ঢাকা ০৯:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo শিশুর চিনি খাওয়া কমালে মস্তিষ্ক ভালো থাকতে পারে, বলছে গবেষণা Logo ফিফা বিশ্বকাপ বয়কটের ঘোষণা UEFA-এর, বিনিয়োগ পরিকল্পনা ঘিরে নতুন বিতর্ক Logo মিসরীয় মেসাকাআ রেসিপি: বেগুন ও টমেটো সসে সুস্বাদু ঐতিহ্যবাহী পদ Logo অপ্রাহ উইনফ্রে স্কুল বন্ধ: দক্ষিণ আফ্রিকার গার্লস একাডেমির নতুন সিদ্ধান্ত Logo প্রাকৃতিকভাবে ডার্ক সার্কেল দূর করার উপায় Logo গাজর নাকি আলু: রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে কোনটি বেশি উপকারী? Logo ছুটির দিন টানা ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায় Logo জুম্মা মোবারক বলা কি জায়েজ? জানুন ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা Logo বাগেরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি দিপু, সম্পাদক জালাল Logo ভ্রমণের জন্য বাংলাদেশ আগের চেয়ে নিরাপদ, সতর্কতা কমাল যুক্তরাষ্ট্র

সৌন্দর্যচর্চায় ইনজেকশন ব্যবহার: ঝুঁকি, সতর্কতা ও করণীয়

  • Mir Yeaz Mahmud
  • Update Time : ০৬:২৯:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
  • ৫২৬

সৌন্দর্যচর্চায় ইনজেকশন ব্যবহারের মাধ্যমে কসমেটিক চিকিৎসা নিচ্ছেন এক নারী। ছবি: সংগৃহীত।

সৌন্দর্যচর্চায় ইনজেকশন ব্যবহার বর্তমানে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় কসমেটিক চিকিৎসাগুলোর অন্যতম। মুখের বলিরেখা কমানো, ত্বককে আরও মসৃণ ও আকর্ষণীয় দেখানো কিংবা বয়সের ছাপ আড়াল করতে অনেকেই বোটক্স ও ডার্মাল ফিলারের মতো ইনজেকশনভিত্তিক চিকিৎসা গ্রহণ করছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব পদ্ধতি যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে ততটা ঝুঁকিমুক্ত নয়।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বোটক্স ও ফিলারকে ‘মিনিমালি ইনভেসিভ’ বা ক্ষুদ্র অস্ত্রোপচারের সমতুল্য ধরা হয়। ফলে এগুলো প্রয়োগের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ চিকিৎসক, সঠিক রোগনির্ণয় এবং স্বাস্থ্যগত মূল্যায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভুলভাবে প্রয়োগ করা হলে সাময়িক কিংবা স্থায়ী জটিলতা তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস, থাইরয়েডজনিত সমস্যা বা অটোইমিউন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কসমেটিক ইনজেকশনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে। এ ধরনের রোগীদের ইনজেকশনের পর অতিরিক্ত ফোলাভাব, বমি বমি ভাব বা প্রদাহ দেখা দিতে পারে। এছাড়া উদ্বেগ ও বিষণ্নতায় ভোগা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ইনজেকশনস্থলে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা ও কালশিটে দাগ হওয়ার প্রবণতাও বেশি দেখা যায়।

বোটক্স মূলত মুখের নির্দিষ্ট মাংসপেশিকে সাময়িকভাবে শিথিল করে বলিরেখা কমায়। তবে ভুল স্থানে প্রয়োগ করা হলে চোখের পাতা ঝুলে যাওয়া, ভ্রুর অসমতা বা মুখের স্বাভাবিক অভিব্যক্তি পরিবর্তিত হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিরল ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট বা খাবার গিলতে সমস্যাও তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে ডার্মাল ফিলারের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো রক্তনালি বন্ধ হয়ে যাওয়া বা ‘ভাস্কুলার অক্লুশন’। যদি ফিলার কোনো ধমনিতে প্রবেশ করে, তাহলে আক্রান্ত স্থানে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এর ফলে ত্বকের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি চোখের আশপাশের ধমনি আক্রান্ত হলে স্থায়ী দৃষ্টিশক্তি হারানোর মতো গুরুতর পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।

সৌন্দর্যচর্চায় ইনজেকশন ব্যবহার
সৌন্দর্যচর্চায় ইনজেকশন ব্যবহারের আগে ঝুঁকি ও সতর্কতা সম্পর্কে জানা জরুরি। ছবি: সংগৃহীত।

সৌন্দর্যচর্চায় ইনজেকশন ব্যবহার করার আগে শরীরে কোনো সংক্রমণ আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। সাইনাস ইনফেকশন, দাঁতের সংক্রমণ বা মূত্রনালির সংক্রমণ থাকলে চিকিৎসা সম্পন্ন হওয়ার পর ইনজেকশন নেওয়া উচিত। এছাড়া অ্যাসপিরিন বা রক্ত পাতলা করার ওষুধ সেবন করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

ইনজেকশন নেওয়ার পর ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত মেকআপ ব্যবহার না করা, আক্রান্ত স্থানে হাত না দেওয়া এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলা নিরাপদ ফলাফল নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। যদি তীব্র ব্যথা, ত্বকের রঙ পরিবর্তন, হঠাৎ ঝাপসা দেখা বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, কসমেটিক ইনজেকশন নেওয়ার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র অভিজ্ঞ চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ বা প্লাস্টিক সার্জনের পরামর্শ ও তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা গ্রহণ করা। কারণ সঠিক হাতে পরিচালিত চিকিৎসাই সৌন্দর্য ও সুস্থতা দুই-ই নিশ্চিত করতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শিশুর চিনি খাওয়া কমালে মস্তিষ্ক ভালো থাকতে পারে, বলছে গবেষণা

সৌন্দর্যচর্চায় ইনজেকশন ব্যবহার: ঝুঁকি, সতর্কতা ও করণীয়

Update Time : ০৬:২৯:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

সৌন্দর্যচর্চায় ইনজেকশন ব্যবহার বর্তমানে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় কসমেটিক চিকিৎসাগুলোর অন্যতম। মুখের বলিরেখা কমানো, ত্বককে আরও মসৃণ ও আকর্ষণীয় দেখানো কিংবা বয়সের ছাপ আড়াল করতে অনেকেই বোটক্স ও ডার্মাল ফিলারের মতো ইনজেকশনভিত্তিক চিকিৎসা গ্রহণ করছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব পদ্ধতি যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে ততটা ঝুঁকিমুক্ত নয়।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বোটক্স ও ফিলারকে ‘মিনিমালি ইনভেসিভ’ বা ক্ষুদ্র অস্ত্রোপচারের সমতুল্য ধরা হয়। ফলে এগুলো প্রয়োগের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ চিকিৎসক, সঠিক রোগনির্ণয় এবং স্বাস্থ্যগত মূল্যায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভুলভাবে প্রয়োগ করা হলে সাময়িক কিংবা স্থায়ী জটিলতা তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস, থাইরয়েডজনিত সমস্যা বা অটোইমিউন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কসমেটিক ইনজেকশনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে। এ ধরনের রোগীদের ইনজেকশনের পর অতিরিক্ত ফোলাভাব, বমি বমি ভাব বা প্রদাহ দেখা দিতে পারে। এছাড়া উদ্বেগ ও বিষণ্নতায় ভোগা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ইনজেকশনস্থলে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা ও কালশিটে দাগ হওয়ার প্রবণতাও বেশি দেখা যায়।

আরও পড়ুন  বৃষ্টিতে ভিজলে কি সত্যিই ঘামাচি কমে? জানালেন চিকিৎসক

বোটক্স মূলত মুখের নির্দিষ্ট মাংসপেশিকে সাময়িকভাবে শিথিল করে বলিরেখা কমায়। তবে ভুল স্থানে প্রয়োগ করা হলে চোখের পাতা ঝুলে যাওয়া, ভ্রুর অসমতা বা মুখের স্বাভাবিক অভিব্যক্তি পরিবর্তিত হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিরল ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট বা খাবার গিলতে সমস্যাও তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে ডার্মাল ফিলারের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো রক্তনালি বন্ধ হয়ে যাওয়া বা ‘ভাস্কুলার অক্লুশন’। যদি ফিলার কোনো ধমনিতে প্রবেশ করে, তাহলে আক্রান্ত স্থানে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এর ফলে ত্বকের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি চোখের আশপাশের ধমনি আক্রান্ত হলে স্থায়ী দৃষ্টিশক্তি হারানোর মতো গুরুতর পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।

আরও পড়ুন  মেকআপ আইটেমের মেয়াদ কতদিন?
সৌন্দর্যচর্চায় ইনজেকশন ব্যবহার
সৌন্দর্যচর্চায় ইনজেকশন ব্যবহারের আগে ঝুঁকি ও সতর্কতা সম্পর্কে জানা জরুরি। ছবি: সংগৃহীত।

সৌন্দর্যচর্চায় ইনজেকশন ব্যবহার করার আগে শরীরে কোনো সংক্রমণ আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। সাইনাস ইনফেকশন, দাঁতের সংক্রমণ বা মূত্রনালির সংক্রমণ থাকলে চিকিৎসা সম্পন্ন হওয়ার পর ইনজেকশন নেওয়া উচিত। এছাড়া অ্যাসপিরিন বা রক্ত পাতলা করার ওষুধ সেবন করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

ইনজেকশন নেওয়ার পর ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত মেকআপ ব্যবহার না করা, আক্রান্ত স্থানে হাত না দেওয়া এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলা নিরাপদ ফলাফল নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। যদি তীব্র ব্যথা, ত্বকের রঙ পরিবর্তন, হঠাৎ ঝাপসা দেখা বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

আরও পড়ুন  লেবুর শরবত না ডাবের পানি কোনটা বেশি উপকারী

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, কসমেটিক ইনজেকশন নেওয়ার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র অভিজ্ঞ চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ বা প্লাস্টিক সার্জনের পরামর্শ ও তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা গ্রহণ করা। কারণ সঠিক হাতে পরিচালিত চিকিৎসাই সৌন্দর্য ও সুস্থতা দুই-ই নিশ্চিত করতে পারে।