বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধির আশঙ্কার মধ্যে ডেঙ্গু মৌসুমে ১ লাখ স্যালাইন অনুদান দিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই)। ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা সহায়তায় এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সর্দার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন জানান, বর্তমানে সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোরে এক লাখ ইউনিট স্যালাইন মজুত রয়েছে। এছাড়া উপজেলা পর্যায়েও আরও ২০ থেকে ২৫ হাজার ইউনিট স্যালাইন সংরক্ষিত আছে। প্রয়োজন হলে দ্রুত অতিরিক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
রাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেন, ডেঙ্গু মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই সরকার বিভিন্ন প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতামূলক কার্যক্রম, চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশের ওষুধ শিল্পের অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে উৎপাদিত ওষুধ বিশ্বের ১৪০টিরও বেশি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। ভবিষ্যতে দেশে টিকা উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জিত হলে রপ্তানি বাজার আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে আদ-দ্বীন হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দেওয়ার জন্য আরও দুই দিন সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু মৌসুমে ১ লাখ স্যালাইন অনুদান রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ ডেঙ্গু মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
ডেঙ্গুর ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার ও ওষুধ শিল্পের এই যৌথ উদ্যোগ স্বাস্থ্যখাতে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম, প্রস্তুত হাসপাতাল এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে চলতি মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রভাব কমিয়ে আনার আশা করা হচ্ছে।



























