ঢাকা ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo আদিতমারীতে কিশোর মাদরাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু, ছুরিকাঘাতের ঘটনায় চাঞ্চল্য Logo ব্রাজিলের খারাপ সময়ও অনেক দলের সেরা সময়ের চেয়ে বড় Logo জুলাইয়ের আহতদের পাশে প্রশাসন, পুনর্বাসনের আশ্বাস জেলা প্রশাসকের Logo তারকা জুটির বিলাসবহুল বিয়ে ঘিরে ক্ষোভ, ইতালির শহরে প্রতিবাদে নামলেন বাসিন্দারা Logo স্বতন্ত্র সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে হাইকোর্টের রায়, আপিলে শুনানি কাল Logo ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ: নতুন হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে বড় উত্তেজনা Logo ব্রাজিলকে ৭ গোল দেওয়া দেশগুলো: বিশ্ব ফুটবলের অবিশ্বাস্য রেকর্ড Logo কাজী শায়রুল হাসান চেয়ারম্যান: সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে নতুন নেতৃত্বের শক্তিশালী সূচনা Logo গরমেও কেন ঠান্ডা লেগে যায় ; কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার জানুন Logo শাবনূরকে নিয়ে আবেগঘন বার্তায় মুগ্ধ করলেন পূর্ণিমা

সমালোচনার মুখে পানির বোতল নীতিতে সিদ্ধান্ত বদলালো ফিফা

দর্শকদের পানির বোতল বহন সংক্রান্ত নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়েছে

সমালোচনার মুখে অবশেষে পানির বোতল বহনের নীতিতে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছে ফিফা। শুরুতে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে স্টেডিয়ামে পুনঃব্যবহারযোগ্য পানির বোতল আনার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলেও ব্যাপক সমালোচনার পর সেই সিদ্ধান্ত আংশিকভাবে শিথিল করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

আসন্ন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ফিফা যে স্টেডিয়াম আচরণবিধি প্রকাশ করেছিল, সেখানে দর্শকদের জন্য পানির বোতল বহনের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। সেই সিদ্ধান্ত প্রকাশের পর থেকেই ফুটবল সমর্থক, মানবাধিকার সংগঠন, স্থানীয় প্রশাসন এবং রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

ফিফার প্রাথমিক নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, নিরাপত্তাজনিত কারণে কোনো ধরনের পুনঃব্যবহারযোগ্য বা শক্ত পানির বোতল স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়া যাবে না। এই সিদ্ধান্তের ফলে দর্শকদের স্টেডিয়ামের ভেতরে বিক্রি হওয়া পানীয়ের ওপর নির্ভর করতে হতো, যা অনেকের কাছে অযৌক্তিক বলে মনে হয়েছে।

সমালোচকদের দাবি ছিল, এই নীতির ফলে দর্শকরা কার্যত বাধ্য হবেন স্টেডিয়ামের ভেতরে উচ্চমূল্যে পানি কিনতে। তাদের মতে, এটি নিরাপত্তার চেয়ে বেশি বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষার উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

বিশেষ করে বিশ্বকাপের আয়োজক উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন অনেকে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর কিছু শহরে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা অনেক সময় ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তারও বেশি থাকে। এমন পরিস্থিতিতে দর্শকদের পর্যাপ্ত পানি পাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

চিকিৎসক এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করলে পানিশূন্যতার ঝুঁকি বেড়ে যায়। হাজার হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে আয়োজিত ম্যাচগুলোতে নিরাপদ পানি সহজলভ্য না হলে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়।

ক্রমবর্ধমান সমালোচনার মুখে ফিফা শেষ পর্যন্ত তাদের অবস্থানে পরিবর্তন আনে। নতুন নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, দর্শকরা নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে স্টেডিয়ামে পানি নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন। তবে সেই সুযোগ সীমিত আকারে রাখা হয়েছে।

ফিফার সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ৫৯০ মিলিলিটার ধারণক্ষমতার সিল করা এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের পানির বোতল সঙ্গে আনা যাবে। তবে পুনঃব্যবহারযোগ্য, ধাতব কিংবা শক্ত প্লাস্টিকের বোতল এখনো নিষিদ্ধ থাকবে।

এই পরিবর্তনকে কেউ কেউ ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখলেও অনেকের মতে এটি সমস্যার পূর্ণ সমাধান নয়। তাদের যুক্তি, দর্শকদের নিজেদের ব্যবহারের জন্য পুনঃব্যবহারযোগ্য পানির বোতল বহনের অনুমতি দেওয়া হলে তা আরও কার্যকর ও পরিবেশবান্ধব হতো।

ফিফার এই সিদ্ধান্ত পরিবেশবাদীদের মধ্যেও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কারণ বিশ্বজুড়ে প্লাস্টিক বর্জ্য কমানোর প্রচেষ্টা চললেও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের বোতল ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া পরিবেশগত দৃষ্টিকোণ থেকে বিতর্কের সৃষ্টি করতে পারে।

এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকেও এসেছে কড়া প্রতিক্রিয়া। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ফিফার প্রাথমিক সিদ্ধান্তকে ভুল পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, দর্শকদের মৌলিক সুবিধার বিষয়টি বাণিজ্যিক স্বার্থের কাছে উপেক্ষিত হওয়া উচিত নয়।

কানাডার বৃহত্তম শহর টরন্টোর মেয়র অলিভিয়া চও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক আসরে দর্শকদের স্বাচ্ছন্দ্য এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত প্রধান অগ্রাধিকার।

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানিও এই নীতির সমালোচনা করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জনস্বার্থের চেয়ে বাণিজ্যিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলে তা দর্শকদের মধ্যে নেতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেয়।

বিশ্বকাপে পানীয় সরবরাহের বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে ফিফার অন্যতম প্রধান স্পন্সর হিসেবে কোকা-কোলা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে পানীয় সরবরাহের দায়িত্ব পালন করে আসছে। এবারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, স্টেডিয়ামের পানীয় বিক্রির সঙ্গে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক স্বার্থ জড়িত থাকায় এমন নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। যদিও এ বিষয়ে ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যের কথা স্বীকার করেনি।

ফিফা বরাবরই দাবি করে আসছে যে তাদের সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। স্টেডিয়ামে আনা বিভিন্ন বস্তু কখনো কখনো নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলেই কঠোর নীতিমালা প্রয়োগ করা হয়। পানির বোতলের ক্ষেত্রেও একই যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে।

তবে সমর্থকদের একটি বড় অংশ মনে করেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দর্শকদের স্বাস্থ্য ও স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়টিও সমান গুরুত্ব পাওয়া উচিত। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ধরে চলা ম্যাচ এবং প্রচণ্ড গরম আবহাওয়ার বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

২০২৬ বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে এই আসর। ফলে আগের যেকোনো আসরের তুলনায় দর্শকসংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে দর্শকসেবার মান, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং স্টেডিয়াম পরিচালনা নিয়ে প্রতিটি সিদ্ধান্তই ব্যাপক গুরুত্ব বহন করছে। পানির বোতল নিয়ে ফিফার সাম্প্রতিক অবস্থান পরিবর্তনও সেই বৃহত্তর আলোচনার অংশ হয়ে উঠেছে।

সব মিলিয়ে, নিরাপত্তা, দর্শকদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা এবং বাণিজ্যিক স্বার্থ—এই তিনটি বিষয়ের ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন ফিফার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সমালোচনার মুখে নীতিতে পরিবর্তন আনলেও বিতর্ক পুরোপুরি থেমে যায়নি। বিশ্বকাপ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আদিতমারীতে কিশোর মাদরাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু, ছুরিকাঘাতের ঘটনায় চাঞ্চল্য

সমালোচনার মুখে পানির বোতল নীতিতে সিদ্ধান্ত বদলালো ফিফা

Update Time : ০৩:৩৮:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

সমালোচনার মুখে অবশেষে পানির বোতল বহনের নীতিতে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছে ফিফা। শুরুতে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে স্টেডিয়ামে পুনঃব্যবহারযোগ্য পানির বোতল আনার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলেও ব্যাপক সমালোচনার পর সেই সিদ্ধান্ত আংশিকভাবে শিথিল করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

আসন্ন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ফিফা যে স্টেডিয়াম আচরণবিধি প্রকাশ করেছিল, সেখানে দর্শকদের জন্য পানির বোতল বহনের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। সেই সিদ্ধান্ত প্রকাশের পর থেকেই ফুটবল সমর্থক, মানবাধিকার সংগঠন, স্থানীয় প্রশাসন এবং রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

ফিফার প্রাথমিক নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, নিরাপত্তাজনিত কারণে কোনো ধরনের পুনঃব্যবহারযোগ্য বা শক্ত পানির বোতল স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়া যাবে না। এই সিদ্ধান্তের ফলে দর্শকদের স্টেডিয়ামের ভেতরে বিক্রি হওয়া পানীয়ের ওপর নির্ভর করতে হতো, যা অনেকের কাছে অযৌক্তিক বলে মনে হয়েছে।

সমালোচকদের দাবি ছিল, এই নীতির ফলে দর্শকরা কার্যত বাধ্য হবেন স্টেডিয়ামের ভেতরে উচ্চমূল্যে পানি কিনতে। তাদের মতে, এটি নিরাপত্তার চেয়ে বেশি বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষার উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

বিশেষ করে বিশ্বকাপের আয়োজক উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন অনেকে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর কিছু শহরে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা অনেক সময় ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তারও বেশি থাকে। এমন পরিস্থিতিতে দর্শকদের পর্যাপ্ত পানি পাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন  ফিফা বিশ্বকাপ বিনামূল্যে দেখার সুযোগ, তবে সবার জন্য নয়

চিকিৎসক এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করলে পানিশূন্যতার ঝুঁকি বেড়ে যায়। হাজার হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে আয়োজিত ম্যাচগুলোতে নিরাপদ পানি সহজলভ্য না হলে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়।

ক্রমবর্ধমান সমালোচনার মুখে ফিফা শেষ পর্যন্ত তাদের অবস্থানে পরিবর্তন আনে। নতুন নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, দর্শকরা নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে স্টেডিয়ামে পানি নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন। তবে সেই সুযোগ সীমিত আকারে রাখা হয়েছে।

ফিফার সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ৫৯০ মিলিলিটার ধারণক্ষমতার সিল করা এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের পানির বোতল সঙ্গে আনা যাবে। তবে পুনঃব্যবহারযোগ্য, ধাতব কিংবা শক্ত প্লাস্টিকের বোতল এখনো নিষিদ্ধ থাকবে।

এই পরিবর্তনকে কেউ কেউ ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখলেও অনেকের মতে এটি সমস্যার পূর্ণ সমাধান নয়। তাদের যুক্তি, দর্শকদের নিজেদের ব্যবহারের জন্য পুনঃব্যবহারযোগ্য পানির বোতল বহনের অনুমতি দেওয়া হলে তা আরও কার্যকর ও পরিবেশবান্ধব হতো।

ফিফার এই সিদ্ধান্ত পরিবেশবাদীদের মধ্যেও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কারণ বিশ্বজুড়ে প্লাস্টিক বর্জ্য কমানোর প্রচেষ্টা চললেও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের বোতল ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া পরিবেশগত দৃষ্টিকোণ থেকে বিতর্কের সৃষ্টি করতে পারে।

আরও পড়ুন  বিশ্বকাপে ইরানের বিপ্লব-পূর্ব পতাকা নিষিদ্ধে নতুন বিতর্ক

এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকেও এসেছে কড়া প্রতিক্রিয়া। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ফিফার প্রাথমিক সিদ্ধান্তকে ভুল পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, দর্শকদের মৌলিক সুবিধার বিষয়টি বাণিজ্যিক স্বার্থের কাছে উপেক্ষিত হওয়া উচিত নয়।

কানাডার বৃহত্তম শহর টরন্টোর মেয়র অলিভিয়া চও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক আসরে দর্শকদের স্বাচ্ছন্দ্য এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত প্রধান অগ্রাধিকার।

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানিও এই নীতির সমালোচনা করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জনস্বার্থের চেয়ে বাণিজ্যিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলে তা দর্শকদের মধ্যে নেতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেয়।

বিশ্বকাপে পানীয় সরবরাহের বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে ফিফার অন্যতম প্রধান স্পন্সর হিসেবে কোকা-কোলা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে পানীয় সরবরাহের দায়িত্ব পালন করে আসছে। এবারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, স্টেডিয়ামের পানীয় বিক্রির সঙ্গে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক স্বার্থ জড়িত থাকায় এমন নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। যদিও এ বিষয়ে ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যের কথা স্বীকার করেনি।

ফিফা বরাবরই দাবি করে আসছে যে তাদের সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। স্টেডিয়ামে আনা বিভিন্ন বস্তু কখনো কখনো নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলেই কঠোর নীতিমালা প্রয়োগ করা হয়। পানির বোতলের ক্ষেত্রেও একই যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে।

আরও পড়ুন  শান্তর সেঞ্চুরি আর মুস্তাফিজের দুর্দান্ত বোলিংয়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

তবে সমর্থকদের একটি বড় অংশ মনে করেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দর্শকদের স্বাস্থ্য ও স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়টিও সমান গুরুত্ব পাওয়া উচিত। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ধরে চলা ম্যাচ এবং প্রচণ্ড গরম আবহাওয়ার বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

২০২৬ বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে এই আসর। ফলে আগের যেকোনো আসরের তুলনায় দর্শকসংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে দর্শকসেবার মান, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং স্টেডিয়াম পরিচালনা নিয়ে প্রতিটি সিদ্ধান্তই ব্যাপক গুরুত্ব বহন করছে। পানির বোতল নিয়ে ফিফার সাম্প্রতিক অবস্থান পরিবর্তনও সেই বৃহত্তর আলোচনার অংশ হয়ে উঠেছে।

সব মিলিয়ে, নিরাপত্তা, দর্শকদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা এবং বাণিজ্যিক স্বার্থ—এই তিনটি বিষয়ের ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন ফিফার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সমালোচনার মুখে নীতিতে পরিবর্তন আনলেও বিতর্ক পুরোপুরি থেমে যায়নি। বিশ্বকাপ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।