রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে মাছের চড়া দামে সাধারণ ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠলেও সবজির বাজারে মিলেছে কিছুটা স্বস্তি। শুক্রবার (১৯ জুন) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে নিত্যপণ্যের দামের এই ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, গত দেড় সপ্তাহের ব্যবধানে মাছের দাম কেজিতে প্রায় ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। অন্যদিকে, বেশিরভাগ সবজি এখন সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই রয়েছে।
পকেট কাটছে মাছের বাজার, নাগালের বাইরে ইলিশ বাজার ঘুরে দেখা যায়, রুই, পাবদা ও বিভিন্ন ছোট মাছের দাম কেজিতে প্রায় ৫০০ টাকা স্পর্শ করেছে। এমনকি বেশিরভাগ চাষের মাছও এখন ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বড় আকারের পদ্মার ইলিশের দেখা মিললেও দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের সম্পূর্ণ বাইরে। বাজারে প্রতি কেজি বড় ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ২০০ টাকায়। এছাড়া ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং ৭০০-৭৫০ গ্রামের ইলিশ ২ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
বাজারে আসা এক ক্ষুব্ধ ক্রেতা বলেন, “পুরো বাজার ঘুরে দেখছি কোনটা একটু কম দামে পাওয়া যায়। যে হারে মাছের দাম বাড়ছে, তাতে মাছ কিনে খাওয়া সাধারণ মানুষের জন্য কষ্টকর হয়ে গেছে।”
আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি ও সরবরাহে ঘাটতি মাছের বাজার এভাবে চড়ে যাওয়ার পেছনে প্রস্তাবিত বাজেটের বড় প্রভাব রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নতুন বাজেটে মাছ আমদানির ওপর শুল্কহার ৪৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে একলাফে ৭০ শতাংশ করা হয়েছে। এর ফলে ভারতীয় মাছের সরবরাহ বাজারগুলোতে অনেক কমে গেছে। এক ব্যবসায়ী জানান, “ভারত থেকে যে মাছগুলো আসত, শুল্ক বাড়ার পর সেগুলোর আমদানি অনেক কমে গেছে। ফলে বাজারে জোগান কম থাকায় দাম হু হু করে বাড়ছে।”
সবজির বাজারে স্বস্তির হাওয়া, বাজারে আগাম শীতকালীন সবজি মাছের বাজারের এই চরম অস্বস্তির ঠিক উল্টো চিত্র দেখা গেছে সবজির বাজারে। বেগুন, করলা, ঢেঁড়স, চিচিঙ্গা ও পটল এখন মাত্র ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পেঁপে প্রতি কেজি মাত্র ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং কাঁচামরিচ ১২০ টাকা কেজিতে মিলছে।
সবচেয়ে আশার কথা হলো, বাজারে আগাম জাতের শীতকালীন সবজিও দেখা দিতে শুরু করেছে। বাজারে আসা নতুন বাঁধাকপি ও ফুলকপি প্রতি পিস ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে, যা মৌসুমের শুরুতে ক্রেতাদের বেশ আকৃষ্ট করছে।



























