ঢাকা ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

নির্যাতনের শিকার ৪১ হাজার ৫৫৫ নারী-শিশুর ডিএনএ প্রোফাইলিং সম্পন্ন: সংসদে মন্ত্রী

ডিএনএ প্রোফাইলিং নারী শিশু নির্যাতন মামলায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত

ডিএনএ প্রোফাইলিং নারী শিশু নির্যাতন মামলায় দ্রুত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার এখন পর্যন্ত ৪১ হাজার ৫৫৫টি ডিএনএ নমুনা প্রোফাইলিং সম্পন্ন করেছে বলে জাতীয় সংসদে জানানো হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, অপরাধ তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়াকে বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে শক্তিশালী করতে এই ডিএনএ প্রোফাইলিং কার্যক্রম অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

তিনি আরও জানান, রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে স্থাপিত ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরি এবং দেশের সাতটি বিভাগীয় ডিএনএ স্ক্রিনিং ল্যাবরেটরির মাধ্যমে এসব নমুনা বিশ্লেষণ ও প্রোফাইলিং সম্পন্ন করা হয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে ডিএনএ প্রোফাইলিং নারী শিশু নির্যাতন মামলায় অপরাধী শনাক্তকরণ আরও নির্ভুল ও দ্রুততর হয়েছে।

জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, সরকার শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতন প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে এবং মাঠপর্যায়ে তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বিচার প্রক্রিয়াকে দ্রুত ও কার্যকর করতে আইনগত ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০২৬ সংসদের প্রথম অধিবেশনে পাস করা হয়েছে। পাশাপাশি ডিএনএ আইন ২০১৪ অনুযায়ী ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তের সম্মতি ছাড়াই ডিএনএ পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে ডিএনএ প্রোফাইলিং নারী শিশু বিচার ব্যবস্থায় প্রমাণভিত্তিক রায় প্রদান আরও সহজ হয়েছে এবং মামলার জট কমাতে সহায়তা করছে।

সরকারের বিভিন্ন সেবা কাঠামোর উন্নয়ন সম্পর্কেও সংসদে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। বর্তমানে ১৪টি ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের মাধ্যমে ৮২ হাজার ৬৭৮ জন নারী ও শিশু চিকিৎসা, আইনি সহায়তা, পুলিশি সেবা এবং মনোসামাজিক কাউন্সেলিং সেবা পেয়েছেন। এই সেন্টারগুলো নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের জন্য একটি সমন্বিত সহায়তা কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে।

এছাড়া দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্থাপিত ৯৫টি ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস ইউনিট থেকে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি নারী ও শিশু সেবা পেয়েছে। এসব সেবার মাধ্যমে দ্রুত চিকিৎসা, আইনগত সহায়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য হলো প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এই সেবাকে আরও বিস্তৃত করা।

নাগরিক সেবায় ডিজিটাল হেল্পলাইন ১০৯ বিশেষ ভূমিকা রাখছে। এই টোল-ফ্রি হেল্পলাইনের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৮৮ লাখের বেশি কল গ্রহণ করে জরুরি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তাৎক্ষণিক উদ্ধার, আইনগত নির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে, যা ডিএনএ প্রোফাইলিং নারী শিশু সুরক্ষায় সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

সরকার আরও জানিয়েছে, ঢাকায় জাতীয় ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টার এবং দেশের ৮টি রিজিওনাল ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টারের মাধ্যমে মানসিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৩৮ হাজারেরও বেশি নারী ও শিশু এই সেবা গ্রহণ করেছে। ভুক্তভোগীদের পুনর্বাসন ও সামাজিকভাবে পুনঃএকত্রীকরণে এই সেবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

এছাড়া ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে আরও ৩৭টি ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে। এর ফলে নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা আরও দ্রুত চিকিৎসা ও আইনগত সহায়তা পাবেন। সরকার বলছে, প্রযুক্তি, আইন এবং সেবার সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।

সব মিলিয়ে, ডিএনএ প্রোফাইলিং নারী শিশু উদ্যোগ দেশের বিচার ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, বিজ্ঞানভিত্তিক এবং মানবিক করে তুলছে। সরকারের এই বহুমাত্রিক উদ্যোগ নারী ও শিশু সুরক্ষায় একটি শক্তিশালী সুরক্ষা বলয় তৈরি করছে, যা ভবিষ্যতে অপরাধ দমনে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

ওজন কমাতে চিয়া সিড, ফ্ল্যাক্সসিড না ইসবগুল?

নির্যাতনের শিকার ৪১ হাজার ৫৫৫ নারী-শিশুর ডিএনএ প্রোফাইলিং সম্পন্ন: সংসদে মন্ত্রী

Update Time : ০৭:৫৬:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

ডিএনএ প্রোফাইলিং নারী শিশু নির্যাতন মামলায় দ্রুত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার এখন পর্যন্ত ৪১ হাজার ৫৫৫টি ডিএনএ নমুনা প্রোফাইলিং সম্পন্ন করেছে বলে জাতীয় সংসদে জানানো হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, অপরাধ তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়াকে বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে শক্তিশালী করতে এই ডিএনএ প্রোফাইলিং কার্যক্রম অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

তিনি আরও জানান, রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে স্থাপিত ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরি এবং দেশের সাতটি বিভাগীয় ডিএনএ স্ক্রিনিং ল্যাবরেটরির মাধ্যমে এসব নমুনা বিশ্লেষণ ও প্রোফাইলিং সম্পন্ন করা হয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে ডিএনএ প্রোফাইলিং নারী শিশু নির্যাতন মামলায় অপরাধী শনাক্তকরণ আরও নির্ভুল ও দ্রুততর হয়েছে।

জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, সরকার শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতন প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে এবং মাঠপর্যায়ে তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বিচার প্রক্রিয়াকে দ্রুত ও কার্যকর করতে আইনগত ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  শাহজাদপুরে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলায় শিক্ষিকার স্বামীর বিরুদ্ধে ১টি নির্মম অভিযোগ

মন্ত্রী আরও বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০২৬ সংসদের প্রথম অধিবেশনে পাস করা হয়েছে। পাশাপাশি ডিএনএ আইন ২০১৪ অনুযায়ী ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তের সম্মতি ছাড়াই ডিএনএ পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে ডিএনএ প্রোফাইলিং নারী শিশু বিচার ব্যবস্থায় প্রমাণভিত্তিক রায় প্রদান আরও সহজ হয়েছে এবং মামলার জট কমাতে সহায়তা করছে।

সরকারের বিভিন্ন সেবা কাঠামোর উন্নয়ন সম্পর্কেও সংসদে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। বর্তমানে ১৪টি ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের মাধ্যমে ৮২ হাজার ৬৭৮ জন নারী ও শিশু চিকিৎসা, আইনি সহায়তা, পুলিশি সেবা এবং মনোসামাজিক কাউন্সেলিং সেবা পেয়েছেন। এই সেন্টারগুলো নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের জন্য একটি সমন্বিত সহায়তা কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে।

আরও পড়ুন  সাবিনা আক্তার তুহিন গ্রেপ্তার: হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক এমপিকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ

এছাড়া দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্থাপিত ৯৫টি ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস ইউনিট থেকে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি নারী ও শিশু সেবা পেয়েছে। এসব সেবার মাধ্যমে দ্রুত চিকিৎসা, আইনগত সহায়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য হলো প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এই সেবাকে আরও বিস্তৃত করা।

নাগরিক সেবায় ডিজিটাল হেল্পলাইন ১০৯ বিশেষ ভূমিকা রাখছে। এই টোল-ফ্রি হেল্পলাইনের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৮৮ লাখের বেশি কল গ্রহণ করে জরুরি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তাৎক্ষণিক উদ্ধার, আইনগত নির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে, যা ডিএনএ প্রোফাইলিং নারী শিশু সুরক্ষায় সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

সরকার আরও জানিয়েছে, ঢাকায় জাতীয় ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টার এবং দেশের ৮টি রিজিওনাল ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টারের মাধ্যমে মানসিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৩৮ হাজারেরও বেশি নারী ও শিশু এই সেবা গ্রহণ করেছে। ভুক্তভোগীদের পুনর্বাসন ও সামাজিকভাবে পুনঃএকত্রীকরণে এই সেবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

আরও পড়ুন  কুষ্টিয়ায় বিদ্যালয়ে অচেতন ছাত্রী উদ্ধার, ধর্ষণের আলামত

এছাড়া ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে আরও ৩৭টি ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে। এর ফলে নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা আরও দ্রুত চিকিৎসা ও আইনগত সহায়তা পাবেন। সরকার বলছে, প্রযুক্তি, আইন এবং সেবার সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।

সব মিলিয়ে, ডিএনএ প্রোফাইলিং নারী শিশু উদ্যোগ দেশের বিচার ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, বিজ্ঞানভিত্তিক এবং মানবিক করে তুলছে। সরকারের এই বহুমাত্রিক উদ্যোগ নারী ও শিশু সুরক্ষায় একটি শক্তিশালী সুরক্ষা বলয় তৈরি করছে, যা ভবিষ্যতে অপরাধ দমনে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।