ঢাকা ১০:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ফরেন চেম্বারের তাগিদ করের আওতা সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগবান্ধব সংস্কারের Logo নেইমারকে গ্রুপ পর্বে পাচ্ছে না ব্রাজিল, কবে ফিরবেন মাঠে? Logo ফুটবল ও উদ্ভাবনী বিষয়ে শিক্ষার্থীদের বড় দুই প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব এ মাসে, উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী Logo কারাগারে যাহের আলভী, সর্বোচ্চ শাস্তি চাইলেন ইকরার বাবা Logo যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সমঝোতা Logo এক বছরে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থ ৪১ শতাংশ বেড়েছে Logo কম বয়সেই চুল পড়ছে? চিকিৎসক জানালেন আসল কারণ Logo আর্জেন্টিনার দুলসে দে লেচে: ঘরেই বানান বিশ্বখ্যাত মিষ্টি Logo ৮ ঘণ্টা ঘুম কি সত্যিই ম্যাট্রেস কোম্পানির তৈরি ধারণা? ভাইরাল দাবির সত্যতা Logo ২৩৭ কলেজ অধ্যক্ষকে মাউশির শোকজ

২৩৭ কলেজ অধ্যক্ষকে মাউশির শোকজ

মাউশির অফিস আদেশ,

২৩৭ কলেজের অধ্যক্ষকে মাউশির বড় অ্যাকশন: ‘ই-রিকুইজিশন ভুল তথ্য’ পাওয়ায় এমপিও বাতিলের শোকজ।

‘ই-রিকুইজিশন ভুল তথ্য’ পাঠানোর কারণে দেশের ২৩৭টি বেসরকারি কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে এবার নজিরবিহীন কঠোর অ্যাকশনে নেমেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। মঙ্গলবার অধিদপ্তরের বেসরকারি কলেজ শাখা থেকে জারি করা এক জরুরি অফিস আদেশে এই বিশাল সংখ্যক প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে একযোগে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ পাঠানো হয়েছে। একই সাথে কেন তাদের মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার বা এমপিও স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে না এবং গভর্নিং বডির সভাপতির পদ শূন্য ঘোষণা করা হবে না, তারও কড়া জবাব চাওয়া হয়েছে। মূলত মাঠপর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফেরাতে এই কঠোর সিদ্ধান্ত।

শিক্ষা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, কলেজগুলোর পাঠানো ‘ই-রিকুইজিশন ভুল তথ্য’ ও বিভ্রান্তিকর চাহিদার কারণে সরকারি পুরো কার্যক্রমে চরম অচলাবস্থা তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমে সুপারিশ পেয়েও শত শত যোগ্য চাকরিপ্রার্থী নির্দিষ্ট কর্মস্থলে যোগদান করতে পারছেন না এবং এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে চরম ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। মাঠপর্যায়ের এই বিশৃঙ্খলা ও শিক্ষক নিয়োগের ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় এমন চরম দায়িত্বহীনতা দূর করতেই মাউশি এখন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে বলে কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।

সম্প্রতি দেশের ৯টি শিক্ষা অঞ্চলের মোট ২ হাজার ৩শত ৩৭টি কলেজের শূন্য পদের চাহিদাপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশির তদন্ত দল। এই দীর্ঘ তদন্তে ২ হাজার ১শতটি পদের তথ্য সঠিক পাওয়া গেলেও বাকি ২৩৭টি পদের চাহিদা সম্পূর্ণ ভুল, ভুয়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে প্রমাণিত হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে যে, ভুল তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশের অন্য সব অঞ্চলের চেয়ে এককভাবে শীর্ষে অবস্থান করছে চট্টগ্রাম অঞ্চল।

চট্টগ্রাম অঞ্চলের কলেজগুলো থেকে সর্বোচ্চ ১২১টি পদে ‘ই-রিকুইজিশন ভুল তথ্য’ পাঠানো হয়েছে যা মোট ভুলের প্রায় অর্ধেক। এছাড়া বরিশাল অঞ্চলে ৩৯টি, খুলনা অঞ্চলে ৩৮টি, রাজশাহী অঞ্চলে ১৪টি, রংপুর অঞ্চলে ১১টি, ঢাকা অঞ্চলে ৫টি, সিলেট অঞ্চলে ৪টি, ময়মনসিংহ অঞ্চলে ৩টি এবং কুমিল্লা অঞ্চলের কলেজগুলোতে ২টি পদের ভুল তথ্য দেওয়ার অকাট্য প্রমাণ পেয়েছে মাউশির বিশেষ তদন্ত দল। এই ব্যাপক অনিয়মের কারণে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াই বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

এহেন গুরুতর গাফিলতি ও অপরাধের দায়ে জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২১ এর ১৮.১ (ঘ) ধারা মোতাবেক সংশ্লিষ্ট অধ্যক্ষদের এমপিও কেন স্থায়ীভাবে স্থগিত বা বাতিল করা হবে না, তার স্পষ্ট লিখিত জবাব চেয়েছে শিক্ষা অধিদপ্তর। সেই সাথে বিধিভঙ্গের দায়ে কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতির পদ শূন্য ঘোষণাসহ তাদের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তারও কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে অফিস আদেশে।

আসন্ন ১০ কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক কার্যালয়ের মাধ্যমে এই শোকজের সন্তোষজনক জবাব ও প্রয়োজনীয় মতামত মাউশির প্রধান কার্যালয়ে পাঠানোর জন্য কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে এবং পূর্বের শিক্ষক নিয়োগের আপডেট দেখতে আমাদের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনটি পড়তে পারেন। এছাড়াও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ বিধিমালা ও গেজেট দেখতে মাউশির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারেন যা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফরেন চেম্বারের তাগিদ করের আওতা সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগবান্ধব সংস্কারের

২৩৭ কলেজ অধ্যক্ষকে মাউশির শোকজ

Update Time : ০৬:৫৩:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

২৩৭ কলেজের অধ্যক্ষকে মাউশির বড় অ্যাকশন: ‘ই-রিকুইজিশন ভুল তথ্য’ পাওয়ায় এমপিও বাতিলের শোকজ।

‘ই-রিকুইজিশন ভুল তথ্য’ পাঠানোর কারণে দেশের ২৩৭টি বেসরকারি কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে এবার নজিরবিহীন কঠোর অ্যাকশনে নেমেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। মঙ্গলবার অধিদপ্তরের বেসরকারি কলেজ শাখা থেকে জারি করা এক জরুরি অফিস আদেশে এই বিশাল সংখ্যক প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে একযোগে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ পাঠানো হয়েছে। একই সাথে কেন তাদের মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার বা এমপিও স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে না এবং গভর্নিং বডির সভাপতির পদ শূন্য ঘোষণা করা হবে না, তারও কড়া জবাব চাওয়া হয়েছে। মূলত মাঠপর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফেরাতে এই কঠোর সিদ্ধান্ত।

শিক্ষা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, কলেজগুলোর পাঠানো ‘ই-রিকুইজিশন ভুল তথ্য’ ও বিভ্রান্তিকর চাহিদার কারণে সরকারি পুরো কার্যক্রমে চরম অচলাবস্থা তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমে সুপারিশ পেয়েও শত শত যোগ্য চাকরিপ্রার্থী নির্দিষ্ট কর্মস্থলে যোগদান করতে পারছেন না এবং এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে চরম ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। মাঠপর্যায়ের এই বিশৃঙ্খলা ও শিক্ষক নিয়োগের ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় এমন চরম দায়িত্বহীনতা দূর করতেই মাউশি এখন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে বলে কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুন  পাওনা টাকার বিরোধে যুবক হত্যা, প্রধান আসামি গ্রেফতার

সম্প্রতি দেশের ৯টি শিক্ষা অঞ্চলের মোট ২ হাজার ৩শত ৩৭টি কলেজের শূন্য পদের চাহিদাপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশির তদন্ত দল। এই দীর্ঘ তদন্তে ২ হাজার ১শতটি পদের তথ্য সঠিক পাওয়া গেলেও বাকি ২৩৭টি পদের চাহিদা সম্পূর্ণ ভুল, ভুয়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে প্রমাণিত হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে যে, ভুল তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশের অন্য সব অঞ্চলের চেয়ে এককভাবে শীর্ষে অবস্থান করছে চট্টগ্রাম অঞ্চল।

আরও পড়ুন  আট বিভাগেই বৃষ্টির আভাস: ঢাকাসহ দেশজুড়ে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস

চট্টগ্রাম অঞ্চলের কলেজগুলো থেকে সর্বোচ্চ ১২১টি পদে ‘ই-রিকুইজিশন ভুল তথ্য’ পাঠানো হয়েছে যা মোট ভুলের প্রায় অর্ধেক। এছাড়া বরিশাল অঞ্চলে ৩৯টি, খুলনা অঞ্চলে ৩৮টি, রাজশাহী অঞ্চলে ১৪টি, রংপুর অঞ্চলে ১১টি, ঢাকা অঞ্চলে ৫টি, সিলেট অঞ্চলে ৪টি, ময়মনসিংহ অঞ্চলে ৩টি এবং কুমিল্লা অঞ্চলের কলেজগুলোতে ২টি পদের ভুল তথ্য দেওয়ার অকাট্য প্রমাণ পেয়েছে মাউশির বিশেষ তদন্ত দল। এই ব্যাপক অনিয়মের কারণে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াই বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

এহেন গুরুতর গাফিলতি ও অপরাধের দায়ে জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২১ এর ১৮.১ (ঘ) ধারা মোতাবেক সংশ্লিষ্ট অধ্যক্ষদের এমপিও কেন স্থায়ীভাবে স্থগিত বা বাতিল করা হবে না, তার স্পষ্ট লিখিত জবাব চেয়েছে শিক্ষা অধিদপ্তর। সেই সাথে বিধিভঙ্গের দায়ে কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতির পদ শূন্য ঘোষণাসহ তাদের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তারও কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে অফিস আদেশে।

আরও পড়ুন  শত শত কোটি টাকার টোল চুরি, রেগনাম নিয়ে গুরুতর অভিযোগ

আসন্ন ১০ কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক কার্যালয়ের মাধ্যমে এই শোকজের সন্তোষজনক জবাব ও প্রয়োজনীয় মতামত মাউশির প্রধান কার্যালয়ে পাঠানোর জন্য কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে এবং পূর্বের শিক্ষক নিয়োগের আপডেট দেখতে আমাদের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনটি পড়তে পারেন। এছাড়াও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ বিধিমালা ও গেজেট দেখতে মাউশির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারেন যা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করবে।