ঢাকা ১২:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ডিএমপির ১৩৮৬ মামলা

ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে রাজধানীতে ডিএমপির অভিযান, একদিনে ১,৩৮৬ মামলা।

রাজধানী ঢাকার সড়কে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (২০ জুলাই) মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের দায়ে ১ হাজার ৩৮৬টি মামলা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৩৯৪টি যানবাহন ডাম্পিং এবং ৩১৪টি যানবাহন রেকার করা হয়েছে।

ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) জানানো হয়, সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, সিএনজি অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের বিরুদ্ধে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ডিএমপির আটটি ট্রাফিক বিভাগে পরিচালিত অভিযানে সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগে, যেখানে মোট ২৯৯টি মামলা করা হয়। এরপর রয়েছে—

  1. ট্রাফিক-গুলশান বিভাগ – ২৫১টি মামলা
  2. ট্রাফিক-তেজগাঁও বিভাগ – ১৮০টি মামলা
  3. ট্রাফিক-উত্তরা বিভাগ – ১৭৪টি মামলা
  4. ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগ – ১৬৬টি মামলা
  5. ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগ – ১৫৩টি মামলা
  6. ট্রাফিক-লালবাগ বিভাগ – ৯৪টি মামলা
  7. ট্রাফিক-রমনা বিভাগ – ৬৯টি মামলা

ডিএমপি সূত্রে জানা যায়, অভিযানে বিভিন্ন ধরনের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—

  1. নির্ধারিত স্থানে না থামা বা যাত্রী ওঠানামা করানো
  2. উল্টো পথে (রং সাইড) যানবাহন চালানো
  3. ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা
  4. অতিরিক্ত গতি
  5. অবৈধ পার্কিং
  6. ফিটনেসবিহীন যানবাহন পরিচালনা
  7. লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া গাড়ি চালানো
  8. মোটরসাইকেলে হেলমেট ছাড়া চলাচল
  9. সিএনজির অনিয়মিত চলাচল ও নির্ধারিত রুট ভঙ্গ

অভিযানে ৩৯৪টি গাড়ি ডাম্পিং করা হয়েছে। অর্থাৎ যেসব যানবাহন সড়কে অবৈধভাবে পার্কিং করে যানজট সৃষ্টি করছিল বা আইন লঙ্ঘন করছিল, সেগুলো নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশনে সরিয়ে নেওয়া হয়।

অর্থাৎ যেসব যানবাহন সড়কে অবৈধভাবে পার্কিং করে যানজট সৃষ্টি করছিল বা আইন লঙ্ঘন করছিল, সেগুলো নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশনে সরিয়ে নেওয়া হয়।অন্যদিকে ৩১৪টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে। রেকার বলতে বিশেষ টো-ট্রাকের মাধ্যমে আইন লঙ্ঘনকারী বা বিকল যানবাহনকে টেনে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে বোঝায়।

ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেল চালকদের বিরুদ্ধেই সবচেয়ে বেশি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হেলমেট ছাড়া চলাচল, লাইসেন্স না থাকা, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা এবং ফুটপাত বা উল্টো পথে চলার মতো অপরাধে বিপুল সংখ্যক মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

রাজধানীতে যানজট কমানো, দুর্ঘটনা হ্রাস এবং সড়কে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ সম্প্রতি নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। বিশেষ করে ব্যস্ত সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ মোড়, বাণিজ্যিক এলাকা এবং স্কুল-কলেজসংলগ্ন এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

ডিএমপি জানিয়েছে, ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং আইন অমান্যকারী চালক ও যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পুলিশ নাগরিকদেরও ট্রাফিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে উঠলে রাজধানীতে যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) বর্তমানে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা, স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল এবং ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহন শনাক্ত করা হচ্ছে। ট্রাফিক কন্ট্রোল সেন্টার থেকে সার্বক্ষণিক যান চলাচল পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী মাঠপর্যায়ের সদস্যদের নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

ডিএমপি সূত্র জানায়, গুলিস্তান, মতিঝিল, শাহবাগ, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, মহাখালী, গাবতলী, সায়েদাবাদ, বিমানবন্দর সড়ক, উত্তরা, মিরপুর, বাড্ডা, রামপুরা, কুড়িল বিশ্বরোড, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এবং গুলশান-বনানী এলাকার মতো ব্যস্ত সড়কগুলোতে নিয়মিত ট্রাফিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব এলাকায় প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করায় আইন লঙ্ঘনের ঘটনাও তুলনামূলক বেশি ঘটে।

অভিযানে শুধু ব্যক্তিগত যানবাহন নয়, বিভিন্ন গণপরিবহনের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যেসব বাস নির্ধারিত স্টপেজ ছাড়া যাত্রী ওঠানামা করায়, অতিরিক্ত যাত্রী বহন করে, প্রতিযোগিতামূলক গতিতে গাড়ি চালায় অথবা ফিটনেস ও রুট পারমিট ছাড়া চলাচল করে—সেসব বাসের বিরুদ্ধেও নিয়মিত মামলা দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হলো ট্রাফিক আইন অমান্য করা। অতিরিক্ত গতি, রং সাইডে চলাচল, মোবাইল ফোন ব্যবহার করে গাড়ি চালানো, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো এবং অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে দুর্ঘটনা কমানোর চেষ্টা করছে ডিএমপি।

অভিযান চলাকালে চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস সনদ, ট্যাক্স টোকেন এবং বীমা সংক্রান্ত কাগজপত্রও যাচাই করা হয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকলে বা মেয়াদোত্তীর্ণ হলে মোটরযান আইনের আওতায় মামলা করা হচ্ছে।

ডিএমপি মোটরসাইকেল চালকদের হেলমেট ব্যবহার, গতিসীমা মেনে চলা এবং ট্রাফিক সিগন্যাল অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে চালক ও আরোহী—উভয়ের জন্য মানসম্মত হেলমেট ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারণ রাজধানীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার অন্যান্য যানবাহনের তুলনায় বেশি।

বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ট্রাফিক আইন ভঙ্গের ধরন অনুযায়ী জরিমানা, মামলা, ড্রাইভিং লাইসেন্সে ডিমেরিট পয়েন্ট, যানবাহন জব্দ এবং গুরুতর ক্ষেত্রে কারাদণ্ডেরও বিধান রয়েছে। তাই আইন মেনে চলা শুধু জরিমানা এড়ানোর জন্য নয়, নিজের ও অন্যের নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

ডিএমপি বলছে, শুধু পুলিশের অভিযান দিয়ে ট্রাফিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এজন্য চালক, যাত্রী এবং পথচারী—সবার সম্মিলিত সচেতনতা প্রয়োজন। নির্ধারিত জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার, ফুটওভার ব্রিজ দিয়ে রাস্তা পারাপার, সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশনা মেনে চললে রাজধানীর যানজট ও দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

ডিএমপি জানিয়েছে, রাজধানীতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে ভবিষ্যতেও নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে। বিশেষ করে উৎসব, সরকারি ছুটি, অফিস শুরু ও শেষের সময় এবং ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় অতিরিক্ত ট্রাফিক সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। এর মাধ্যমে রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং নাগরিকদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করাই ডিএমপির প্রধান লক্ষ্য।

জনপ্রিয় সংবাদ

নাদিমা মোহাম্মদীর ওপর হামলায় মহিলা পরিষদের ক্ষোভ

ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ডিএমপির ১৩৮৬ মামলা

Update Time : ১০:১০:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

রাজধানী ঢাকার সড়কে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (২০ জুলাই) মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের দায়ে ১ হাজার ৩৮৬টি মামলা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৩৯৪টি যানবাহন ডাম্পিং এবং ৩১৪টি যানবাহন রেকার করা হয়েছে।

ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) জানানো হয়, সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, সিএনজি অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের বিরুদ্ধে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ডিএমপির আটটি ট্রাফিক বিভাগে পরিচালিত অভিযানে সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগে, যেখানে মোট ২৯৯টি মামলা করা হয়। এরপর রয়েছে—

  1. ট্রাফিক-গুলশান বিভাগ – ২৫১টি মামলা
  2. ট্রাফিক-তেজগাঁও বিভাগ – ১৮০টি মামলা
  3. ট্রাফিক-উত্তরা বিভাগ – ১৭৪টি মামলা
  4. ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগ – ১৬৬টি মামলা
  5. ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগ – ১৫৩টি মামলা
  6. ট্রাফিক-লালবাগ বিভাগ – ৯৪টি মামলা
  7. ট্রাফিক-রমনা বিভাগ – ৬৯টি মামলা

ডিএমপি সূত্রে জানা যায়, অভিযানে বিভিন্ন ধরনের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—

  1. নির্ধারিত স্থানে না থামা বা যাত্রী ওঠানামা করানো
  2. উল্টো পথে (রং সাইড) যানবাহন চালানো
  3. ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা
  4. অতিরিক্ত গতি
  5. অবৈধ পার্কিং
  6. ফিটনেসবিহীন যানবাহন পরিচালনা
  7. লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া গাড়ি চালানো
  8. মোটরসাইকেলে হেলমেট ছাড়া চলাচল
  9. সিএনজির অনিয়মিত চলাচল ও নির্ধারিত রুট ভঙ্গ

অভিযানে ৩৯৪টি গাড়ি ডাম্পিং করা হয়েছে। অর্থাৎ যেসব যানবাহন সড়কে অবৈধভাবে পার্কিং করে যানজট সৃষ্টি করছিল বা আইন লঙ্ঘন করছিল, সেগুলো নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশনে সরিয়ে নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন  বাস টার্মিনাল স্থানান্তর: ৪ টার্মিনাল সরানোর গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

অর্থাৎ যেসব যানবাহন সড়কে অবৈধভাবে পার্কিং করে যানজট সৃষ্টি করছিল বা আইন লঙ্ঘন করছিল, সেগুলো নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশনে সরিয়ে নেওয়া হয়।অন্যদিকে ৩১৪টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে। রেকার বলতে বিশেষ টো-ট্রাকের মাধ্যমে আইন লঙ্ঘনকারী বা বিকল যানবাহনকে টেনে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে বোঝায়।

ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেল চালকদের বিরুদ্ধেই সবচেয়ে বেশি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হেলমেট ছাড়া চলাচল, লাইসেন্স না থাকা, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা এবং ফুটপাত বা উল্টো পথে চলার মতো অপরাধে বিপুল সংখ্যক মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

রাজধানীতে যানজট কমানো, দুর্ঘটনা হ্রাস এবং সড়কে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ সম্প্রতি নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। বিশেষ করে ব্যস্ত সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ মোড়, বাণিজ্যিক এলাকা এবং স্কুল-কলেজসংলগ্ন এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

ডিএমপি জানিয়েছে, ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং আইন অমান্যকারী চালক ও যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পুলিশ নাগরিকদেরও ট্রাফিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে উঠলে রাজধানীতে যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) বর্তমানে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা, স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল এবং ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহন শনাক্ত করা হচ্ছে। ট্রাফিক কন্ট্রোল সেন্টার থেকে সার্বক্ষণিক যান চলাচল পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী মাঠপর্যায়ের সদস্যদের নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

ডিএমপি সূত্র জানায়, গুলিস্তান, মতিঝিল, শাহবাগ, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, মহাখালী, গাবতলী, সায়েদাবাদ, বিমানবন্দর সড়ক, উত্তরা, মিরপুর, বাড্ডা, রামপুরা, কুড়িল বিশ্বরোড, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এবং গুলশান-বনানী এলাকার মতো ব্যস্ত সড়কগুলোতে নিয়মিত ট্রাফিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব এলাকায় প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করায় আইন লঙ্ঘনের ঘটনাও তুলনামূলক বেশি ঘটে।

অভিযানে শুধু ব্যক্তিগত যানবাহন নয়, বিভিন্ন গণপরিবহনের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যেসব বাস নির্ধারিত স্টপেজ ছাড়া যাত্রী ওঠানামা করায়, অতিরিক্ত যাত্রী বহন করে, প্রতিযোগিতামূলক গতিতে গাড়ি চালায় অথবা ফিটনেস ও রুট পারমিট ছাড়া চলাচল করে—সেসব বাসের বিরুদ্ধেও নিয়মিত মামলা দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হলো ট্রাফিক আইন অমান্য করা। অতিরিক্ত গতি, রং সাইডে চলাচল, মোবাইল ফোন ব্যবহার করে গাড়ি চালানো, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো এবং অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে দুর্ঘটনা কমানোর চেষ্টা করছে ডিএমপি।

অভিযান চলাকালে চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস সনদ, ট্যাক্স টোকেন এবং বীমা সংক্রান্ত কাগজপত্রও যাচাই করা হয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকলে বা মেয়াদোত্তীর্ণ হলে মোটরযান আইনের আওতায় মামলা করা হচ্ছে।

ডিএমপি মোটরসাইকেল চালকদের হেলমেট ব্যবহার, গতিসীমা মেনে চলা এবং ট্রাফিক সিগন্যাল অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে চালক ও আরোহী—উভয়ের জন্য মানসম্মত হেলমেট ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারণ রাজধানীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার অন্যান্য যানবাহনের তুলনায় বেশি।

বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ট্রাফিক আইন ভঙ্গের ধরন অনুযায়ী জরিমানা, মামলা, ড্রাইভিং লাইসেন্সে ডিমেরিট পয়েন্ট, যানবাহন জব্দ এবং গুরুতর ক্ষেত্রে কারাদণ্ডেরও বিধান রয়েছে। তাই আইন মেনে চলা শুধু জরিমানা এড়ানোর জন্য নয়, নিজের ও অন্যের নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

ডিএমপি বলছে, শুধু পুলিশের অভিযান দিয়ে ট্রাফিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এজন্য চালক, যাত্রী এবং পথচারী—সবার সম্মিলিত সচেতনতা প্রয়োজন। নির্ধারিত জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার, ফুটওভার ব্রিজ দিয়ে রাস্তা পারাপার, সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশনা মেনে চললে রাজধানীর যানজট ও দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

ডিএমপি জানিয়েছে, রাজধানীতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে ভবিষ্যতেও নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে। বিশেষ করে উৎসব, সরকারি ছুটি, অফিস শুরু ও শেষের সময় এবং ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় অতিরিক্ত ট্রাফিক সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। এর মাধ্যমে রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং নাগরিকদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করাই ডিএমপির প্রধান লক্ষ্য।