যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আশা করেছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তাঁর প্রত্যাশার সঙ্গে মেলেনি।
‘ইরান–যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি মানতে বাধ্য নই’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া নতুন সমঝোতা চুক্তিকে ইসরায়েলের অনেক কর্মকর্তা উদ্বেগের চোখে দেখছেন। তাঁদের মতে, এই চুক্তি ইরানের ওপর প্রত্যাশিত চাপ সৃষ্টি করতে পারবে না এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তা উদ্বেগ পুরোপুরি সমাধান করবে না।
চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধ রাখা। এতে ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ সামরিক পদক্ষেপ সীমিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে হিজবুল্লাহকে ঘিরে ইসরায়েলের কৌশলগত পরিকল্পনায় এর প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। অতীতে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ইরান ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে দুই নেতার অবস্থানে পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতানিয়াহু রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন। বিভিন্ন জরিপে দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতির বিষয়ে ইসরায়েলিদের আস্থা আগের তুলনায় কমেছে। ফলে বিরোধীরা এই ইস্যুকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ পাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি আগামী কয়েক মাস মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে থাকবে। চূড়ান্ত চুক্তির অগ্রগতি এবং ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।




























