দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে জয়ের দেখা পেল অস্ট্রিয়া। বুধবার ‘জে’ গ্রুপের ম্যাচে নবাগত জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সফলভাবে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে ইউরোপের দলটি। একই সঙ্গে ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও জয় তুলে নেওয়ার কীর্তি গড়েছে তারা।
এর আগে সর্বশেষ ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়েছিল অস্ট্রিয়া। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্বকাপের মূল পর্বে সাফল্যের দেখা পায়নি দলটি। এবার প্রত্যাবর্তনের প্রথম ম্যাচেই তিন পয়েন্ট তুলে আত্মবিশ্বাসী শুরু করল তারা।
একই গ্রুপের অন্য ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। ফলে গোল ব্যবধানে তিন পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে আছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। সমান পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে অস্ট্রিয়া।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ২৪ নম্বরে থাকা অস্ট্রিয়া ম্যাচজুড়ে বল দখলে আধিপত্য দেখিয়েছে। তারা ৬৩ শতাংশ সময় বল নিয়ন্ত্রণে রেখে ১১টি শট নেয়, যার মধ্যে চারটি ছিল লক্ষ্যে। তবে জর্ডানও সহজে হার মানেনি।
র্যাঙ্কিংয়ে ৬৩ নম্বরে থাকা জর্ডান মাত্র ৩৭ শতাংশ বল দখলে রাখতে পারলেও আক্রমণে কার্যকর ছিল। তারাও ১১টি শট নেয় এবং চারবার লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়। এতে বোঝা যায় ম্যাচটি স্কোরলাইনের চেয়ে অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল।
ম্যাচের ২০ মিনিটে প্রথম আনন্দে ভাসে অস্ট্রিয়া। মাঝমাঠ থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে বল পেয়ে দুর্দান্ত গতির শটে গোল করেন রোমানো স্মিড। তাঁর নিখুঁত ফিনিশিংয়ে এগিয়ে যায় ইউরোপিয়ান দলটি।
প্রথমার্ধে সেই ব্যবধান ধরে রাখলেও দ্বিতীয়ার্ধে দ্রুত জবাব দেয় জর্ডান। বিরতির পাঁচ মিনিট পর ডি-বক্সের ভেতরে ফাঁকা জায়গা কাজে লাগিয়ে শক্তিশালী শটে গোল করেন স্ট্রাইকার আলী ওলওয়ান। এতে ম্যাচে ফেরে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিনিধিরা।
সমতায় ফেরার পর দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। ৬৯ মিনিটে মার্কো আরনাউতোভিচ বল জালে পাঠিয়ে অস্ট্রিয়াকে আবার এগিয়ে দিয়েছিলেন। তবে ভিএআর পর্যালোচনায় গোলটি বাতিল হয়ে যায়।
রিপ্লেতে দেখা যায়, আক্রমণ গড়ে ওঠার সময় স্টিফান পশ হাত দিয়ে বল স্পর্শ করেছিলেন। সেই কারণে গোলটি অনুমোদন দেননি রেফারি। এতে কিছুটা হতাশ হলেও আক্রমণের ধার কমায়নি অস্ট্রিয়া।
৭৬ মিনিটে অবশেষে কাঙ্ক্ষিত গোল পেয়ে যায় তারা। মার্সেল সাবিটসারের নেওয়া কর্নার ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল পাঠিয়ে দেন জর্ডানের ডিফেন্ডার ইয়াজান আল-আরব। আত্মঘাতী গোলে আবারও এগিয়ে যায় অস্ট্রিয়া।
এরপর শেষ মুহূর্তে ম্যাচ পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় অস্ট্রিয়ানরা। যোগ করা সময়ে জর্ডানের সালিম ওবেইদের হ্যান্ডবলের কারণে পেনাল্টি পায় দলটি। সুযোগ কাজে লাগিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় গোল করেন মার্কো আরনাউতোভিচ।
আরনাউতোভিচের সেই গোলেই ৩-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত হয় অস্ট্রিয়ার। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বিশ্বকাপের মঞ্চে জয় দিয়ে ফেরাটা দলটির জন্য যেমন স্বস্তির, তেমনি পরের রাউন্ডে ওঠার লড়াইয়েও বড় সুবিধা এনে দিয়েছে।




























