স্বর্ণের দাম কমল আন্তর্জাতিক বাজারে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের অপেক্ষার কারণে বুধবার (১৭ জুন) স্বর্ণের বাজারে স্থিরতা দেখা গেছে। ফলে দামের বড় ধরনের ওঠানামা না হলেও সামান্য নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।
সর্বশেষ বাজার তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩২৫ দশমিক ৫৯ ডলারে লেনদেন হয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন গোল্ড ফিউচার ০.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৪৫ ডলারে নেমে এসেছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকায় লেনদেনে সতর্কতা বজায় রাখছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৩০০ ডলারের গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট লেভেলের ওপরে অবস্থান করতে পারলে বাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে দাম বেড়ে ৪ হাজার ৩৫০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই সীমার নিচে নেমে গেলে বাজারে আরও চাপ তৈরি হতে পারে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, সাম্প্রতিক ইরান-সংক্রান্ত উত্তেজনা আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারে বড় প্রভাব ফেলেছিল। গত সপ্তাহে অনিশ্চয়তার কারণে স্বর্ণের দাম কয়েক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়। পরে দুই দেশের মধ্যে একটি কাঠামোগত চুক্তির অগ্রগতির খবর আসায় বাজারে কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও দরপতন দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট রুপার দাম ০.৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৯ দশমিক ৮৪ ডলারে নেমেছে। একই সময়ে প্লাটিনামের দাম ০.৯ শতাংশ এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০.২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
বিশ্ববাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা আগামী দিনের অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলোর দিকে নজর রাখছেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক নীতি এবং মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির উন্নয়ন স্বর্ণের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




























