পবিত্র হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরা বাংলাদেশি হজযাত্রীদের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। হজ শেষে দেশে ফিরলেন ৫২ হাজার হাজি—ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ বুলেটিনে উঠে এসেছে এমন তথ্য। এখন পর্যন্ত ১২৩টি ফিরতি ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন ৫২ হাজার ৪৯১ জন হজযাত্রী। একই সঙ্গে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে হজ পালন করতে গিয়ে ৪৯ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতের সর্বশেষ হজ বুলেটিন অনুযায়ী, সৌদি আরব থেকে দেশে প্রত্যাবর্তন কার্যক্রম নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী চলছে।
ফিরতি ফ্লাইট শুরু হওয়ার পর থেকে প্রতিদিনই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হজযাত্রী দেশে ফিরছেন। ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হজ কার্যক্রমের শেষ ধাপ হিসেবে প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশে ফেরা হাজিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যাত্রী পরিবহন করেছে জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা। তাদের মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন ২১ হাজার ৯২০ জন হজযাত্রী। এছাড়া সৌদি আরবের জাতীয় উড়োজাহাজ সংস্থা ১৮ হাজার ৮৮০ জন এবং বেসরকারি উড়োজাহাজ সংস্থা ফ্লাইনাসের মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন ৮ হাজার ৩৮০ জন।
এছাড়াও অন্যান্য উড়োজাহাজ সংস্থার মাধ্যমে সৌদি আরব ত্যাগ করেছেন আরও ৩ হাজার ৩১১ জন বাংলাদেশি হাজি। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, হজযাত্রীদের চাপ সামাল দিতে একাধিক সংস্থা সমন্বিতভাবে পরিবহন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এতে করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অধিকাংশ হাজিকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে চলতি বছরের হজ মৌসুমে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯ জনে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, মৃতদের মধ্যে ৩৩ জন পুরুষ এবং ১৬ জন নারী রয়েছেন। হজের মতো বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশে স্বাস্থ্যগত নানা জটিলতা ও বার্ধক্যজনিত কারণে প্রতিবছর কিছু মৃত্যুর ঘটনা ঘটে থাকে।
মৃতদের অবস্থানভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, পবিত্র নগরী মক্কায় সবচেয়ে বেশি ৩৫ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া মদিনায় মারা গেছেন ১৩ জন এবং জেদ্দায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। সৌদি আরবে অবস্থানকালে অসুস্থতা, হৃদরোগসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার কারণে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। হজ মৌসুমে অসুস্থ হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন মোট ৪১০ জন বাংলাদেশি হাজি। বর্তমানে সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৪ জন। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ হজ মিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিক নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।
হাসপাতালভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, সৌদি ন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৯ জন। এছাড়া কিং আব্দুল আজিজ হাসপাতালে একজন, কিং ফয়সাল হাসপাতালে একজন, সৌদি জার্মান হাসপাতালে একজন এবং কেয়ার মেডিক্যালে তিনজন ভর্তি রয়েছেন। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এছাড়া মক্কা মেডিক্যাল সেন্টারে চারজন, হেরা জেনারেল হাসপাতালে দুইজন, হায়াত ন্যাশনাল হাসপাতালে একজন এবং কিং ফাহাদ জেনারেল হাসপাতালে দুইজন চিকিৎসা নিচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অধিকাংশ রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।
চলতি বছরের পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয় ২৬ মে। এ উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১৭ লাখেরও বেশি মুসল্লি সৌদি আরবে সমবেত হন। ইসলাম ধর্মের অন্যতম প্রধান ফরজ ইবাদত পালনের জন্য বিশ্বের বৃহত্তম ধর্মীয় সমাবেশগুলোর একটি হিসেবে হজ বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। বাংলাদেশ থেকে এ বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। সরকারি ও বেসরকারি উভয় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি হজ পালনের সুযোগ পেয়েছেন।
হজযাত্রীদের সৌদি আরবগামী প্রথম ফ্লাইট পরিচালিত হয় গত ১৮ এপ্রিল। পরবর্তীতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ফ্লাইটের মাধ্যমে হাজিদের সৌদি আরবে পাঠানো হয়। শেষ হজ ফ্লাইটটি পরিচালিত হয় ২১ মে। পুরো কার্যক্রমে বিমানবন্দর, হজ মিশন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করেছে। পবিত্র হজ পালন শেষে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয়েছে গত ৩০ মে থেকে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত দেশে ফেরার কার্যক্রম চলবে। ফলে এখনও কয়েক হাজার বাংলাদেশি হাজি সৌদি আরবে অবস্থান করছেন এবং পর্যায়ক্রমে তারা দেশে ফিরবেন।
ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অবশিষ্ট হজযাত্রীদের নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রত্যাবর্তন কার্যক্রম শেষ হলে চলতি বছরের হজ ব্যবস্থাপনার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে।




























