ঢাকা ০৮:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo পরীমনিকে ঘিরে বড় সুখবর: ওটিটি প্ল্যাটফর্মে আসছে নতুন ওয়েব ফিল্ম ‘সেপারেশন’ Logo সাবালেঙ্কাকে হারিয়ে ইউএস ওপেনের নতুন রানী রিবাকিনা Logo লিভারপুলের হতাশার ড্র, চেলসিও পেল না জয় Logo মেসির গোলেও জয় পেল না ইন্টার মিয়ামি Logo এমবাপ্পের জোড়া গোলে রিয়ালের বড় জয় Logo শি জিনপিং কেন মোদির নৈশভোজে গেলেন না, জানুন আসল কারণ Logo স্কুল-কলেজে শিক্ষকদের রাজনীতিমুক্ত রাখা, ক্লাস লাইভ মনিটরিং: ১৫ নির্দেশনায় কী বদলাবে? Logo ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে প্রবাসীদের পোস্টাল ভোটের নিবন্ধন Logo চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে শিশুর মৃত্যু, নতুন ভর্তি ৫৪ Logo প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে চাকরির সুযোগ: ৮ পদে নিয়োগ, বেতন সর্বোচ্চ ৫৩ হাজার টাকা

মরক্কোর বিপক্ষে কেন ব্যর্থ ব্রাজিল? ৬ কারণ বিশ্লেষণ

মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের ব্যর্থতার কারণ

বিশ্বকাপের শুরুতেই ধাক্কা খেল সেলেসাওরা

বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে ২০২৬ আসরে মাঠে নেমেছিল ব্রাজিল। কিন্তু গ্রুপ ‘সি’-তে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করতে হয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। স্কোরলাইন সমতা দেখালেও মাঠের খেলায় ব্রাজিল ছিল প্রত্যাশার অনেক নিচে।

ম্যাচজুড়ে মরক্কো ছিল বেশি সংগঠিত ও আত্মবিশ্বাসী। ব্রাজিলের আক্রমণ, মিডফিল্ড এবং রক্ষণ—তিন বিভাগেই দেখা গেছে দুর্বলতা। ফলে হেক্সা মিশনের শুরুটা মোটেও সুখকর হয়নি সেলেসাওদের জন্য।

১. মিডফিল্ডে নিয়ন্ত্রণ হারানো

ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল মাঝমাঠে। মরক্কোর মিডফিল্ডাররা খুব সহজেই বলের দখল ধরে রেখেছেন এবং আক্রমণ গড়েছেন।

অভিজ্ঞ কাসেমিরোও নিজের সেরা ছন্দে ছিলেন না। বল পুনরুদ্ধার কিংবা প্রতিপক্ষের আক্রমণ থামানোর ক্ষেত্রে তার ব্যর্থতা ব্রাজিলকে বড় মূল্য দিতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত তাকে বিরতির পর মাঠ থেকেও তুলে নেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি।

২. রক্ষণভাগের অবস্থানগত ভুল

মরক্কোর গোলের সময় ব্রাজিলের ডিফেন্স লাইনের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। লুকাস পাকেতা বল হারানোর পর দ্রুত আক্রমণে ওঠে মরক্কো।

ব্রাহিম দিয়াজের বাড়ানো পাস থেকে ইসমাইল সাইবারি গোল করেন। সেই সময় মারকিনিয়োস ও গ্যাব্রিয়েলের মাঝে বড় ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়েছিল, যা সহজেই কাজে লাগায় মরক্কো।

৩. আলিসনের ভুল সিদ্ধান্ত

গোলের মুহূর্তে গোলরক্ষক আলিসন বেকারের সিদ্ধান্তও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তিনি সময়ের আগেই পোস্ট ছেড়ে সামনে এগিয়ে আসেন।

ফলে সাইবারির জন্য কাজ সহজ হয়ে যায়। ঠাণ্ডা মাথায় বল লব করে জালে পাঠিয়ে দেন মরক্কোর এই ফরোয়ার্ড। অনেকের মতে, আলিসন নিজের জায়গায় থাকলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত।

৪. প্রেসিং পরিকল্পনা ব্যর্থ

ম্যাচ শেষে আনচেলত্তি স্বীকার করেছেন যে দলের প্রেসিং কৌশল কার্যকর হয়নি। ব্রাজিল হাই প্রেসের মাধ্যমে মরক্কোকে চাপে রাখতে চেয়েছিল।

কিন্তু মরক্কো ধৈর্যের সঙ্গে সেই প্রেস ভেঙে বেরিয়ে আসে। বিশেষ করে আশরাফ হাকিমি ও বিলাল এল-খান্নৌসের গতিময় ফুটবল ব্রাজিলকে বিপাকে ফেলে।

৫. আক্রমণে সৃজনশীলতার অভাব

ব্রাজিলের আক্রমণভাগও ছিল নিষ্প্রভ। ম্যাচজুড়ে খুব কম পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পেরেছে দলটি।

সমতাসূচক গোলটি এসেছে মূলত ব্যক্তিগত দক্ষতা থেকে। দলগত আক্রমণ পরিকল্পনার ছাপ খুব একটা দেখা যায়নি। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যই ব্রাজিলকে ম্যাচে ফিরিয়েছে।

৬. মানসিক চাপ ও নার্ভাসনেস

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের মধ্যে চাপ স্পষ্ট ছিল। সহজ পাসেও ভুল হয়েছে, বলের দখল হারিয়েছে অপ্রয়োজনীয়ভাবে।

আনচেলত্তিও বলেছেন, তার দল শুরুতে নার্ভাস ছিল। সেই মানসিক চাপ পুরো ম্যাচজুড়েই তাদের খেলায় প্রভাব ফেলেছে।

সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

মরক্কোর বিপক্ষে ড্র ব্রাজিলের জন্য একটি সতর্কবার্তা। দলটির ব্যক্তিগত প্রতিভার অভাব নেই, কিন্তু দলগত সমন্বয় এবং কৌশলগত উন্নতি ছাড়া বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে।

ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ঝলক ব্রাজিলকে হার থেকে বাঁচিয়েছে। তবে হেক্সা জয়ের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে অনেক বেশি সংগঠিত ও আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলতে হবে সেলেসাওদের।

জনপ্রিয় সংবাদ

পরীমনিকে ঘিরে বড় সুখবর: ওটিটি প্ল্যাটফর্মে আসছে নতুন ওয়েব ফিল্ম ‘সেপারেশন’

মরক্কোর বিপক্ষে কেন ব্যর্থ ব্রাজিল? ৬ কারণ বিশ্লেষণ

Update Time : ০২:১৮:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপের শুরুতেই ধাক্কা খেল সেলেসাওরা

বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে ২০২৬ আসরে মাঠে নেমেছিল ব্রাজিল। কিন্তু গ্রুপ ‘সি’-তে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করতে হয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। স্কোরলাইন সমতা দেখালেও মাঠের খেলায় ব্রাজিল ছিল প্রত্যাশার অনেক নিচে।

ম্যাচজুড়ে মরক্কো ছিল বেশি সংগঠিত ও আত্মবিশ্বাসী। ব্রাজিলের আক্রমণ, মিডফিল্ড এবং রক্ষণ—তিন বিভাগেই দেখা গেছে দুর্বলতা। ফলে হেক্সা মিশনের শুরুটা মোটেও সুখকর হয়নি সেলেসাওদের জন্য।

১. মিডফিল্ডে নিয়ন্ত্রণ হারানো

ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল মাঝমাঠে। মরক্কোর মিডফিল্ডাররা খুব সহজেই বলের দখল ধরে রেখেছেন এবং আক্রমণ গড়েছেন।

অভিজ্ঞ কাসেমিরোও নিজের সেরা ছন্দে ছিলেন না। বল পুনরুদ্ধার কিংবা প্রতিপক্ষের আক্রমণ থামানোর ক্ষেত্রে তার ব্যর্থতা ব্রাজিলকে বড় মূল্য দিতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত তাকে বিরতির পর মাঠ থেকেও তুলে নেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি।

আরও পড়ুন  ব্রাজিলের ৬ গোলের উৎসব, আনচেলত্তির কৌশলে পানামা বিধ্বস্ত

২. রক্ষণভাগের অবস্থানগত ভুল

মরক্কোর গোলের সময় ব্রাজিলের ডিফেন্স লাইনের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। লুকাস পাকেতা বল হারানোর পর দ্রুত আক্রমণে ওঠে মরক্কো।

ব্রাহিম দিয়াজের বাড়ানো পাস থেকে ইসমাইল সাইবারি গোল করেন। সেই সময় মারকিনিয়োস ও গ্যাব্রিয়েলের মাঝে বড় ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়েছিল, যা সহজেই কাজে লাগায় মরক্কো।

৩. আলিসনের ভুল সিদ্ধান্ত

গোলের মুহূর্তে গোলরক্ষক আলিসন বেকারের সিদ্ধান্তও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তিনি সময়ের আগেই পোস্ট ছেড়ে সামনে এগিয়ে আসেন।

ফলে সাইবারির জন্য কাজ সহজ হয়ে যায়। ঠাণ্ডা মাথায় বল লব করে জালে পাঠিয়ে দেন মরক্কোর এই ফরোয়ার্ড। অনেকের মতে, আলিসন নিজের জায়গায় থাকলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত।

আরও পড়ুন  নেইমার কি ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচে খেলবেন?

৪. প্রেসিং পরিকল্পনা ব্যর্থ

ম্যাচ শেষে আনচেলত্তি স্বীকার করেছেন যে দলের প্রেসিং কৌশল কার্যকর হয়নি। ব্রাজিল হাই প্রেসের মাধ্যমে মরক্কোকে চাপে রাখতে চেয়েছিল।

কিন্তু মরক্কো ধৈর্যের সঙ্গে সেই প্রেস ভেঙে বেরিয়ে আসে। বিশেষ করে আশরাফ হাকিমি ও বিলাল এল-খান্নৌসের গতিময় ফুটবল ব্রাজিলকে বিপাকে ফেলে।

৫. আক্রমণে সৃজনশীলতার অভাব

ব্রাজিলের আক্রমণভাগও ছিল নিষ্প্রভ। ম্যাচজুড়ে খুব কম পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পেরেছে দলটি।

সমতাসূচক গোলটি এসেছে মূলত ব্যক্তিগত দক্ষতা থেকে। দলগত আক্রমণ পরিকল্পনার ছাপ খুব একটা দেখা যায়নি। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যই ব্রাজিলকে ম্যাচে ফিরিয়েছে।

আরও পড়ুন  ক্ষমতা ধরে রাখতে গোপন তৎপরতা? ইনফান্তিনোকে নিয়ে তোলপাড়

৬. মানসিক চাপ ও নার্ভাসনেস

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের মধ্যে চাপ স্পষ্ট ছিল। সহজ পাসেও ভুল হয়েছে, বলের দখল হারিয়েছে অপ্রয়োজনীয়ভাবে।

আনচেলত্তিও বলেছেন, তার দল শুরুতে নার্ভাস ছিল। সেই মানসিক চাপ পুরো ম্যাচজুড়েই তাদের খেলায় প্রভাব ফেলেছে।

সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

মরক্কোর বিপক্ষে ড্র ব্রাজিলের জন্য একটি সতর্কবার্তা। দলটির ব্যক্তিগত প্রতিভার অভাব নেই, কিন্তু দলগত সমন্বয় এবং কৌশলগত উন্নতি ছাড়া বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে।

ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ঝলক ব্রাজিলকে হার থেকে বাঁচিয়েছে। তবে হেক্সা জয়ের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে অনেক বেশি সংগঠিত ও আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলতে হবে সেলেসাওদের।