ঢাকা ০১:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিএমপির বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৬৩

জননিরাপত্তায় ডিএমপির তৎপরতা। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ধারাবাহিক বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত সন্দেহে ৬৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) দিনব্যাপী রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে মাদক কারবারি, ছিনতাইকারী, দস্যু, চাঁদাবাজ ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের দাবি, নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধ দমনে এ ধরনের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন তালিকাবহির্ভূত চাঁদাবাজ এবং তিনজন অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযোগে অভিযুক্ত রয়েছেন। এছাড়া সন্ত্রাসী কার্যক্রম, দস্যুতা, ছিনতাই ও ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তার হয়েছে মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে। অভিযানে ৩৯ জন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য উদ্ধার হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তদন্ত শেষে জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

একই সময়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পৃথক অভিযান পরিচালনা করে আরও সাতজনকে গ্রেপ্তার করে। ডিবির অভিযানে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জন মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া দস্যুতা, ছিনতাই ও ডাকাতি মামলার এক আসামিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে অভিযানের পরিকল্পনা করা হয় এবং নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই এসব অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

ডিএমপির কর্মকর্তারা জানান, রাজধানীতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত টহল কার্যক্রমের পাশাপাশি বিশেষ অভিযানও পরিচালিত হচ্ছে। বিশেষ করে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা ইউনিট সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করায় অনেক ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হচ্ছে।

পুলিশের দাবি, রাজধানীতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। তাই অপরাধপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে সেখানে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহ, সন্দেহভাজনদের ওপর নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এ ধরনের অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে অপরাধ সংঘটনের প্রবণতা কমানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ তৈরি হবে বলেও আশা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

আইনশৃঙ্খলা বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত অভিযান অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এর পাশাপাশি অপরাধের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করাও জরুরি। মাদক পাচার, ছিনতাই ও সংঘবদ্ধ অপরাধ প্রতিরোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং তরুণদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

ডিএমপি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী মামলা ও অন্যান্য আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হবে। একই সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান, চেকপোস্ট, টহল এবং গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হবে। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের বিশেষ অভিযান ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডিএমপির বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৬৩

Update Time : ১১:২৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

রাজধানীতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ধারাবাহিক বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত সন্দেহে ৬৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) দিনব্যাপী রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে মাদক কারবারি, ছিনতাইকারী, দস্যু, চাঁদাবাজ ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের দাবি, নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধ দমনে এ ধরনের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন তালিকাবহির্ভূত চাঁদাবাজ এবং তিনজন অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযোগে অভিযুক্ত রয়েছেন। এছাড়া সন্ত্রাসী কার্যক্রম, দস্যুতা, ছিনতাই ও ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তার হয়েছে মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে। অভিযানে ৩৯ জন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য উদ্ধার হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তদন্ত শেষে জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

আরও পড়ুন  সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী আটক, ডিবি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ

একই সময়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পৃথক অভিযান পরিচালনা করে আরও সাতজনকে গ্রেপ্তার করে। ডিবির অভিযানে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জন মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া দস্যুতা, ছিনতাই ও ডাকাতি মামলার এক আসামিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে অভিযানের পরিকল্পনা করা হয় এবং নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই এসব অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

ডিএমপির কর্মকর্তারা জানান, রাজধানীতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত টহল কার্যক্রমের পাশাপাশি বিশেষ অভিযানও পরিচালিত হচ্ছে। বিশেষ করে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা ইউনিট সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করায় অনেক ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হচ্ছে।

আরও পড়ুন  রামিসা হত্যাকাণ্ডে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করবে সরকার, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

পুলিশের দাবি, রাজধানীতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। তাই অপরাধপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে সেখানে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহ, সন্দেহভাজনদের ওপর নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এ ধরনের অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে অপরাধ সংঘটনের প্রবণতা কমানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ তৈরি হবে বলেও আশা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

আইনশৃঙ্খলা বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত অভিযান অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এর পাশাপাশি অপরাধের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করাও জরুরি। মাদক পাচার, ছিনতাই ও সংঘবদ্ধ অপরাধ প্রতিরোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং তরুণদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

আরও পড়ুন  ধর্ষণ মামলা পল্লবীতে রামিসার বাসায় গিয়ে পরিবারের পাশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ডিএমপি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী মামলা ও অন্যান্য আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হবে। একই সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান, চেকপোস্ট, টহল এবং গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হবে। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের বিশেষ অভিযান ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ।