ঢাকা ০২:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo চন্দনাইশে পূবালী ব্যাংকের ‘ক্যাশলেস বৈলতলী’ ক্যাম্পেইন উদ্বোধন Logo চন্দনাইশে পূবালী ব্যাংকের ‘ক্যাশলেস রওশনহাট’ ক্যাম্পেইন উদ্বোধন Logo বাংলাদেশের এলএনজি বাজারে এবার রাশিয়ার আগ্রহ, সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-চীন Logo তিন মাসেও বোর্ড নেই, কমছে আমানত, ইসলামী ব্যাংকের সামনে বড় সংকট Logo জবিতে সংঘর্ষ ও রিকশাচালককে মারধরের প্রতিবাদ ছাত্র ফ্রন্টের Logo ট্রাম্প-শির বৈঠকে বাণিজ্য, এআই ও বিরল খনিজ নিয়ে আলোচনা Logo ঢাবিতে অপ্রতিম-আজমুল হত্যার বিচারের দাবিতে মশাল মিছিল Logo চন্দনাইশে বসতভিটার বিরোধ নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ Logo চন্দনাইশে মাদকবিরোধী অভিযানে ২ মাদকসেবী গ্রেপ্তার, মোবাইল কোর্টে কারাদণ্ড Logo ওয়ান হেলথ: পরিবেশ-জনস্বাস্থ্য সমন্বয়ে মন্ত্রীর বার্তা

ঈদে বেশি মাংস খেয়ে ভুঁড়ি বেড়েছে? জেনে নিন কার্যকর সমাধান

পেটের মেদ কমাতে নিয়মিত হাঁটা, ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ। ছবি: সংগৃহীত।

পেটের মেদ কমানোর উপায় নিয়ে চিন্তিত অনেকেই, বিশেষ করে ঈদ বা উৎসবের পর। কোরবানির ঈদে গরু ও খাসির মাংসের বিভিন্ন পদ খেতে খেতে অনেক সময় প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ক্যালোরি শরীরে জমা হয়। এর ফলে ওজন বৃদ্ধি, পেটের চারপাশে চর্বি জমা এবং ভুঁড়ি বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকদিন বেশি মাংস খাওয়ার কারণে ওজন কিছুটা বেড়ে গেলেও সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত শরীরচর্চার মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। এজন্য প্রথমেই মাংসের পরিমাণ কমিয়ে খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ডাল, ফলমূল ও সালাদের পরিমাণ বাড়াতে হবে। এসব খাবারে ক্যালোরি কম থাকলেও পুষ্টিগুণ বেশি এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুতগতিতে হাঁটা ওজন কমানোর সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর উপায়গুলোর একটি। প্রতিদিন অন্তত ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট হাঁটলে অতিরিক্ত ক্যালোরি খরচ হয় এবং ধীরে ধীরে শরীরের জমে থাকা চর্বি কমতে শুরু করে। নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখার পাশাপাশি শরীরকে আরও কর্মক্ষম করে তোলে।

পেটের মেদ
দ্রুতগতিতে হাঁটা ওজন কমানোর সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর উপায়গুলোর একটি।

পর্যাপ্ত পানি পানও ওজন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পানি হজমে সহায়তা করে, শরীরের বিপাকক্রিয়া সচল রাখে এবং অযথা ক্ষুধা লাগার প্রবণতা কমায়। প্রতিদিন অন্তত ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করলে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ঠিক থাকে এবং অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা হ্রাস পায়।

অন্যদিকে, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবও ওজন বৃদ্ধির একটি কারণ হতে পারে। ঘুম কম হলে শরীরের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, ফলে বেশি খাবার খাওয়ার ইচ্ছা তৈরি হয়। তাই প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

পেটের মেদ কমানোর উপায় হিসেবে নিয়মিত ব্যায়ামের বিকল্প নেই। প্ল্যাঙ্ক, ক্রাঞ্চ, সাইক্লিং, জগিং এবং বিভিন্ন ধরনের কার্ডিও ব্যায়াম শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সহায়ক। তবে শুধু পেটের ব্যায়াম নয়, পুরো শরীরের জন্য উপযোগী ব্যায়াম করাও জরুরি।

এ ছাড়া সফট ড্রিংকস, মিষ্টি ও অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা উচিত। এসব খাবারে উচ্চমাত্রার চিনি ও ক্যালোরি থাকায় খুব দ্রুত ওজন বাড়তে পারে। বিশেষ করে ভারি খাবারের পর কোমল পানীয় পান করলে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি জমার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

পেটের মেদ
ড্রিংকস, মিষ্টি ও অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা

রাতের খাবারের ক্ষেত্রেও সচেতন থাকা জরুরি। রাতে অতিরিক্ত মাংস বা ভারি খাবার খেলে তা সহজে হজম হয় না এবং অতিরিক্ত ক্যালোরি শরীরে জমতে থাকে। তাই রাতের খাবারে সবজি, সালাদ, ডিম, মাছ, ডাল কিংবা ওটসের মতো আঁশ ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা।

উৎসবের আনন্দ উপভোগের পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত শরীরচর্চা বজায় রাখতে পারলে ভুঁড়ি বা পেটের মেদ নিয়ে দুশ্চিন্তার প্রয়োজন নেই। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই হতে পারে অতিরিক্ত মেদ কমানোর সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।

জনপ্রিয় সংবাদ

চন্দনাইশে পূবালী ব্যাংকের ‘ক্যাশলেস বৈলতলী’ ক্যাম্পেইন উদ্বোধন

ঈদে বেশি মাংস খেয়ে ভুঁড়ি বেড়েছে? জেনে নিন কার্যকর সমাধান

Update Time : ০৭:৪২:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

পেটের মেদ কমানোর উপায় নিয়ে চিন্তিত অনেকেই, বিশেষ করে ঈদ বা উৎসবের পর। কোরবানির ঈদে গরু ও খাসির মাংসের বিভিন্ন পদ খেতে খেতে অনেক সময় প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ক্যালোরি শরীরে জমা হয়। এর ফলে ওজন বৃদ্ধি, পেটের চারপাশে চর্বি জমা এবং ভুঁড়ি বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকদিন বেশি মাংস খাওয়ার কারণে ওজন কিছুটা বেড়ে গেলেও সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত শরীরচর্চার মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। এজন্য প্রথমেই মাংসের পরিমাণ কমিয়ে খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ডাল, ফলমূল ও সালাদের পরিমাণ বাড়াতে হবে। এসব খাবারে ক্যালোরি কম থাকলেও পুষ্টিগুণ বেশি এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে।

আরও পড়ুন  বয়স ৩৫! এখন থেকেই যত্ন নিলে দীর্ঘদিন থাকবেন সুস্থ ও প্রাণবন্ত

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুতগতিতে হাঁটা ওজন কমানোর সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর উপায়গুলোর একটি। প্রতিদিন অন্তত ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট হাঁটলে অতিরিক্ত ক্যালোরি খরচ হয় এবং ধীরে ধীরে শরীরের জমে থাকা চর্বি কমতে শুরু করে। নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখার পাশাপাশি শরীরকে আরও কর্মক্ষম করে তোলে।

পেটের মেদ
দ্রুতগতিতে হাঁটা ওজন কমানোর সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর উপায়গুলোর একটি।

পর্যাপ্ত পানি পানও ওজন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পানি হজমে সহায়তা করে, শরীরের বিপাকক্রিয়া সচল রাখে এবং অযথা ক্ষুধা লাগার প্রবণতা কমায়। প্রতিদিন অন্তত ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করলে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ঠিক থাকে এবং অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা হ্রাস পায়।

আরও পড়ুন  বর্ষাকালে কেন খিচুড়ি খাবেন? জানুন পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা

অন্যদিকে, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবও ওজন বৃদ্ধির একটি কারণ হতে পারে। ঘুম কম হলে শরীরের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, ফলে বেশি খাবার খাওয়ার ইচ্ছা তৈরি হয়। তাই প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

পেটের মেদ কমানোর উপায় হিসেবে নিয়মিত ব্যায়ামের বিকল্প নেই। প্ল্যাঙ্ক, ক্রাঞ্চ, সাইক্লিং, জগিং এবং বিভিন্ন ধরনের কার্ডিও ব্যায়াম শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সহায়ক। তবে শুধু পেটের ব্যায়াম নয়, পুরো শরীরের জন্য উপযোগী ব্যায়াম করাও জরুরি।

এ ছাড়া সফট ড্রিংকস, মিষ্টি ও অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা উচিত। এসব খাবারে উচ্চমাত্রার চিনি ও ক্যালোরি থাকায় খুব দ্রুত ওজন বাড়তে পারে। বিশেষ করে ভারি খাবারের পর কোমল পানীয় পান করলে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি জমার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

আরও পড়ুন  হাম ও হাম উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৯০ জন
পেটের মেদ
ড্রিংকস, মিষ্টি ও অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা

রাতের খাবারের ক্ষেত্রেও সচেতন থাকা জরুরি। রাতে অতিরিক্ত মাংস বা ভারি খাবার খেলে তা সহজে হজম হয় না এবং অতিরিক্ত ক্যালোরি শরীরে জমতে থাকে। তাই রাতের খাবারে সবজি, সালাদ, ডিম, মাছ, ডাল কিংবা ওটসের মতো আঁশ ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা।

উৎসবের আনন্দ উপভোগের পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত শরীরচর্চা বজায় রাখতে পারলে ভুঁড়ি বা পেটের মেদ নিয়ে দুশ্চিন্তার প্রয়োজন নেই। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই হতে পারে অতিরিক্ত মেদ কমানোর সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।