হাজি দেশে ফিরেছেন—চলতি বছরের পবিত্র হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে এ পর্যন্ত ৫৭ হাজার ৪২২ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। ঢাকা হজ অফিসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১৫ জুন) পর্যন্ত তিনটি এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে মোট ১৩৮টি ফিরতি ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়েছে। হজ শেষে দেশে ফেরা যাত্রীদের নিয়ে বিমানবন্দরগুলোতে ব্যস্ত সময় পার করছেন সংশ্লিষ্টরা।
হজ অফিস জানায়, দেশে ফেরা হাজিদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৩১৩ জন এবং বেসরকারি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে ৫৩ হাজার ১০৯ জন রয়েছেন। পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে তারা পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশে ফিরছেন। ফিরতি ফ্লাইট কার্যক্রম শুরু হয়েছে গত ৩০ মে এবং তা আগামী ১ জুলাই পর্যন্ত চলবে।
এয়ারলাইন্সভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৬৭টি ফ্লাইট পরিচালনা করে ২৪ হাজার ৪৯৯ জন হাজিকে দেশে ফিরিয়েছে। সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ৫০টি ফ্লাইটে ফিরেছেন ১৯ হাজার ৮২৭ জন। অন্যদিকে ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ২১টি ফ্লাইটে ৮ হাজার ৩৮০ জন হজযাত্রীকে বাংলাদেশে পৌঁছে দিয়েছে।
ঢাকা হজ অফিসের পরিচালক জানিয়েছেন, এখনো সৌদি আরবে অবস্থানরত বাকি হাজিদেরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলো নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ফ্লাইট পরিচালনা করছে। ফলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দেশে ফেরা হাজির সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে চলতি বছর হজ পালনকালে সৌদি আরবে ৫২ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫ জন পুরুষ এবং ১৭ জন নারী। হজ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মক্কায় ৩৭ জন, মদিনায় ১৪ জন এবং জেদ্দায় একজন মৃত্যুবরণ করেছেন। তবে মিনা ও মুজদালিফায় কোনো বাংলাদেশি হাজির মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
হজ বুলেটিনে আরও জানানো হয়েছে, বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে ৪১৫ জন হাজি সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়া দেশটির মেডিকেল সেন্টারগুলো ৬৪ হাজার ৭৫১ জন হাজিকে চিকিৎসাসেবা দিয়েছে। আইটি হেল্প ডেস্কের মাধ্যমে মক্কা ও মদিনায় ২৭ হাজার ৯২০ জন হাজি সেবা পেয়েছেন। এবার বাংলাদেশ থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জনসহ মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রীর কোটা নির্ধারণ করা হয়েছিল।






















