ঢাকা ০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তিতে পারমাণবিক সুযোগ পাচ্ছে সৌদি Logo দুর্যোগে বাংলাদেশের পাশে থাকবে চীন: রাষ্ট্রদূত Logo এনসিপির কার্যালয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত Logo বাংলাদেশের পাসপোর্ট আরও দুর্বল, উগান্ডাও এখন অনেক এগিয়ে Logo বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে সুখবর, বেড়ে ছাড়াল ৩৬.৪৬ বিলিয়ন ডলার Logo শিশুদের অতিরিক্ত ওজন কমাতে কার্যকর হতে পারে জিএলপি-১ ইনজেকশন Logo ভেজানো কিশমিশে উপকারিতা: প্রতিদিন খেলে শরীরে কী পরিবর্তন হয়? Logo ট্রাম্পের চুক্তিতে সৌদির পারমাণবিক কর্মসূচিতে বড় পরিবর্তন Logo হিটলারের জন্মবাড়িতে এবার থানা, কেন নিল অস্ট্রিয়ার এই সিদ্ধান্ত? Logo অরিজিৎ সিং ফিরলেন: ‘আওয়ারাপন ২’-এর নতুন গানে আবেগঘন প্রত্যাবর্তন

যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তিতে পারমাণবিক সুযোগ পাচ্ছে সৌদি

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৪:৩৯:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
  • ৫২২

সৌদি–যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক চুক্তি। | ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তির মাধ্যমে নিজস্ব পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ পাচ্ছে সৌদি আরব। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তিটিতে অনুমোদন দেওয়ার পর বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে এতে সই করা হয়েছে। দুই দেশের কর্মকর্তারা মনে করছেন, ৩০ বছর মেয়াদি এই সমঝোতা কৌশলগত সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে এবং জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।

মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক শিল্পের জন্য কয়েক শ কোটি ডলারের বাণিজ্যিক সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। এর সরাসরি সুবিধাভোগীদের মধ্যে থাকতে পারে ওয়েস্টিংহাউস, যারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুল্লির নকশা ও প্রযুক্তি সরবরাহ করে। ফলে সৌদি আরবের ভবিষ্যৎ পারমাণবিক প্রকল্পে মার্কিন কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

তবে চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার আগে এটি মার্কিন কংগ্রেসের পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। আইনপ্রণেতারা চাইলে এর বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে ভোটাভুটির উদ্যোগ নিতে পারেন। যদিও বিশ্লেষকদের ধারণা, প্রেসিডেন্টের ভেটো অতিক্রম করার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন কঠিন হওয়ায় শেষ পর্যন্ত চুক্তিটি অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

চুক্তিটি নিয়ে ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান—উভয় দলের কিছু সদস্য এবং ইসরায়েলের কয়েকজন কর্মকর্তা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির আড়ালে সৌদি আরব ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করতে পারে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, পুরো প্রক্রিয়াই আন্তর্জাতিক নিয়মের আওতায় পরিচালিত হবে।

সৌদি–যুক্তরাষ্ট্রের এই সমঝোতা নতুন নয়; কয়েক বছর ধরেই এ নিয়ে আলোচনা চলছিল। সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে এটি বৃহত্তর কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। তখন পরিকল্পনা ছিল, সৌদি আরব ইসরায়েলকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিলে পারমাণবিক সহযোগিতার পথ আরও সহজ হবে। কিন্তু ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সেই উদ্যোগ কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।

নতুন চুক্তিতে আন্তর্জাতিক পরিদর্শন ব্যবস্থাকে ঘিরেও প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, সৌদি আরবের সঙ্গে সমঝোতার অংশ হিসেবে এমন কিছু শর্ত রাখা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের কার্যক্রম সীমিত করতে পারে। এতে কোনো পারমাণবিক স্থাপনা থেকে জ্বালানি অন্য উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা আগের তুলনায় কঠিন হতে পারে বলে সমালোচকদের আশঙ্কা।

এ ছাড়া সৌদি আরবের সঙ্গে যৌথভাবে পারমাণবিক জ্বালানি উৎপাদনের অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা যাচাই করতেও সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই সমীক্ষার ফল ইতিবাচক হলে ভবিষ্যতে সৌদি আরবকে নিজস্ব ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা প্লুটোনিয়াম পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করার অনুমতি দেওয়া হতে পারে। এমন সুযোগ দেশটির পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচিকে আরও এগিয়ে নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত ‘ওয়ান-টু-থ্রি অ্যাগ্রিমেন্ট’-এর আওতায় সম্পন্ন হয়েছে। এটি এমন একটি আইনগত কাঠামো, যা দুই দেশের মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার শর্ত ও নিয়ম নির্ধারণ করে। একই সঙ্গে এর উদ্দেশ্য পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার ঠেকানো এবং প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করা।

এর আগে ২০০৯ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র একই ধরনের একটি চুক্তি করেছিল। তবে সেই চুক্তিতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর পরিদর্শকদের পূর্ণাঙ্গ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা হয় এবং দেশটি নিজস্ব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও প্লুটোনিয়াম পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করার অধিকার ত্যাগ করেছিল। সেই কারণে চুক্তিটি পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে উচ্চ মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়।

সৌদি আরবের ক্ষেত্রে শর্তগুলো তুলনামূলকভাবে ভিন্ন হলেও ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করেই এই সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়া হবে। এখন কংগ্রেসের পর্যালোচনা এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হলে চুক্তিটি বাস্তবায়নের পথে অগ্রসর হবে, যা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি ও ভূরাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তিতে পারমাণবিক সুযোগ পাচ্ছে সৌদি

যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তিতে পারমাণবিক সুযোগ পাচ্ছে সৌদি

Update Time : ০৪:৩৯:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তির মাধ্যমে নিজস্ব পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ পাচ্ছে সৌদি আরব। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তিটিতে অনুমোদন দেওয়ার পর বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে এতে সই করা হয়েছে। দুই দেশের কর্মকর্তারা মনে করছেন, ৩০ বছর মেয়াদি এই সমঝোতা কৌশলগত সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে এবং জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।

মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক শিল্পের জন্য কয়েক শ কোটি ডলারের বাণিজ্যিক সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। এর সরাসরি সুবিধাভোগীদের মধ্যে থাকতে পারে ওয়েস্টিংহাউস, যারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুল্লির নকশা ও প্রযুক্তি সরবরাহ করে। ফলে সৌদি আরবের ভবিষ্যৎ পারমাণবিক প্রকল্পে মার্কিন কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

তবে চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার আগে এটি মার্কিন কংগ্রেসের পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। আইনপ্রণেতারা চাইলে এর বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে ভোটাভুটির উদ্যোগ নিতে পারেন। যদিও বিশ্লেষকদের ধারণা, প্রেসিডেন্টের ভেটো অতিক্রম করার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন কঠিন হওয়ায় শেষ পর্যন্ত চুক্তিটি অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

চুক্তিটি নিয়ে ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান—উভয় দলের কিছু সদস্য এবং ইসরায়েলের কয়েকজন কর্মকর্তা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির আড়ালে সৌদি আরব ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করতে পারে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, পুরো প্রক্রিয়াই আন্তর্জাতিক নিয়মের আওতায় পরিচালিত হবে।

সৌদি–যুক্তরাষ্ট্রের এই সমঝোতা নতুন নয়; কয়েক বছর ধরেই এ নিয়ে আলোচনা চলছিল। সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে এটি বৃহত্তর কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। তখন পরিকল্পনা ছিল, সৌদি আরব ইসরায়েলকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিলে পারমাণবিক সহযোগিতার পথ আরও সহজ হবে। কিন্তু ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সেই উদ্যোগ কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।

নতুন চুক্তিতে আন্তর্জাতিক পরিদর্শন ব্যবস্থাকে ঘিরেও প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, সৌদি আরবের সঙ্গে সমঝোতার অংশ হিসেবে এমন কিছু শর্ত রাখা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের কার্যক্রম সীমিত করতে পারে। এতে কোনো পারমাণবিক স্থাপনা থেকে জ্বালানি অন্য উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা আগের তুলনায় কঠিন হতে পারে বলে সমালোচকদের আশঙ্কা।

এ ছাড়া সৌদি আরবের সঙ্গে যৌথভাবে পারমাণবিক জ্বালানি উৎপাদনের অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা যাচাই করতেও সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই সমীক্ষার ফল ইতিবাচক হলে ভবিষ্যতে সৌদি আরবকে নিজস্ব ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা প্লুটোনিয়াম পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করার অনুমতি দেওয়া হতে পারে। এমন সুযোগ দেশটির পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচিকে আরও এগিয়ে নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত ‘ওয়ান-টু-থ্রি অ্যাগ্রিমেন্ট’-এর আওতায় সম্পন্ন হয়েছে। এটি এমন একটি আইনগত কাঠামো, যা দুই দেশের মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার শর্ত ও নিয়ম নির্ধারণ করে। একই সঙ্গে এর উদ্দেশ্য পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার ঠেকানো এবং প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করা।

এর আগে ২০০৯ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র একই ধরনের একটি চুক্তি করেছিল। তবে সেই চুক্তিতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর পরিদর্শকদের পূর্ণাঙ্গ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা হয় এবং দেশটি নিজস্ব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও প্লুটোনিয়াম পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করার অধিকার ত্যাগ করেছিল। সেই কারণে চুক্তিটি পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে উচ্চ মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়।

সৌদি আরবের ক্ষেত্রে শর্তগুলো তুলনামূলকভাবে ভিন্ন হলেও ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করেই এই সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়া হবে। এখন কংগ্রেসের পর্যালোচনা এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হলে চুক্তিটি বাস্তবায়নের পথে অগ্রসর হবে, যা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি ও ভূরাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।