হেভেন মাইক্রোস্কুল ঢাকার বারিধারার একটি অভিজাত হোটেলে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে তাদের দ্বিতীয় বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন সম্পন্ন করেছে। প্রচলিত মুখস্থ ও প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষাব্যবস্থার বাইরে গিয়ে স্নায়ুবৈচিত্র্যসম্পন্ন (নিউরোডাইভারজেন্ট) শিশুদের জন্য একটি সংবেদনশীল ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলেছে এই বিশেষায়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি। এবারের আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘নিউরোডাইভার্স ভয়েসেস অব টুমরো’, যা উপস্থিত সকল অতিথির মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই বিশেষায়িত শিক্ষালয় নিয়ে একটি চমৎকার তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়, যেখানে প্রতিষ্ঠানটির মূল দর্শন ও আদর্শ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। স্কুলটির প্রধান আঞ্জুমান পারভীন তাঁর বক্তব্যে বলেন, প্রতিটি শিশুর শেখার ধরন, আগ্রহ এবং বিকাশের গতি সম্পূর্ণ আলাদা ও অনন্য। বাংলাদেশে এই বিশেষ শিশুদের উপযোগী একটি নিরাপদ, গ্রহণযোগ্য এবং ধারাবাহিক সহায়তাপূর্ণ শিক্ষাবন্ধব পরিবেশ তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।
সাংস্কৃতিক পর্বে স্কুলের প্রতিভাবান শিক্ষার্থী আহনাফ দারুণ সংগীত পরিবেশন করে উপস্থিত দর্শক ও বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী নকীব খানকে গভীরভাবে মুগ্ধ করেছে। একই সাথে অনুষ্ঠানস্থলে অপর এক শিক্ষার্থীর তোলা অসাধারণ কিছু আলোকচিত্রের প্রদর্শনী করা হয়, যা দেখে বিশিষ্ট আলোকচিত্রী নাসির আলী মামুন ভূয়সী প্রশংসা করেন। বিশেষ শিশুদের এই অর্জনকে কেবল প্রচলিত পুরস্কারের ফ্রেমে না বেঁধে সামাজিকভাবে মূল্যায়নের আহ্বান জানান অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান এক শিক্ষার্থীর নির্মিত ভিডিওচিত্র দেখে তাকে পুরস্কৃত করেন এবং এই উদ্যোগকে বড় সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে আম্মার নামের এক শিক্ষার্থীর সাবান বানানোর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে হেভেন মাইক্রোস্কুল বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে। আম্মারের নিজের হাতে তৈরি সুগন্ধি সাবান উপহার হিসেবে পেয়ে নারী উদ্যোক্তা আফরোজা পারভীন তার মেধার দারুণ প্রশংসা করেন।
স্যার জন উইলসন স্কুলের সম্মানিত অধ্যক্ষ সাবরিনা শহীদ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বলেন, একটি বিশেষ শিশুকে পরিপূর্ণভাবে বড় করতে আসলে পুরো সমাজের সম্মিলিত সহযোগিতার প্রয়োজন হয়। আম্মারের মা তানিম লাইলা তাঁর সন্তানের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে বাংলাদেশ অটিজম ফোরাম এর মতো পাশে থাকায় স্কুলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান। প্রতিটি পর্বেই শিশুদের বহুমাত্রিক সৃজনশীলতা, আত্মপ্রকাশ ও ব্যক্তিগত আত্মবিশ্বাস বিকাশের এক চমৎকার মেলবন্ধন স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছিল।
সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে হেভেন মাইক্রোস্কুল এর এই বৈপ্লবিক ও সংবেদনশীল শিক্ষাপদ্ধতি সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। শিশুদের ওপর জোর করে কোনো কিছু চাপিয়ে না দিয়ে তাদের নিজস্ব গতিতে বিকশিত হতে দেওয়াই এই প্রতিষ্ঠানের মূল সফলতা। আগামী দিনে এই ধরনের বিশেষায়িত স্কুল আমাদের দেশের প্রতিটি নিউরোডাইভারজেন্ট শিশুর ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল ও স্বাবলম্বী করতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবে।





























