বিশ্বকাপ ষড়যন্ত্রতত্ত্ব এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অন্যতম আলোচিত বিষয়। বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার হারের পর একের পর এক দাবি ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে। যদিও এসব দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবুও সমর্থকদের বড় একটি অংশ বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গে এসব তত্ত্ব মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করছেন।
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে বল গোললাইন অতিক্রম করেছিল কি না, তা নিয়ে বিতর্ক। অনেকে দাবি করছেন, রিপ্লে ও বলের ছায়া বিশ্লেষণ করলে মনে হয় বলটি গোললাইন পেরিয়েছিল। আবার কেউ কেউ বলের ভেতরে থাকা ট্র্যাকিং প্রযুক্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন। তবে এসব দাবির সত্যতা নিশ্চিত করার মতো কোনো তথ্য প্রকাশ হয়নি।
এ ছাড়া ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনা দলের খেলোয়াড় ও তাঁদের পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল বলেও গুঞ্জন ছড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন দাবিও করা হয়েছে যে, অনেক পরিবারের সদস্য ইচ্ছাকৃতভাবে স্টেডিয়ামে যাননি। পাশাপাশি শেষ মুহূর্তের ডোপিং পরীক্ষা খেলোয়াড়দের প্রস্তুতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে ফিফা জানিয়েছে, সবকিছু নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে এবং আর্জেন্টিনা থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ করা হয়নি।
সবচেয়ে আলোচিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের বিষয়টি। বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, বিশ্ব ফুটবলের শক্তির ভারসাম্য বদলাতে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের গোপন পরিকল্পনা ছিল। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, স্পেনের রাজপরিবার, ইউরোপীয় ফুটবল মহল এবং বিভিন্ন ক্লাবকে নিয়েও ভিত্তিহীন নানা অভিযোগ ছড়িয়েছে। এসব দাবির কোনো বাস্তব প্রমাণ এখন পর্যন্ত সামনে আসেনি।
ফ্রিম্যাসনকে ঘিরেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। লিওনেল মেসি ও শিশু বয়সের লামিনে ইয়ামালের একটি পুরোনো ছবি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে। কেউ এটিকে ফ্রিম্যাসনদের প্রতীকী আচার, আবার কেউ ‘সত্তা স্থানান্তরের’ গল্পের সঙ্গে যুক্ত করছেন। বাস্তবে এসব দাবি কেবল অনলাইন ষড়যন্ত্রতত্ত্বের অংশ বলেই বিবেচিত হচ্ছে।
এ ছাড়া বেটিং সিন্ডিকেট, কালো জাদু, খেলোয়াড়দের শক্তি শুষে নেওয়া, এফবিআইয়ের অভিযানের গুঞ্জন এবং রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়েও অসংখ্য পোস্ট ভাইরাল হয়েছে। যদিও ফুটবল বিশ্লেষক, আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এসব দাবিকে গুরুত্ব না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, প্রমাণ ছাড়া এমন তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া বিভ্রান্তি বাড়ায় এবং ক্রীড়াঙ্গনের জন্যও তা ক্ষতিকর।
বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো বড় আসরের পর আবেগ থেকেই নানা ধরনের গুঞ্জন ও ষড়যন্ত্রতত্ত্ব জন্ম নেয়। ইতিহাস বলছে, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের পর প্রায়ই এ ধরনের দাবি সামনে আসে। তবে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য বিশ্বাস না করে নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য নেওয়াই সবচেয়ে দায়িত্বশীল আচরণ।




























