যেতেন তিনি, যা স্থানীয়দের কাছে ছিল অনুপ্রেরণার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
এলাকাবাসী জানান, বয়সের ভার ও শারীরিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তার অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও ধর্মপ্রাণ জীবনযাপন সবার মধ্যে গভীর শ্রদ্ধার জন্ম দেয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি নিজ প্রতিষ্ঠিত মসজিদেই মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করে গেছেন।
তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।