ঢাকা ০৮:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কাঁঠালের দাম: মৌসুম শেষে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা Logo কানাডায় গায়কের গাড়ি লক্ষ্য করে সাত রাউন্ড গুলি! Logo বাল্যবিবাহের অপরাধে কেরানীগঞ্জে বরসহ ৩ জনের কারাদণ্ড Logo চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনে ট্যাংক দুর্ঘটনায় ২ সেনা নিহত, আহত ১ Logo এমবাপ্পের রেকর্ডের রাতে ইন্টারকে হারাল রিয়াল Logo হালান্ডের জোড়া গোল, পোর্তোকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ম্যানসিটির দাপুটে জয় Logo আরব আমিরাতকে উড়িয়ে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ, শেষ চারে ভারতের মুখোমুখি Logo রোনালদোর ২ রেকর্ড ভেঙে ইতিহাস গড়লেন মেসি, ২০ বছর পরও ব্যালন ডি’অরের তালিকায় Logo অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ, হংকংকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে Logo নিজের ছবি দিয়ে ৯০-এর দশকের লুক, জানুন ১০টি AI Prompt

যে ৩ বৈশিষ্ট্যে মিলবে বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশের সুযোগ

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০১:২১:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
  • ৫৫৪

বিনা হিসাবে জান্নাত লাভ করবেন আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসাকারীরা। | ছবি: সংগৃহীত

বিনা হিসাবে জান্নাত লাভ করা মহান আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ। পরকালের সফলতার জন্য একজন মুমিনের দায়িত্ব হলো দুনিয়ার জীবনে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নেক আমল করা। ইসলামের বিভিন্ন বর্ণনায় এমন কিছু সৌভাগ্যবান মানুষের কথা এসেছে, যারা কোনো হিসাব ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করবেন।

সহিহ বুখারির ৬৫৪১ নম্বর হাদিসে হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত এক দীর্ঘ হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) এমন ব্যক্তিদের কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন। তাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, তারা আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও নির্ভরতা রাখেন।

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যারা আল্লাহর ওপর এমন দৃঢ় বিশ্বাস রাখে যে বিপদ, অসুস্থতা বা কঠিন পরিস্থিতিতেও তারা শিরক বা অবৈধ উপায়ে সমাধানের চেষ্টা করে না, তারা বিশেষ মর্যাদা লাভ করবে।

বিনা হিসাবে জান্নাত লাভকারীরা কুসংস্কার থেকেও মুক্ত থাকবেন। ইসলামে কোনো দিন, সময়, পাখি বা কোনো বস্তুকে অশুভ মনে করা নিষিদ্ধ। যারা এসব বিশ্বাস থেকে দূরে থেকে একমাত্র আল্লাহর ওপর নির্ভর করেন, তারা আল্লাহর বিশেষ রহমতের অধিকারী হতে পারেন।

তাদের আরেকটি বড় গুণ হলো তাওয়াক্কুল। অর্থাৎ সব পরিস্থিতিতে আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখা এবং তাঁর সিদ্ধান্তের ওপর সন্তুষ্ট থাকা।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে জান্নাতে প্রথম প্রবেশকারীদের কিছু বৈশিষ্ট্যের কথাও এসেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) জানিয়েছেন, তাদের চেহারা হবে পূর্ণিমার রাতের চাঁদের মতো উজ্জ্বল ও আলোকোজ্জ্বল।

জান্নাতে তাদের জীবন হবে সম্পূর্ণ পবিত্র ও কষ্টমুক্ত। সেখানে তাদের কোনো শারীরিক অপবিত্রতা থাকবে না। তাদের ঘাম হবে কস্তুরির মতো সুগন্ধযুক্ত। জান্নাতের জীবন হবে দুনিয়ার সব সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বে।

হাদিসে আরও এসেছে, জান্নাতিদের ব্যবহার্য জিনিসপত্র হবে অত্যন্ত সম্মানজনক। তাদের পানাহারের পাত্র হবে সোনা ও রুপার তৈরি। তারা এমন এক পরিবেশে থাকবে যেখানে থাকবে না কোনো দুঃখ, কষ্ট বা অশান্তি।

জান্নাতিদের অন্তর হবে হিংসা ও বিদ্বেষমুক্ত। তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ বা মতভেদ থাকবে না। তারা একে অপরের প্রতি ভালোবাসা ও সম্প্রীতি নিয়ে বসবাস করবে।

ইসলামি শিক্ষায় বলা হয়েছে, জান্নাতের এই মহান পুরস্কার পাওয়ার জন্য একজন মুমিনের উচিত নিজের জীবনকে ঈমান, তাকওয়া ও উত্তম আমলের মাধ্যমে পরিচালনা করা।

আল্লাহর ওপর দৃঢ় বিশ্বাস রাখা, শিরক থেকে দূরে থাকা, কুসংস্কার পরিহার করা এবং নিয়মিত নেক কাজ করার মাধ্যমে একজন মানুষ আল্লাহর রহমত লাভের আশা করতে পারে।

এ ছাড়া আল্লাহর কাছে সবসময় দোয়া করা উচিত, যেন তিনি আমাদের সবাইকে সেই সৌভাগ্যবান বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করেন, যারা বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করার সুযোগ লাভ করবেন।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ঈমানের সঙ্গে জীবন পরিচালনা করার এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন।

কাঁঠালের দাম: মৌসুম শেষে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা

যে ৩ বৈশিষ্ট্যে মিলবে বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশের সুযোগ

Update Time : ০১:২১:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

বিনা হিসাবে জান্নাত লাভ করা মহান আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ। পরকালের সফলতার জন্য একজন মুমিনের দায়িত্ব হলো দুনিয়ার জীবনে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নেক আমল করা। ইসলামের বিভিন্ন বর্ণনায় এমন কিছু সৌভাগ্যবান মানুষের কথা এসেছে, যারা কোনো হিসাব ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করবেন।

সহিহ বুখারির ৬৫৪১ নম্বর হাদিসে হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত এক দীর্ঘ হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) এমন ব্যক্তিদের কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন। তাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, তারা আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও নির্ভরতা রাখেন।

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যারা আল্লাহর ওপর এমন দৃঢ় বিশ্বাস রাখে যে বিপদ, অসুস্থতা বা কঠিন পরিস্থিতিতেও তারা শিরক বা অবৈধ উপায়ে সমাধানের চেষ্টা করে না, তারা বিশেষ মর্যাদা লাভ করবে।

বিনা হিসাবে জান্নাত লাভকারীরা কুসংস্কার থেকেও মুক্ত থাকবেন। ইসলামে কোনো দিন, সময়, পাখি বা কোনো বস্তুকে অশুভ মনে করা নিষিদ্ধ। যারা এসব বিশ্বাস থেকে দূরে থেকে একমাত্র আল্লাহর ওপর নির্ভর করেন, তারা আল্লাহর বিশেষ রহমতের অধিকারী হতে পারেন।

তাদের আরেকটি বড় গুণ হলো তাওয়াক্কুল। অর্থাৎ সব পরিস্থিতিতে আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখা এবং তাঁর সিদ্ধান্তের ওপর সন্তুষ্ট থাকা।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে জান্নাতে প্রথম প্রবেশকারীদের কিছু বৈশিষ্ট্যের কথাও এসেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) জানিয়েছেন, তাদের চেহারা হবে পূর্ণিমার রাতের চাঁদের মতো উজ্জ্বল ও আলোকোজ্জ্বল।

জান্নাতে তাদের জীবন হবে সম্পূর্ণ পবিত্র ও কষ্টমুক্ত। সেখানে তাদের কোনো শারীরিক অপবিত্রতা থাকবে না। তাদের ঘাম হবে কস্তুরির মতো সুগন্ধযুক্ত। জান্নাতের জীবন হবে দুনিয়ার সব সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বে।

হাদিসে আরও এসেছে, জান্নাতিদের ব্যবহার্য জিনিসপত্র হবে অত্যন্ত সম্মানজনক। তাদের পানাহারের পাত্র হবে সোনা ও রুপার তৈরি। তারা এমন এক পরিবেশে থাকবে যেখানে থাকবে না কোনো দুঃখ, কষ্ট বা অশান্তি।

জান্নাতিদের অন্তর হবে হিংসা ও বিদ্বেষমুক্ত। তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ বা মতভেদ থাকবে না। তারা একে অপরের প্রতি ভালোবাসা ও সম্প্রীতি নিয়ে বসবাস করবে।

ইসলামি শিক্ষায় বলা হয়েছে, জান্নাতের এই মহান পুরস্কার পাওয়ার জন্য একজন মুমিনের উচিত নিজের জীবনকে ঈমান, তাকওয়া ও উত্তম আমলের মাধ্যমে পরিচালনা করা।

আল্লাহর ওপর দৃঢ় বিশ্বাস রাখা, শিরক থেকে দূরে থাকা, কুসংস্কার পরিহার করা এবং নিয়মিত নেক কাজ করার মাধ্যমে একজন মানুষ আল্লাহর রহমত লাভের আশা করতে পারে।

এ ছাড়া আল্লাহর কাছে সবসময় দোয়া করা উচিত, যেন তিনি আমাদের সবাইকে সেই সৌভাগ্যবান বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করেন, যারা বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করার সুযোগ লাভ করবেন।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ঈমানের সঙ্গে জীবন পরিচালনা করার এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন।