বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগে বড় ধাক্কা খেল ব্রাজিল। দলের অন্যতম ভরসার নামার ফরোয়ার্ড নেইমার কাফ মাসলের চোটের কারণে শনিবার (৬ জুন) মিসরের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে খেলতে পারবেন না। তার এই অনুপস্থিতি ব্রাজিল শিবিরে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চোটের কারণে নেইমার দলের সঙ্গে ক্লিভল্যান্ড সফরে যাচ্ছেন না। পরিবর্তে তিনি নিউ জার্সিতে থেকে চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন।
বিশ্বকাপের আগে এটি ব্রাজিলের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ। ফলে কোচ কার্লো আনচেলত্তির জন্য এটি ছিল মূল একাদশকে আরও ঝালিয়ে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। কিন্তু সেই ম্যাচেই সবচেয়ে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়কে পাচ্ছেন না তিনি।
নেইমারের অনুপস্থিতি শুধু মাঠের পারফরম্যান্সেই নয়, দলের মানসিক অবস্থাতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দীর্ঘদিন ধরে ব্রাজিল দলের অন্যতম নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি।
৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড পুরো মৌসুমজুড়েই চোট সমস্যার সঙ্গে লড়াই করেছেন। বিভিন্ন সময়ে মাঠের বাইরে থাকতে হওয়ায় তার ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন ছিল আগেই।
তবুও বিশ্বকাপের জন্য ঘোষিত ব্রাজিল দলে নেইমারকে অন্তর্ভুক্ত করেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। সেই সিদ্ধান্তের পর থেকেই ফুটবল অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছিল, তিনি কতটা প্রস্তুত অবস্থায় টুর্নামেন্টে যাচ্ছেন।
ব্রাজিল কোচের বিশ্বাস ছিল, অভিজ্ঞতা এবং বড় ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার সামর্থ্য এখনও নেইমারকে দলের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে রাখে। তাই তার শারীরিক অবস্থা পুরোপুরি আদর্শ না হলেও স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন তিনি।
তবে নতুন করে পাওয়া এই চোট সেই পরিকল্পনায় কিছুটা হলেও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। বিশেষ করে বিশ্বকাপের মাত্র কয়েকদিন আগে এমন পরিস্থিতি দলের জন্য সুখকর নয়।
মিসরের বিপক্ষে ম্যাচটি ব্রাজিলের জন্য শুধু একটি প্রস্তুতি ম্যাচ নয়, বিশ্বকাপের আগে কৌশলগত নানা বিষয় যাচাইয়েরও সুযোগ। সেখানে নেইমারের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়কে না পাওয়া অবশ্যই একটি বড় ঘাটতি।
দলের মেডিকেল স্টাফ বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার ওপর নিবিড় নজর রাখছেন। পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সফল হলে দ্রুত মাঠে ফেরানোর চেষ্টা করা হবে বলে জানা গেছে।
এখন পর্যন্ত সিবিএফ নেইমারের চোটের মাত্রা নিয়ে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেনি। ফলে সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে তিনি খেলতে পারবেন কি না, সেটিও এখনও নিশ্চিত নয়। আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত বা সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি।
ব্রাজিল তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে আগামী ১৩ জুন। নিউ জার্সিতে প্রথম ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী মরক্কো।
গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের অন্য দুই প্রতিপক্ষ হাইতি ও স্কটল্যান্ড। কাগজে-কলমে ফেবারিট হিসেবে মাঠে নামলেও প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
দলের অন্যতম বড় তারকার ফিটনেস নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় কোচিং স্টাফ বিকল্প পরিকল্পনাও তৈরি করে রাখছে। প্রয়োজনে আক্রমণভাগে অন্য খেলোয়াড়দের দায়িত্ব বাড়তে পারে।
বর্তমান ব্রাজিল দলে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রদ্রিগো, রাফিনিয়া ও এস্তেভাওয়ের মতো প্রতিভাবান আক্রমণভাগের খেলোয়াড় রয়েছেন। তবে নেইমারের অভিজ্ঞতার বিকল্প খুঁজে পাওয়া সহজ নয়।
বড় টুর্নামেন্টে চাপের মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া, খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করা এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে ভাঙন ধরানোর ক্ষেত্রে নেইমারের ভূমিকা সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
বিশ্বকাপের মঞ্চে নেইমারের অভিজ্ঞতাও ব্রাজিলের জন্য বড় সম্পদ। দেশের হয়ে বহু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
সমর্থকরাও আশা করছেন, চোট গুরুতর নয় এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরবেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে অসংখ্য বার্তা দিয়েছেন ব্রাজিল সমর্থকরা।
বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য এখন তারকা ফরোয়ার্ডকে পুরোপুরি সুস্থ করে তোলা। কারণ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন পূরণে নেইমারের উপস্থিতি এখনও দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
আগামী কয়েকদিনের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার অগ্রগতিই নির্ধারণ করবে, মরক্কোর বিপক্ষে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে নেইমার মাঠে নামতে পারবেন কি না। ততদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে ব্রাজিল সমর্থকদের।


























