চকরিয়া সড়ক দুর্ঘটনা আবারও প্রাণ কাড়ল এক ব্যক্তির। কক্সবাজারের চকরিয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে কাভার্ড ভ্যান ও যাত্রীবাহী সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুই যাত্রী আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর এলাকায় কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
রবিবার (১৯ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের বুড়ির দোকান এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে চিরিঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়।
নিহত ব্যক্তির নাম ইমাম হোসেন (৩৯)। তিনি চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের পহরচাঁদা গ্রামের বাসিন্দা এবং শামসুল আলমের ছেলে।
দুর্ঘটনায় আহত অপর দুই যাত্রীর পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। তারা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিল একটি কাভার্ড ভ্যান। একই সময়ে বিপরীত দিক থেকে আসছিল যাত্রীবাহী একটি সিএনজি অটোরিকশা। হারবাং ইউনিয়নের বুড়ির দোকান এলাকায় পৌঁছালে দুটি যানবাহনের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের তীব্রতায় সিএনজি অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং এর ভেতরে থাকা তিন যাত্রী গুরুতর আহত হন।
স্থানীয় লোকজন দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইমাম হোসেন মারা যান।
চিরিঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুল আমিন দুর্ঘটনায় একজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। দুর্ঘটনায় জড়িত কাভার্ড ভ্যান ও সিএনজি অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
যদিও তদন্ত শেষ হয়নি, তবে প্রাথমিকভাবে কয়েকটি বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে—
- অতিরিক্ত গতি
- বিপজ্জনক ওভারটেকিং
- চালকের অসতর্কতা
- মহাসড়কে লেন শৃঙ্খলা না মানা
- দৃশ্যমানতার সমস্যা বা যান্ত্রিক ত্রুটি
তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের হারবাং এলাকার এই অংশে প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের দাবি—
- মহাসড়কে অতিরিক্ত গতিতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
- ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় গতি কমানোর নির্দেশনা ও সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড বাড়াতে হবে।
- নিয়মিত হাইওয়ে পুলিশের টহল জোরদার করতে হবে।
- সিএনজি ও ধীরগতির যানবাহনের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের মহাসড়কে দুর্ঘটনা বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি কারণ উল্লেখযোগ্য—
- অতিরিক্ত গতিতে যান চালানো
- চালকদের ক্লান্তি ও দীর্ঘ সময় ডিউটি
- ট্রাফিক আইন অমান্য
- ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং
- অনুপযুক্তভাবে ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল
- সচেতনতার অভাব
এসব সমস্যা সমাধানে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি চালক ও যাত্রী—উভয়ের সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।





























