ঢাকা ০২:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ফুটবল মাঠে চমক দেখালেন জাইমা রহমান, বাঁ পায়ের শটে দারুণ গোল Logo শিশুদের বার্নআউট কী কীভাবে চিনবেন Logo ভারতীয় ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্টে বড় পরিবর্তন: নতুন নিয়মে সহজ হবে আবেদন Logo ৯০ শতাংশ আয় হারিয়ে ট্রাম্পের নীতিকে দুষলেন এমিজয়ী অভিনেত্রী Logo বুলিমিয়া নার্ভোসা: গুরুতর মানসিক রোগের লক্ষণ ও ঝুঁকি Logo গভীর ঘুমের উপায়: চিকিৎসকের কার্যকর পরামর্শ Logo সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় এআইভিত্তিক স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ চসিকের Logo চ্যাপা শুঁটকিতে সবজি ভুনার রেসিপি, ঝাল-মশলাদার স্বাদ Logo বিবাহ নিবন্ধনে ডিজিটাল জন্মসনদ বাধ্যতামূলক করা হবে Logo চিংড়ি লাউশাকের রেসিপি, ঘরোয়া স্বাদের পুষ্টিকর রান্না

বিবাহ নিবন্ধনে ডিজিটাল জন্মসনদ বাধ্যতামূলক করা হবে

বিয়ের নিবন্ধনে ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ছবি: সংগৃহীত

ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন ব্যবস্থাকে বাধ্যতামূলক করে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে বড় ধরনের আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বিয়ের নিবন্ধনের ক্ষেত্রে কাগজভিত্তিক জন্মসনদের পরিবর্তে অনলাইন বা ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন রেকর্ড ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বয়স জালিয়াতির মাধ্যমে বাল্যবিবাহ দেওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে এবং বিবাহ নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।

জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিদ্যমান ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭’ সংশোধনের কাজ চলছে এবং নতুন আইনে ডিজিটাল যাচাই প্রক্রিয়াকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে ম্যানুয়াল বা কাগজভিত্তিক জন্মসনদ ব্যবহার করে বয়স গোপন করার অভিযোগ পাওয়া যায়। এসব অনিয়ম বন্ধ করতেই ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন ব্যবস্থাকে বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ দীর্ঘদিন ধরে একটি সামাজিক সমস্যা হিসেবে বিদ্যমান। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার সচেতনতামূলক কার্যক্রমের ফলে এ হার কিছুটা কমলেও এখনও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে ভুয়া বা জাল জন্মসনদ তৈরি করে প্রকৃত বয়স গোপন করার কারণে অনেক ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু হলে কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ থেকে সরাসরি বয়স যাচাই করা সম্ভব হবে, ফলে জালিয়াতির সুযোগ অনেকাংশে কমে যাবে।

মন্ত্রী জানান, নতুন আইন সংশোধনের খসড়া তৈরিতে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফ এবং ইউএনএফপিএ কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে। শিশু অধিকার, নারী সুরক্ষা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসা এই সংস্থাগুলোর অভিজ্ঞতা নতুন আইনের কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সংশোধিত আইনে বিদ্যমান কিছু আইনি দুর্বলতা দূর করার পাশাপাশি ‘বিশেষ পরিস্থিতি’ সংক্রান্ত বিতর্কিত বিধানগুলোকেও আরও স্পষ্ট ও কঠোর করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হলে শুধু বাল্যবিবাহ নয়, আরও অনেক ধরনের জালিয়াতি প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। কারণ জন্ম নিবন্ধন একজন নাগরিকের মৌলিক পরিচয়পত্র হিসেবে কাজ করে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে জন্ম নিবন্ধন তথ্য সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও যাচাইযোগ্য হলে নাগরিক সেবার মানও উন্নত হবে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অনেক বিয়ে ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে সম্পন্ন হলেও পরবর্তীতে যথাযথভাবে নিবন্ধিত হয় না। এর ফলে প্রকৃত বয়স যাচাই কিংবা আইনগত নজরদারিতে সমস্যা দেখা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনের অগোচরেই অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ে সম্পন্ন হয়ে যায়। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সরকার বিবাহ নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর এবং জবাবদিহিমূলক করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে শুধু আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকাগুলোতে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অভিভাবকদের মধ্যে আইন সম্পর্কে ধারণা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। কারণ অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক চাপ, দারিদ্র্য কিংবা নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে পরিবারগুলো অল্প বয়সে সন্তানদের বিয়ে দিয়ে থাকে।

সংশোধিত আইন কার্যকর হলে বিয়ের নিবন্ধনের সময় অনলাইন ডাটাবেজ থেকে জন্ম নিবন্ধনের তথ্য যাচাই করা হবে। ফলে কাগজভিত্তিক সনদে তথ্য পরিবর্তন বা জালিয়াতির সুযোগ থাকবে না। এতে নিবন্ধনকারী কর্মকর্তারাও সহজে বয়স নিশ্চিত করতে পারবেন। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহ সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াও আরও সহজ হবে।

নারী ও শিশু অধিকারকর্মীরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ দেশের সামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বাল্যবিবাহ কমে গেলে মেয়েদের শিক্ষাজীবন দীর্ঘ হবে, কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হারও কমে আসবে। একই সঙ্গে নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে বাল্যবিবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। সেই লক্ষ্য অর্জনে প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগকে সেই বৃহৎ পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, বিবাহ নিবন্ধনে ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা শুধু একটি আইন সংশোধন নয়; এটি শিশু অধিকার সুরক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং একটি আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে এটি কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফুটবল মাঠে চমক দেখালেন জাইমা রহমান, বাঁ পায়ের শটে দারুণ গোল

বিবাহ নিবন্ধনে ডিজিটাল জন্মসনদ বাধ্যতামূলক করা হবে

Update Time : ১০:৩০:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন ব্যবস্থাকে বাধ্যতামূলক করে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে বড় ধরনের আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বিয়ের নিবন্ধনের ক্ষেত্রে কাগজভিত্তিক জন্মসনদের পরিবর্তে অনলাইন বা ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন রেকর্ড ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বয়স জালিয়াতির মাধ্যমে বাল্যবিবাহ দেওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে এবং বিবাহ নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।

জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিদ্যমান ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭’ সংশোধনের কাজ চলছে এবং নতুন আইনে ডিজিটাল যাচাই প্রক্রিয়াকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে ম্যানুয়াল বা কাগজভিত্তিক জন্মসনদ ব্যবহার করে বয়স গোপন করার অভিযোগ পাওয়া যায়। এসব অনিয়ম বন্ধ করতেই ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন ব্যবস্থাকে বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ দীর্ঘদিন ধরে একটি সামাজিক সমস্যা হিসেবে বিদ্যমান। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার সচেতনতামূলক কার্যক্রমের ফলে এ হার কিছুটা কমলেও এখনও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে ভুয়া বা জাল জন্মসনদ তৈরি করে প্রকৃত বয়স গোপন করার কারণে অনেক ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু হলে কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ থেকে সরাসরি বয়স যাচাই করা সম্ভব হবে, ফলে জালিয়াতির সুযোগ অনেকাংশে কমে যাবে।

আরও পড়ুন  এক-এগারোর মানবতাবিরোধী অপরাধে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর ভূমিকা

মন্ত্রী জানান, নতুন আইন সংশোধনের খসড়া তৈরিতে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফ এবং ইউএনএফপিএ কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে। শিশু অধিকার, নারী সুরক্ষা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসা এই সংস্থাগুলোর অভিজ্ঞতা নতুন আইনের কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সংশোধিত আইনে বিদ্যমান কিছু আইনি দুর্বলতা দূর করার পাশাপাশি ‘বিশেষ পরিস্থিতি’ সংক্রান্ত বিতর্কিত বিধানগুলোকেও আরও স্পষ্ট ও কঠোর করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হলে শুধু বাল্যবিবাহ নয়, আরও অনেক ধরনের জালিয়াতি প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। কারণ জন্ম নিবন্ধন একজন নাগরিকের মৌলিক পরিচয়পত্র হিসেবে কাজ করে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে জন্ম নিবন্ধন তথ্য সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও যাচাইযোগ্য হলে নাগরিক সেবার মানও উন্নত হবে।

আরও পড়ুন  কুষ্টিয়া সীমান্তে ১২ জন আটকে, শূন্যরেখায় তিন দিন ধরে মানবেতর জীবন

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অনেক বিয়ে ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে সম্পন্ন হলেও পরবর্তীতে যথাযথভাবে নিবন্ধিত হয় না। এর ফলে প্রকৃত বয়স যাচাই কিংবা আইনগত নজরদারিতে সমস্যা দেখা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনের অগোচরেই অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ে সম্পন্ন হয়ে যায়। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সরকার বিবাহ নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর এবং জবাবদিহিমূলক করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে শুধু আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকাগুলোতে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অভিভাবকদের মধ্যে আইন সম্পর্কে ধারণা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। কারণ অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক চাপ, দারিদ্র্য কিংবা নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে পরিবারগুলো অল্প বয়সে সন্তানদের বিয়ে দিয়ে থাকে।

সংশোধিত আইন কার্যকর হলে বিয়ের নিবন্ধনের সময় অনলাইন ডাটাবেজ থেকে জন্ম নিবন্ধনের তথ্য যাচাই করা হবে। ফলে কাগজভিত্তিক সনদে তথ্য পরিবর্তন বা জালিয়াতির সুযোগ থাকবে না। এতে নিবন্ধনকারী কর্মকর্তারাও সহজে বয়স নিশ্চিত করতে পারবেন। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহ সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াও আরও সহজ হবে।

আরও পড়ুন  স্বামী-স্ত্রীর বয়সের পার্থক্য: বাংলাদেশে ৪ জনে ১ জন নারীর স্বামী ১০ বছরের বেশি বড়

নারী ও শিশু অধিকারকর্মীরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ দেশের সামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বাল্যবিবাহ কমে গেলে মেয়েদের শিক্ষাজীবন দীর্ঘ হবে, কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হারও কমে আসবে। একই সঙ্গে নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে বাল্যবিবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। সেই লক্ষ্য অর্জনে প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগকে সেই বৃহৎ পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, বিবাহ নিবন্ধনে ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা শুধু একটি আইন সংশোধন নয়; এটি শিশু অধিকার সুরক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং একটি আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে এটি কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী।