ঢাকা ১১:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo রান্নাঘর পরিষ্কার রাখার ৭ সহজ ও কার্যকর টিপস Logo সবুজ স্বর্গ নরওয়ে কেন বিদেশি বর্জ্য কিনে আনে? Logo মসুর ডালের সালাদ: প্রোটিনসমৃদ্ধ স্বাস্থ্যকর ও সহজ রেসিপি Logo স্যামসাংয়ের নজিরের পর বাড়তি বোনাস দাবি, উত্তাল দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রমবাজার Logo বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের শীর্ষে আবারও সিঙ্গাপুর Logo এক রাতেই কাটা ২৯৬টি আমগাছ, গ্রেফতার ইউপি সদস্য Logo চুল পাকার আসল কারণ কী? জানুন প্রতিরোধের উপায় Logo কৃষকের ছদ্মবেশে মাঠে কাজ করছিলেন, ৮ বছর পর সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার Logo জ্বালানি তেলের সংকট: নীলফামারীতে গুজবে পাম্পে বেড়েছে হঠাৎ ভিড় Logo ধর্মকে ব্যবহার করে ভোটের রাজনীতি থেকে সরে আসতে হবে : আইনমন্ত্রী

ধর্মকে ব্যবহার করে ভোটের রাজনীতি থেকে সরে আসতে হবে : আইনমন্ত্রী

ধর্মকে ব্যবহার করে ভোটের রাজনীতি থেকে সরে আসার আহ্বান আইনমন্ত্রীর

ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বা ভোটের কৌশল হিসেবে ব্যবহার না করে জনকল্যাণ, সুশাসন এবং মানবিক মূল্যবোধভিত্তিক রাজনীতি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা। ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে বিভাজন বা ভোটের রাজনীতি দীর্ঘমেয়াদে সমাজে বৈষম্য ও অসহিষ্ণুতা সৃষ্টি করে। তাই উন্নয়ন, ন্যায়বিচার, মানবিক মূল্যবোধ এবং সুশাসনের ভিত্তিতে রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সরকার ধর্মীয় স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার, সুশাসন, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রত্যেক নাগরিক যেন কোনো ভয় বা বাধা ছাড়াই নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, একজন মানুষের রক্তের রং যেমন ধর্মভেদে পরিবর্তিত হয় না, তেমনি নাগরিক অধিকারও ধর্মের ভিত্তিতে ভিন্ন হতে পারে না। ধর্ম, বর্ণ বা সম্প্রদায় নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিক সমান মর্যাদা ও অধিকার পাওয়ার যোগ্য।

তিনি উল্লেখ করেন, সমাজে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে হলে সবার আগে মানুষকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা এবং মানবিক আচরণই একটি বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার ভিত্তি।

দুর্গাপূজাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবের প্রসঙ্গ তুলে আইনমন্ত্রী বলেন, কোনো ধর্মীয় উৎসব পালনের জন্য বিশেষ নিরাপত্তার দাবি জানাতে হবে—এমন পরিস্থিতি থাকা উচিত নয়। এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে প্রতিটি নাগরিক স্বাভাবিকভাবেই নিজেকে নিরাপদ মনে করবেন এবং স্বাধীনভাবে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা করা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়; রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, ধর্মীয় নেতা এবং সাধারণ নাগরিক—সবার সম্মিলিত উদ্যোগে অসাম্প্রদায়িক, শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহাবস্থান এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

রান্নাঘর পরিষ্কার রাখার ৭ সহজ ও কার্যকর টিপস

ধর্মকে ব্যবহার করে ভোটের রাজনীতি থেকে সরে আসতে হবে : আইনমন্ত্রী

Update Time : ১০:৫৬:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বা ভোটের কৌশল হিসেবে ব্যবহার না করে জনকল্যাণ, সুশাসন এবং মানবিক মূল্যবোধভিত্তিক রাজনীতি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা। ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে বিভাজন বা ভোটের রাজনীতি দীর্ঘমেয়াদে সমাজে বৈষম্য ও অসহিষ্ণুতা সৃষ্টি করে। তাই উন্নয়ন, ন্যায়বিচার, মানবিক মূল্যবোধ এবং সুশাসনের ভিত্তিতে রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন  যে ৩ বৈশিষ্ট্যে মিলবে বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশের সুযোগ

তিনি বলেন, সরকার ধর্মীয় স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার, সুশাসন, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রত্যেক নাগরিক যেন কোনো ভয় বা বাধা ছাড়াই নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, একজন মানুষের রক্তের রং যেমন ধর্মভেদে পরিবর্তিত হয় না, তেমনি নাগরিক অধিকারও ধর্মের ভিত্তিতে ভিন্ন হতে পারে না। ধর্ম, বর্ণ বা সম্প্রদায় নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিক সমান মর্যাদা ও অধিকার পাওয়ার যোগ্য।

আরও পড়ুন  ২০২৭ সালের হজ নিবন্ধন ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, প্রকাশ রোডম্যাপ

তিনি উল্লেখ করেন, সমাজে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে হলে সবার আগে মানুষকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা এবং মানবিক আচরণই একটি বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার ভিত্তি।

দুর্গাপূজাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবের প্রসঙ্গ তুলে আইনমন্ত্রী বলেন, কোনো ধর্মীয় উৎসব পালনের জন্য বিশেষ নিরাপত্তার দাবি জানাতে হবে—এমন পরিস্থিতি থাকা উচিত নয়। এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে প্রতিটি নাগরিক স্বাভাবিকভাবেই নিজেকে নিরাপদ মনে করবেন এবং স্বাধীনভাবে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারবেন।

আরও পড়ুন  ছবি তুলতে মসজিদে যাওয়া প্রসঙ্গে ইসলাম কী বলে

তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা করা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়; রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, ধর্মীয় নেতা এবং সাধারণ নাগরিক—সবার সম্মিলিত উদ্যোগে অসাম্প্রদায়িক, শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহাবস্থান এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।